kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

রৌমারীতে বাড়িতে ঢুকে স্কুলছাত্রীকে জবাই

ধর্ষণেরও অভিযোগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

১৫ জুন, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রৌমারীতে বাড়িতে ঢুকে স্কুলছাত্রীকে জবাই

আর্জিনা খাতুনের স্বজনদের আর্তনাদ। ইনসেটে আর্জিনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আর্জিনা খাতুন (১৬) নামের এক স্কুলছাত্রীকে জবাই করা হয়েছে। নিজ বাড়িতে হত্যার আগে আর্জিনা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুরে এ ঘটনার পর গ্রামবাসীর ধাওয়ার মুখে আইয়ুব আলী (২২) নামের এক যুবক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। অভিযুক্ত আরেক যুবক নাসির উদ্দিনকে (২২) আটক করেছে পুলিশ।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, আর্জিনাকে খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিনজনের নাম পাওয়া গেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে, পলাতক আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। যারা এ খুনের সঙ্গে জড়িত তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

আর্জিনাকে গ্রামের বখাটে যুবক আইয়ুব আলী উত্ত্যক্ত করত জানিয়ে স্কুলছাত্রীর মা সাজেদা বেগম বলেন, 'ওই আইয়ুব আলী মেলা দিন থিকা আমার মাইয়াকে বিরক্ত করে আসছিল। আর এ কারণে মাইয়ার বিয়া দিবার চাইছিলাম। কিন্তু শয়তানরা তাকে বাঁচতে দিল না। আমি খুনিদের ফাঁসি চাই।'

পরিবার ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী গ্রামের মৃত আব্দুল হাই আকন্দের মেয়ে আর্জিনা খাতুন এ বছর এসএসসি পাস করেছে। পাশের গ্রাম চেংটাপাড়ার আব্দুল বাতেনের ছেলে আইয়ুব আলী দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। সম্প্রতি আর্জিনার বিয়ে ঠিক হলে আইয়ুব ক্ষিপ্ত হয়ে নানা কথা বলে বেড়াচ্ছিল। হুমকিতে কাজ না হওয়ায় তার নেতৃত্বে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে অনেকের ধারণা।

গ্রামবাসী জানায়, গতকাল দুপুরে আর্জিনা ছাড়া বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নেয় অপরাধীরা। বখাটে যুবকরা কৌশলে তাকে রান্নাঘরে ডেকে নেয়। এরপর সেখানে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে কিছু আলামত মিলেছে। একপর্যায়ে তারা আর্জিনাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে পালানোর চেষ্টা করে। ওই বাড়িতে 'অস্বাভাবিক' কিছু ঘটছে অনুমান করে কয়েকজন গ্রামবাসী উপস্থিত হলে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে তিন যুবক দৌড় শুরু করে। এর মধ্যে একজন রাস্তায় পড়ে যায় এবং পরে চিকিৎসকরা জানান হৃদরোগে আইয়ুব আলীর মৃত্যু হয়েছে।

রৌমারী থানার পুলিশ বিকেলে আর্জিনা খাতুনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। আইয়ুব আলীর মৃত্যুর কারণ জানতে তার লাশও ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের দাবি, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এতে বাধা পেয়ে আর্জিনাকে হত্যা করা হতে পারে। নাসির উদ্দিন নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হতে পারে বলে ধারণা করছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা