kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

একসঙ্গে আত্মহত্যা নবদম্পতির

স্বজনরা প্রেম-বিয়ে মেনে না নেওয়ায় এ ঘটনা!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুন, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোবাইল ফোনে পরিচয় প্রেমে গড়ায় শাহীনুল ইসলাম ও রুবির। রুবির মা-বাবা বেঁচে নেই। অভিভাবক ভাই-বোনরা তাঁদের এই প্রেম মেনে নেননি। একপর্যায়ে শাহীনের হাত ধরে ঘর ছাড়েন রুবি। আশ্রয় নেন তাঁরা শাহীনের বোনের বাসায়। সেখানেও বিপত্তি দেখা দেয়। প্রেমিকযুগল জানান, তাঁরা বিয়ে করেছেন। কিন্তু ওই বিয়েও মেনে নেননি শাহীনের বোন-ভগ্নিপতি। আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হয় তাঁদের। এর পরও দুপক্ষের স্বজনরা তা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়নি। এভাবেই চলে মাত্র চার দিনের সংসার। গতকাল রবিবার সবার অজান্তেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তাঁরা। একই সঙ্গে ঘরের একই ফ্যানের হুকে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন দুজন। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর বাড্ডা থানার আনন্দনগরে।

গতকাল দুপুরে ঘরের দরজা ভেঙে শাহীনুল ইসলাম (২০) ও তাঁর স্ত্রী রুবির (১৮) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনরা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করছে। তবে এই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছুই বলতে পারছে না।

বাড্ডা থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, 'ওই দম্পতির বিয়ে পরিবারের কেউ মেনে না নেওয়ায় তাঁরা অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারে সদস্যরা এর বাইরে কোনো কারণ জানাতে পারেনি।'

তবে শাহীনের বোন কাজলী কেঁদে বলেন, 'আমরা ওদের বিয়ে মেনি নিয়েছি। জানি না কেন ওরা এমন কাজ করল।'

লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনকারী বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান জানান, গতকাল দুপুর ১টার দিকে পূর্ব বাড্ডার আনন্দনগর কৃষি ব্যাংক রোডের ১৮০৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের আধাপাকা বাড়ির একটি কক্ষ থেকে নবদম্পতির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝোলানো ফ্যানের রডে দুটি ওড়না বেঁধে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাঁদের লাশ ঝুলছিল। দরজা ভেঙে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। গত বুধবার এই দম্পতি ওই বাসায় ওঠেন। শাহীন ও রুবির কক্ষের পাশের কক্ষে শাহীনের বড় বোন ও তাঁর স্বামী থাকেন।

এসআই কামরুল হাসান আরো জানান, রুবির বাবার নাম মহিউদ্দিন। তাঁর বাড়ি মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার লক্ষ্মীপুর বেপারীপাড়া গ্রামে। শাহীনের বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটা থানার দুর্বাপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আবুল কাসেম। শাহীন একটি ফার্নিচার কারখানায় কাজ করতেন।

বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল ফারুক জানান, রুবির সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয় শাহীনের। এরপর শাহীন মাদারীপুরে চলে যান। রুবির মা-বাবা বেঁচে নেই।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা