kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

এবার ব্যাংক থেকে কম ঋণ নেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার ব্যাংক থেকে কম ঋণ নেবে সরকার

মহামারি করোনা পরিস্থিতি সামলে উঠতে নতুন অর্থবছরের জন্য বিশাল ঘাটতির বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ঘাটতির এই অঙ্ক প্রথমবার দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে ঘাটতি অর্থায়নে এবার অভ্যন্তরীণ নির্ভরতা কমিয়ে কম সুদের বৈদেশিক উৎসর ঋণে বেশি ঝুঁকেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাজেটে বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা চলতি বাজেটের চেয়ে প্রায় সাড়ে ২৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ঋণনির্ভরতা বাড়ছে মাত্র ৩ শতাংশ। আবার অভ্যন্তরীণ উৎসর মধ্যে ব্যাংক ঋণনির্ভরতা প্রায় ১০ শতাংশ কমছে। তবে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

সাধারণত অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক এই দুই উৎস থেকে ঘাটতি মেটানো হয়ে থাকে। তবে বৈদেশিক খাত থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা পাওয়া না গেলে অভ্যন্তরীণ উৎসর ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয় সরকারকে। অভ্যন্তরীণ খাত আবার দুই ভাগে ভাগ করা। একটি হলো ব্যাংক খাত, অন্যটি হলো সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস। এ ছাড়া রাজস্ব আদায় কম হলেও ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ে। তবে এবার ব্যাংকনির্ভরতা কমানোয় বেসরকারি খাত উৎসাহিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র মতে, করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার ছয় লাখ টাকার অধিক ব্যয়ের বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী, যার মধ্যে অনুদানসহ সার্বিক ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির প্রায় ৬.২ শতাংশ, যা নতুন রেকর্ড। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয় এক লাখ ৮৫ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬.১ শতাংশ ছিল।

এবার ঘাটতির পরিমাণ বড় হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক দুই উৎসই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। তবে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণের লক্ষ্য বেশি বাড়ানো হয়েছে। এবার বৈদেশিক উৎস থেকে সরকার অনুদানসহ মোট ঋণ পাওয়ার আশা করছে এক লাখ এক হাজার ২২৮ কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ২১ হাজার ২১১ কোটি টাকা বা ২৬.৫০ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক উৎস থেকে অনুদানসহ ঋণ পাওয়ার আশা করা হয় ৮০ হাজার ১৭ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে এই লক্ষ্য কমিয়ে ধরা হয়েছে ৭২ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা।

এবার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হচ্ছে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তিন হাজার ৪৭০ কোটি টাকা বা ৩.১৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। ফলে চলতি অর্থবছরের চেয়ে এবার ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমছে প্রায় ১২ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা বা ১০.০৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। তবে করোনার কারণে এবার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়া ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার তেমন প্রয়োজন হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস ২০ দিনে (১ জুলাই থেকে ২০ মে) সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে নিট চার হাজার ৬৩০ কোটি টাকার মতো ঋণ নিয়েছে। অথচ গত অর্থবছরের পুরো সময়ে রেকর্ড ৭২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকার নিট ব্যাংকঋণ নিয়েছিল সরকার।

সাধারণত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে প্রয়োজনীয় ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টো। বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা খুব একটা নেই। অন্যদিকে বিনিয়োগ ভাটায় ব্যাংকের হাতেও প্রচুর উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। তাই সরকারকে ঋণ দিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোরও কোনো সমস্যা নেই।

অভ্যন্তরীণ উৎসর মধ্যে এবার ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ঋণ নেওয়া হচ্ছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ৩২ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬০ শতাংশ এবং সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫.৬০ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এই লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে পাঁচ মাস না যেতেই অতিক্রম হয়ে যায়।



সাতদিনের সেরা