kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

১১ কলেজকে কারণ দর্শাও নজরদারিতে আরো ১২

একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রতারণা

শরীফুল আলম সুমন   

১৫ জুন, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর রাজধানীর ১২টি কলেজকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ও যশোর বোর্ডের ১১টি কলেজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে কলেজগুলোর কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ঢাকা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়ার শেষ সময়ে এসে প্রতারণার অভিযোগ আরো বেশি আসছে। গতকাল রবিবার ঢাকা বোর্ডে এ সংখ্যা ২০০। এর আগে ৯ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত তিন দিনে পাওয়া গেছে ৪১৮টি অভিযোগ। আর সারা দেশে এই অভিযোগের সংখ্যা গতকাল পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার।

জানতে চাইলে ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. আশফাকুস সালেহীন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ইতিমধ্যে আমরা চারটি কলেজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাব তিন দিনের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।'

আশফাকুস সালেহীন জানান, আরো প্রায় ১০ থেকে ১২টি কলেজ বোর্ডের নজরদারিতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নিশ্চিত হলেই দু-এক দিনের মধ্যে এসব কলেজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় গত ৬ জুন। ১৮ জুন পর্যন্ত এটা চলবে। কিন্তু শুরুর এক দিন পর থেকেই অভিযোগ আসতে শুরু করে, শিক্ষার্থীদের অজান্তে অন্য কেউ অনেকেরই আবেদন ফরম পূরণ করে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে ঢুকলে তাদের আবেদন ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে বলে দেখানো হচ্ছে। আর ওই আবেদনে যেসব কলেজ পছন্দ দেওয়া হয়েছে তার একটিও শিক্ষার্থীদের পছন্দ নয়। এতে শিক্ষার্থীদের উৎকণ্ঠার সঙ্গে চরম ভোগান্তিও পোহাতে হয়।

ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য আগে রোল নম্বর, বোর্ডের নাম ও পাসের সাল লাগলেও নিরাপত্তা বাড়াতে গত ১০ জুন থেকে রেজিস্ট্রেশন নম্বরও যোগ করা হয়। কিন্তু তাতেও থামানো যাচ্ছে না প্রতারণা।

এই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর ঢাকা ও যশোর বোর্ডের ১১টি কলেজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এসব কলেজের মধ্যে ঢাকা বোর্ডের চারটি হলো রাজধানীর দক্ষিণখানের মোল্লারটেক উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নারায়ণগঞ্জের আমলাপাড়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টঙ্গির সাহাজ উদ্দিন সরকারি মডেল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল ও টঙ্গি কলেজ। আর যশোর বোর্ডের সাতটি কলেজ হলো যশোরের চৌগাছা ডিগ্রি কলেজ, চৌগাছার এ. বি. সি. ডি. কলেজ, চৌগাছার জিসিবি কলেজ, চৌগাছার মৃধাপাড়া মহিলা কলেজ, খুলনার পাইকগাছার লক্ষ্মীখোলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাগুরার শালিখার আড়পাড়া কলেজ ও যশোর চৌগাছার আমজামতলা কলেজ।

নোটিশে কলেজগুলোর পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি কেন বাতিল করা হবে না, এমপিও বাতিলের জন্য কেন সুপারিশ করা হবে না এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া একই অভিযোগ পাওয়ায় রাজধানীর ১২টি কলেজকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব কলেজের মধ্যে যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও বারিধারার কয়েকটি স্বনামধন্য কলেজেরও নাম রয়েছে বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশ না করে ঢাকা বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, মূলত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থেকেই কিছু কলেজের ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের না জানিয়েই যেসব আবেদন হয়ে যাচ্ছে সেগুলোর মধ্যে প্রথম পছন্দের কলেজগুলোর আবেদন একই সঙ্গে করা হচ্ছে। যখন দেখা যাচ্ছে একই কলেজের নামে অনেক আবেদন তখন তাদের পুরোপুরি সন্দেহের তালিকায় নেওয়া হচ্ছে। এরপর অভিযোগকারী ওই সব শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা ও বোর্ডের পক্ষ থেকে সরেজমিন খোঁজ-খবর নিয়েই প্রতারণা করা কলেজগুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

ঢাকা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০৬টি অভিযোগ পেয়েছে। এরপর পাওয়া গেছে ১০ জুন ১২৬টি, ১১ জুন ১৮৬টি অভিযোগ। গতকাল পর্যন্ত ঢাকা বোর্ডে আসা অভিযোগের সংখ্যা প্রায় ৬১৮টি। আর সারা দেশের সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ড মিলিয়ে ১০টি বোর্ডে এই ধরনের অভিযোগের সংখ্যা গতকাল পর্যন্ত প্রায় তিন হাজারে দাঁড়িয়েছে।

গতকাল ঢাকা বোর্ডে সরেজমিনে অবস্থান করে দেখা গেছে, কলেজ পরিদর্শক ও উপ-কলেজ পরিদর্শকের কার্যালয়ের সামনে অভিযোগ হাতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই তাদের অজান্তে ভর্তির আবেদন করা হয়ে গেছে বলে অভিযোগ নিয়ে এসেছে। এ ছাড়া অনলাইনে আবেদন শেষ করে টেলিটকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধে সমস্যা, টাকা পাঠানো হলেও ফিরতি বার্তা না পাওয়াসহ অন্য আরো কিছু সমস্যা নিয়েও এসেছে কয়েকজন।

জানতে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বক্কর ছিদ্দিক কালের কণ্ঠকে বলেন, 'যেসব কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে তাদের ধরতে আমরা তৎপর রয়েছি। আর শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করে দেওয়া হচ্ছে। এখন আমরা কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবের অপেক্ষায় আছি।'

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা