kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

অবরোধে সহিংসতার শিকার

প্রাণে বাঁচলেও পরবর্তী চিকিৎসার কী হবে!

তৌফিক মারুফ    

৩ ডিসেম্বর, ২০১৩ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রাণে বাঁচলেও পরবর্তী চিকিৎসার কী হবে!

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন বরিশালে অবরোধকারীদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ মিশুকচালক সুলতান; ইনসেটে কান্নারত বোন নারগিস। ডানে ফেনীতে অগ্নিদগ্ধ পিকআপচালক নয়ন। ছবি : কালের কণ্ঠ

হিংস্র রাজনীতির বোমা আর আগুনে পুড়েও প্রাণে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো আরেক নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি। ভবিষ্যৎ চিকিৎসার কী হবে- এই দুশ্চিন্তা তাদের পিছু ছাড়ছে না। সরকারের তরফ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি থাকলেও তা যে পুরোপুরি সুস্থতা লাভের পথে প্রাথমিক ধাপ- এই বাস্তবতা তারা জানে। আর জানে বলেই এমন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৩৫ জনের (গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত)। যদিও এর মধ্যে চার-পাঁচজনের অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রবিবার বার্ন ইউনিটে রোগীদের দেখতে এসে প্রয়োজনীয় সব বিদেশি ওষুধের দাম নিজ তহবিল থেকে দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি চিকিৎসাধীন সবাইকে ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী ঘুরে যাওয়ার পরের দিন গতকাল সোমবার বিকেলে অগ্নিদগ্ধ গাড়িচালক রাজ্জাকের স্বজন মনির বার্ন ওয়ার্ডের নিচে করিডরে দাঁড়িয়ে মোবাইলে কাকে যেন বলছিলেন, ‘হাসপাতালে তো সরকারি খরচে চিকিৎসা অইতাছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও সাহায্য দিয়া গ্যাছেন। কিন্তু এহানতন ছাড়ার পরও তো অনেক দিন চিকিৎসা চালাইতে অইবো। হেইডা কেমতে চলতো? হেসুমকার খরচ কেডায় দিবো?’
তাঁর এমন কথা শুনে পাশের আরেক অগ্নিদগ্ধের স্বজন বলে ওঠেন, ‘ক্যান, যাগো লাইগ্যা আমগো আইজকা এমুন দশা অইছে হেগোই সবটা দিতে অইবো।’
দোতলায় আইসিইউর সামনে অপেক্ষমাণ আরাফাত নামের এক স্বজন বলেন, ‘শাহবাগে গাড়ির আগুনে আমার চাচাতো ভাইটা পুড়েছে। এখন সে শঙ্কামুক্ত হলেও ডাক্তাররা বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। আর অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা যে কতটা ব্যয়বহুল, তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমার রোগীর আর্থিক অবস্থা যা তাতে হাসপাতাল থেকে যাওয়ার পরবর্তী চিকিৎসা চালানো দায় হয়ে পড়বে।’
বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রথম ধাপে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সময় সাধারণত রোগীদের যত দিন প্রয়োজন হাসপাতালে রাখা হয়। তবে ছেড়ে দেওয়ার পরও এসব রোগীকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার মাধ্যমে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলে, যা খুবই ব্যয়বহুল।
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, হাসপাতাল-বহির্ভূত চিকিৎসার ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই রোগীদের নিজেদের সামাল দিতে হয়। ফলে দরিদ্র রোগীদের ক্ষেত্রে এই ব্যয় সংকুলান কঠিন হয়ে পড়ে।
বার্ন ইউনিট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক হরতাল-অবরোধে বোমা আর অগ্নিসংযোগের শিকার হয়ে মোট ৫২ জন এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিল ৩৫ জন। বাকিদের কেউ কেউ অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর হয়েছে; আবার কেউ কেউ মোটামুটি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আট দিন অইছে হাসপাতালে আছি। চিকিৎসা, খাওয়া-দাওয়া সবই পাইতাছি। কিন্তু কিছু বেহিসাবি খরচও এইখানে অইতাছে, যা আমগোই চালাইতে অয়। এ ছাড়া আমার রোজগারও তো বন্ধ অইয়া গেছে। সংসার খরচ কেডায় চালাইবো।