kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

নির্যাতিত নারী ও শিশুর পরম আশ্রয় ওসিসি

দেড় যুগে ৫০ হাজারের বেশি ভুক্তভোগী চিকিৎসা নিয়েছে

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১৫ জুন, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সারা দেশ থেকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচজন নারী ও শিশু ধর্ষণ কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিতে আসে। এ হিসাবে মাসে শতাধিক নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়। প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) অর্ধলক্ষাধিক নারী ও শিশু চিকিৎসা নিয়েছে।

ওসিসির সমন্বয়কারী ডা. বিলকিস বেগম এ তথ্য দেন। তিনি জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচজন, কোনো কোনো দিন সাতজন নির্যাতিত নারী ও শিশু ওসিসিতে চিকিৎসা নিতে আসছে। তাদের আর্তনাদে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে; খুব খারাপ লাগে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এটা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। দিনে দিনে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নারী নির্যাতন প্রতিরোধবিষয়ক মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের আওতায় ২০০১ সালের ১৯ আগস্ট ওসিসির যাত্রা শুরু। গত ৩০ এপ্রিল ৫৩ হাজার ২৫৯ জন নারী ও শিশু ওসিসিতে এসেছে চিকিৎসা নিতে। তাদের বেশির ভাগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, সরকার নারীর নিরাপত্তার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা সরকার থেকে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ওসিসিতে গিয়ে কথা হয় চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, চিকিৎসাধীন বেশির ভাগ ব্যক্তির মানসিক যন্ত্রণার কারণে ঠিকমতো ঘুম হয় না। চিকিৎসা দিয়ে তাদের শরীরের ক্ষত দূর করা যায়, কিন্তু মনের ক্ষত দূর করা কঠিন। তবে তাদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই ওসিসির।

ওসিসি সূত্র জানায়, গত মে মাসের ২০টি ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে নির্যাতনের শিকার ২০ জনই শিশু। ধর্ষণের শিকার হয়ে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, সংখ্যালঘু, বিধবা, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীরা আসছে; দলিত জনগোষ্ঠীর নারীরা আসছে ওসিসিতে। কখনো কখনো ভুক্তভোগী এই নারী ও শিশুকে জায়গা দেওয়া সম্ভব হয় না ওসিসিতে। তখন আউটডোর-ইনডোরে তাদের সেবা দিতে হয়।

ওসিসির মাধ্যমে বিভিন্ন আইন-সহায়তা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আইনি সুবিধা পেয়েছেন অনেকে। ওসিসিতে চিকিৎসাসহ সব কিছু বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। অসহায় নারীদের টেকনিক্যাল বিষয়ে ট্রেনিং দিয়ে স্বাবলম্বী করতেও বিশেষ ভূমিকা রাখছে ওসিসি। শিশুদের জন্যও লজিস্টিক সাপোর্টের ব্যবস্থা রয়েছে। বিনা মূল্যে তাদের বই-খাতা দেয় সরকার। নির্যাতিত নারী ও শিশুদের যথাযথ সেবা দেওয়া হয় বলে জানান ডা. বিলকিস।

সূত্র জানায়, আইনগত বিষয় দেখভাল করার জন্য ওসিসির নিজস্ব পুলিশি ব্যবস্থা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ঢাকার ওসিসি মডেল হিসেবে কাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে বিদেশিরা এসে সেখানকার কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ওসিসিতে নিয়োজিত পুলিশের এসআই হুমায়ন কবির বলেন, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের সেবায় পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধবিষয়ক মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের আওতায় চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওসিসির শাখাগুলোতেও নির্যাতিত নারী ও শিশুরা চিকিৎসা নেয়।

ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার : ঢাকায় এ নামে নারী পুলিশ পরিচালিত আরো একটি সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানেও নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা এবং অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে বর্তমানে ২০ জন নারী ও শিশু রয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা