প্রতিবছর বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনের দিন জাতীয় সংসদ ভবনে থাকে সীমাহীন ব্যস্ততা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দম ফেলানোর সময় থাকে না। রাষ্ট্রপতিসহ অন্য ভিআইপিদের আগমনকে ঘিরে থাকে বাড়তি প্রস্তুতি ও কঠোর নিরাপত্তা। সকাল থেকে শুরু হয় দর্শনার্থীদের ভিড়। ফলে বাজেটকে ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু সংসদ ভবনের সেই চিরচেনা দৃশ্য এবার দেখা যায়নি বরং ছিল সুনসান, নীরবতা। সারা দিনই অলস সময় কাটিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সংসদ কার্যকর থাকাকালে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরুর পর বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ওই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর সংসদ ভবনের কার্যালয়ে অপেক্ষমাণ রাষ্ট্রপতি নতুন বাজেট সংসদে উপস্থাপনের জন্য সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন। বাজেট বক্তব্য অধিবেশনকক্ষের গ্যালারিতে বসে প্রত্যক্ষ করেন রাষ্ট্রপতি। গ্যালারিতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকেন। উত্থাপনের পর দুই দিন বিরতি দিয়ে সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। সরকার ও বিরোধী দলের আলোচনা শেষে ৩০ জুন বাজেট পাস হয়।
কিন্তু ১৬ বছর পর সেই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়েছে। সংসদ না থাকায় গতকাল সোমবার বিকেল ৩টায় অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের বাজেট বক্তব্য বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়। এর আগে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

