kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

খেলতে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর লাশ মিলল ১২ ঘণ্টা পর

সহপাঠীসহ পাঁচ কিশোর আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খেলতে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর লাশ মিলল ১২ ঘণ্টা পর

সাজেদুর রহমান

কথা ছিল খেলা শেষে দুপুরে বাড়ি ফিরে মায়ের হাতে খাবার খাবে মাদ্রাসাছাত্র সাজেদুর রহমান সিপাই সাজিদ (১১)। একমাত্র ছেলের জন্য প্রিয় খাবার রান্না করে বাসায় অপেক্ষা করছিলেন মা শাহিদা আক্তার। কিন্তু ছেলের আর ফেরা হয়নি। খাওয়া হয়নি মায়ের হাতে ভাতও। ১২ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির পাশে নির্মাণাধীন একটি বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় সাজিদের লাশ। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে লাশ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও সহপাঠীরা ভিড় জমায় বাড়িতে।

সাজিদ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর এলাকার ব্যবসায়ী হাজি নাসির উদ্দিন সিপাইয়ের একমাত্র ছেলে এবং স্থানীয় তাকবিহ-তুল-ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সাজিদের সহপাঠীসহ পাঁচ কিশোরকে আটক করে জয়দেবপুর থানা পুলিশ। আটক কিশোররা হলো সাজিদের সহপাঠী জাকির হোসেন (১২), পাপ্পু সিপাই (১৫), শাকিব খান (১৪), জুয়েল হোসেন (১৫) ও সজিব মিয়া (১২)।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, বুধবার সকাল ১১টার দিকে সহপাঠী ও প্রতিবেশী জাকির হোসেন খেলার করার কথা বলে সাজিদকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার পরও সাজিদ বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাজিদের বাবার মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তি কল করে জানায়, সাজিদকে অপহরণ করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি মুক্তিপণ হিসেবে এক ঘণ্টার মধ্যে ৪০ লাখ টাকা দাবি করে। পরে সাজিদের বাবা বিষয়টি জয়দেবপুর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। ওই সময় আত্মীয়রা জানতে পারে সাজিদের সহপাঠী জাকির ভেজা কাপড় গায়ে নিয়ে এক আত্মীয়ের সঙ্গে ফেনী চলে যাচ্ছে। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে স্বীকার করে, সাজিদকে নির্মাণাধীন বাড়িতে আটক রাখা হয়েছে। দ্রুত ওই বাড়িতে গিয়ে টয়লেট তৈরির স্ল্যাব থেকে সাজিদকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে জাকিরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে আরো চার কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আটক সবাই প্রতিবেশী।

জয়দেবপুর থানার ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, আটক পাঁচ কিশোরসহ মোট ছয়জন মিলে প্রথমে সাজিদকে ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ায়। অচেতন হলে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যার পর লাশ ওই 'কুয়ায়' ফেলেছে বলে তারা স্বীকার করেছে। জড়িত আরেক কিশোরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কী কারণে সাজিদকে হত্যা করছে সে বিষয়ে তারা মুখ খুলছে না।

স্থানীয় লোকজন জানায়, সাজিদের বাবা হাজি নাসির উদ্দিন সিপাই (৫০) এলাকায় পরোপকারী ও দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর দুই মেয়ে, এক ছেলের মধ্যে সবার ছোট ছিল সাজিদ। বড় মেয়ে নওশীন শর্মেলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ তৃতীয় বর্ষের এবং আরেক মেয়ে নুসরাত জাহান ঐশী স্থানীয় মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

গতকাল দুপুরে শরীফপুরে সাজিদের বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, ছেলের শোকে শয্যা নিয়েছেন বাবা হাজি নাসির সিপাই। তিনি বলেন, 'ক্রিকেট খেলার প্রতি খুব ঝোঁক ছিল সাজিদের। ক্রিকেট খেলার কথা বলে সহপাঠী জাকির তাকে বুধবার সকালে ডেকে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে। টাকা না পেলে সাজিদকে কেটে টুকরো টুকরো করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।'