kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩ আষাঢ় ১৪২৮। ১৭ জুন ২০২১। ৫ জিলকদ ১৪৪২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গবেষণাপত্র জালিয়াতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, রাজশাহী   

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফলিত গণিত বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির পরীক্ষার ফলপ্রার্থী এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গবেষণাপত্র (থিসিস) জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম রফিকুল ইসলাম। তিনি ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলে বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান খান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, এমএসসি-১২ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর 'স্টাডি অন হিট অ্যান্ড ম্যাস ট্রান্সফার অব ন্যানোফ্লুইড' শীর্ষক গবেষণাপত্রের সঙ্গে দেশি-বিদেশি বেশ কিছু গবেষণাপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত 'আমেরিকান কেমিক্যাল সায়েন্স' জার্নাল থেকে গবেষণাপত্রের দ্বিতীয় অধ্যায়টি নেওয়া। বাকি অধ্যায়গুলোও অন্য জার্নাল থেকে হুবহু কপি করা হয়েছে। তবে গবেষণাপত্রের তথ্য সূত্র হিসেবে ওই জার্নালগুলোর নাম রাখা হয়নি।

ওই অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, গবেষণাপত্র জালিয়াতির বিষয়টি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষকের (পরীক্ষক) কাছে ধরা পড়ায় বিভাগের শিক্ষক ও গবেষণাপত্রের তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক শামসুল আলম সরকার নিজে গিয়ে তাঁর কাছে তদবির করে ওই শিক্ষার্থীর নম্বরপত্র হাতে হাতে নিয়ে আসেন। ওই তত্ত্বাবধায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হিসেবে পরিচিত সাদা দলের আহ্বায়ক। বিভাগের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, ওই শিক্ষার্থী ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের ওপর শিবিরের হামলার ঘটনায় বেশ কিছুদিন জেল খাটেন। তিনি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং ঢাকার বেসরকারি মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক শামসুল আলম সরকার কালের কণ্ঠের কাছে দাবি করেন, গবেষণাপত্র জালিয়াতির বিষয়টি সঠিক নয়।

গবেষক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, 'তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশনা অনুসারে দায়িত্ব পালন করেছি। গবেষণাপত্রে কোনো ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি। কিছু ব্যক্তি মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।' যোগাযোগ করা হলে বিভাগের সভাপতি ড. আব্দুল হক বলেন, 'ওই অভিযোগের একটি অনুলিপি পেয়েছি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ভালো বলতে পারবেন।'

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫৬তম সিন্ডিকেট সভায় সংগীত বিভাগের এক শিক্ষকের গবেষণাকর্ম নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার দায়ে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কৃষ্ণপদ মণ্ডলের ১০ বছরের শাস্তি দেওয়া হয়। এ সময়কালে ওই শিক্ষকের পদোন্নতি বন্ধ রাখার পাশাপাশি তিনি পরীক্ষাসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 



সাতদিনের সেরা