kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

সমঝোতার প্রস্তাব ভেবে দেখবে আরসিবিসি

জিয়াদুল ইসলাম   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সমঝোতার প্রস্তাব ভেবে দেখবে আরসিবিসি

রিজার্ভের চুরি যাওয়া বাকি অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সমঝোতার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) বলেছে তারা সেটা ভেবে দেখবে। তবে অর্থ ফেরতের কোনো আশ্বাস দেয়নি তারা। তার পরও আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি অর্থ উদ্ধারে সমঝোতার আলোচনা অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি আরসিবিসিসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে অর্থ ফেরতের বিষয়ে আদালতের বাইরে সমঝোতার এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আরসিবিসি যে পাল্টা মামলা করেছে, সেখানে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বাংলাদেশ ব্যাংক) নাম ভুল করে লেখা হয়েছে ‘ব্যাংক অব বাংলাদেশ’।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০১ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে দুই কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কায়। বানান ভুলের কারণে এবং ব্যাংকিং সিস্টেমে থেকে যাওয়ায় সেটা তখনই উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বাকি আট কোটি ১০ লাখ ডলার যায় ফিলিপাইনে। এর মধ্যে ছয় কোটি ৬৪ লাখ ডলার এখনো ফেরত আনা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনার প্রায় তিন বছর পর গত ১ ফেব্রুয়ারি (বাংলাদেশের স্থানীয় সময়) আরসিবিসিকে প্রধান বিবাদী করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ২ এপ্রিল মামলাটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই সমঝোতার উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল গত ১০ ও ১১ মার্চ ফিলিপাইনের আরসিবিসিসহ মামলার বিবাদী, দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। এতে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান।

জানতে চাইলে রাজী হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিজার্ভের অর্থ উদ্ধারে ফিলিপাইনের আরসিবিসিসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে মামলা করেছি। এ মামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের সঙ্গে আমাদের যে অ্যাগ্রিমেন্ট, এই সমঝোতার উদ্যোগ তারই অংশ। মামলার কার্যক্রম শুরুর আগে আমাদের দিক থেকে বিষয়গুলো তাদের জানানোর দরকার ছিল। এ জন্য আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসি এবং আমরা আদালতের বাইরেও তাদের সঙ্গে সমঝোতা করতে রাজি—সেটা তাদের বলেছি। তারা আমাদের প্রস্তাব ভেবে দেখবে বলে জানিয়েছে।’

এ ধরনের আলোচনা অব্যাহত থাকবে কি না জানতে চাইলে বিএফআইইউ প্রধান বলেন, ‘এটা এখনই বলা যাচ্ছে না। আসলে অর্থ উদ্ধারে আমরা যে মামলাটি করেছি, সেটাই এখানে মেইন।’

বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের আরেক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সমঝোতা হলো একটা ইনফরমাল প্রসেস। এটা চলমান থাকে; কখনো বন্ধ হয় না। আর মামলাটা হলো লিগ্যাল ও ফরমাল প্রসেস। বাংলাদেশ যে মামলাটি করেছে সেটা ক্রিমিনাল কেস নয়; অর্থ উদ্ধারের মামলা। তাই অর্থ উদ্ধারই এখানে মুখ্য। সেটা মামলার মাধ্যমে হোক আর সমঝোতার ভিত্তিতে। এ জন্য আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সমঝোতা প্রশ্নে আলোচনাও অব্যাহত রাখার পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

সমঝোতার উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের ফিলিপাইন সফরের আগেই গত ৬ মার্চ দেশটির বিচারিক আদালত মাকাতি সিটি রিজিওনাল কোর্টে (আরটিসি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে পাল্টা মামলা করে আরসিবিসি। এতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ কোটি পেসো (১৯ লাখ ডলার) দাবি করা হয়েছে। মামলায় ব্যাংকটির সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার ‘অশুভ আক্রমণ’ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরসিবিসির পাল্টা মামলা নিয়ে জানতে চাইলে বিএফআইইউ প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান বলেন, “আসলে ওরা যে মামলা

করেছে সেটা যথার্থ হয়নি। ওরা ‘ব্যাংক অব বাংলাদেশ’-এর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে। কিন্তু ‘ব্যাংক অব বাংলাদেশ’ নামে আমাদের দেশে কোনো ব্যাংক নেই।”

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা