kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

আইএমইডির প্রতিবেদন

২১ জেলার বিদ্যুৎ বিতরণে আধুনিকায়ন ঢিমেতালে

বিদ্যুৎ উৎপাদনে অগ্রগতি হলেও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নতি নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২১ জেলার বিদ্যুৎ বিতরণে আধুনিকায়ন ঢিমেতালে

দেশে গত পাঁচ বছরে বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় চার হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু সে অনুপাতে বিতরণ ব্যবস্থার ততটা উন্নয়ন হয়নি। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন না হওয়ায় গত ১ নভেম্বর দেশব্যাপী বিদ্যুতের মহাবিপর্যয় ঘটেছিল বলে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে ঢিমেতালে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১১ সালে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার বিদ্যমান সাবস্টেশন, ট্রান্সফরমার আধুনিকায়ন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ শুরু হলেও এখনো তা শেষ হয়নি। অথচ গত বছর এসব কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখনো ২৫ শতাংশ কাজ অবশিষ্ট রয়েছে। বাকি কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আইএমইডির কর্মকর্তারা বলছেন, এটির মেয়াদ আবারও বাড়ানো হতে পারে। সেই সঙ্গে ব্যয়ও।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিভাগের পাঁচ জেলা, খুলনা বিভাগের ১০ জেলা এবং বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার বিতরণ অবকাঠামো মেরামত ও সংস্কারের জন্য ২০১১ সালে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এর মধ্যে এক হাজার ১০০টি বিতরণ ট্রান্সফরমার স্থাপন, ১০টি ৩৩/১১ কেভি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ ও সাতটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র পুনর্বাসনের কাজ করার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত ট্রান্সফরমার ও উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণের কাজও চলমান।

জানা যায়, ২১ জেলার বিদ্যুৎ বিতরণ প্রকল্পের সর্বশেষ বাস্তবায়ন অগ্রগতি দেখতে গত মাসে দেশের বিভিন্ন জেলা পরিদর্শনে যায় আইএমইডির একটি প্রতিনিধিদল। সপ্তাহব্যাপী প্রকল্প এলাকা ঘুরে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করে তা বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠিয়েছে আইএমইডি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মংলায় যেখানে উপকেন্দ্র নির্মাণের কথা রয়েছে, সেখানে এখন পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণের কাজই শেষ হয়নি। মহেশপুরেও একই অবস্থা। হাট গোপালপুরে ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া গোয়ালন্দেও ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ চলছে। এখনো তা শেষ হয়নি। রাজবাড়ীতে ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলমান। নির্ধারিত মেয়াদে এসব উপকেন্দ্র ও ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ শেষ করতে না পারার বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে আইএমইডি। সেগুলো হলো-জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি; দ্বিতীয়ত, নির্মাণসামগ্রী কেনা বাবদ প্রাক্কলিত যে ব্যয় ধরা হয়েছিল, তা বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম ছিল। পরে তা সংশোধন করে বাড়ানো হয়েছে; তৃতীয়ত, মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সামনে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। এসব কারণে নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইএমইডি বলছে, এই প্রকল্প বিলম্বিত হওয়ার পেছনে ঘন ঘন প্রকল্প পরিচালক বদলিও অন্যতম কারণ ছিল। গত তিন বছরে চারজন প্রকল্প পরিচালক বদলি করা হয়েছে। এ জন্য প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়েছে। পিডি পরিবর্তনের সময় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি।