kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

সংস্কৃতি সংবাদ

কাইয়ুম চৌধুরীর চিত্রকলায় দেশের আত্মা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাইয়ুম চৌধুরীর চিত্রকলায় দেশের আত্মা

কাইয়ুম চৌধুরী ছিলেন এক শুদ্ধ শিল্পী। ক্রমাগত তিনি নিজেকে আবিষ্কার ও অতিক্রম করেছেন। তাঁর চিত্রকলা এবং প্রচ্ছদশিল্পে যেন বাংলাদেশের আত্মা ফুটে ওঠে-সদ্য প্রয়াত বরেণ্য চিত্রশিল্পী, বাংলা একাডেমির ফেলো কাইয়ুম চৌধুরী স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এ শোকসভা হয়। এতে শুরুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে প্রয়াত শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শোকসভায় বাবার সম্পর্কে মইনুল ইসলাম জাবের বলেন, নিজের শিল্প সৃষ্টিকে তিনি সাধনা জ্ঞান করতেন। তিনি পিতা ও শিল্পীর ভূমিকা ছাপিয়ে একজন ইনস্টিটিউট হয়ে উঠেছিলেন।

শামসুজ্জামান খান বলেন, 'চিত্রকলার উদ্ভাবনময়তা, শিল্প সংগঠন শক্তি ও নান্দনিক ভাবনায় কাইয়ুম চৌধুরী পরিণত হয়েছিলেন আমাদের সাংস্কৃতিক রুচির এক অনন্য নির্মাতায়।'

সৈয়দ শামসুল হক বলেন, জয়নুলের মানবিক অঙ্গীকার, কামরুলের রূপময় বাংলার বোধ কাইয়ুম চৌধুরী চিত্রকর্মে উত্তরাধিকার হিসেবে বহন করেছেন। প্রচ্ছদপটে তাঁর অসাধারণত্ব সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তুলনীয়। বাংলাদেশের চিত্রকলায় জয়নুল, কামরুল ও এস এম সুলতানের পরেই তাঁর স্থান।

আনিসুজ্জামান বলেন, কাইয়ুম চৌধুরীর প্রচ্ছদপটে নিজস্বতা ও মৌলিকত্ব ছিল লক্ষণীয়। রঙের সমারোহ, বিন্যাসের অনন্যতা তাঁকে চিত্রশিল্পী হিসেবে বিশিষ্টতা দান করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর বলেন, 'কাইয়ুম চৌধুরী আমাদের আধুনিক চিত্রকলার পরিসর বৃদ্ধি করেছেন।

আরো স্মৃতিচারণা করেন চিত্রশিল্পী হাশেম খান, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, গবেষক মোনায়েম সরকার প্রমুখ। কাইয়ুম চৌধুরীর চিত্রকর্ম নিয়ে মূল্যায়নমূলক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন 'কালি ও কলম' সম্পাদক আবুল হাসনাত।

কাইয়ুম চৌধুরীর প্রচ্ছদ করা চার শতাধিক বই, পোস্টার ও আনুষঙ্গিক শিল্পকর্মের এক প্রদর্শনীও শুরু হয়েছে। প্রদর্শনীটি আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী : গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের যৌথ উদ্যোগে গতকাল গণগ্রন্থাগার চত্বরে শুরু হয়েছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী। উৎসবে প্রদর্শিত হবে স্টপ জেনোসাইড, আলোর মিছিল, ঢাকা স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ, আগুনের পরশমণি, স্বাধীন বাংলায় ফিরে এলেন বঙ্গবন্ধু, গেরিলা, এ স্টেট ইজ বর্ন, আমার জন্মভূমি, মুক্তির গান ও ওরা ১১ জন। গতকাল গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সভাকক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে এই উৎসব উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।

 



সাতদিনের সেরা