kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

প্রণোদনা প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেন ব্যাংকাররা

বৈধ রেমিট্যান্স বাড়বে, কমবে হুন্ডি

জিয়াদুল ইসলাম   

১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৈধ রেমিট্যান্স বাড়বে, কমবে হুন্ডি

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। রেমিট্যান্স প্রেরণে বর্ধিত ব্যয় লাঘব এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণ উৎসাহিত করার জন্য তিনি এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অর্থমন্ত্রীর এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণ উৎসাহিত হবে এবং হুন্ডি প্রবণতা কমে আসবে। 

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সেখানে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। আর এ জন্য বাজেটে তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন বাজেট পাস হলে আগামী ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা ১০০ টাকা দেশে পাঠালে দুই টাকা প্রণাদনা পাবেন।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামস-উল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রণোদনা দেওয়ার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। অবশেষে নতুন অর্থবছরের বাজেটে সেই দাবি পূরণের প্রস্তাব এসেছে। এ ধরনের পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই। এর ফলে বৈধ পথে তথা ব্যাংকিং চ্যানেলে আগের চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স প্রেরণে উৎসাহিত হবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।’

বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজেটে রেমিট্যান্স প্রেরণে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাবটি ইতিবাচক। এতে প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে উৎসাহিত হবেন। এর ফলে অবৈধ তথা হুন্ডি পথে রেমিট্যান্স আসা কমবে।  

বৈধ চ্যানেলের তুলনায় অবৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণ সহজ ও ব্যয়সাশ্রয়ী হওয়ায় প্রবাসীদের অনেকেই এখনো হুন্ডি পথে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। বিশেষ করে হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে মুদ্রার বিনিময় হার বেশি পাওয়া যায়। আর অভিবাসীর পাঠানো অর্থ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যায় স্বজনরা। অন্যদিকে বৈধ পথে টাকা পাঠাতে সময় বেশি লাগার পাশাপাশি চার্জের হারও বেশি হয়। এসব কারণে অল্প আয়ের প্রবাসীরা ব্যাংক বা বৈধ পথে না গিয়ে অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠান।

অবৈধ পথে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরিপেও। প্রবাসী আয়ের বিনিয়োগ সম্পর্কিত জরিপ-২০১৬ অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসে, তার ২২ শতাংশ হুন্ডির মাধ্যমে। এর আগে ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশ কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘ইন দ্য করিডর অব রেমিট্যান্স : কস্ট অ্যান্ড ইউজ অব রেমিট্যান্স’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে আসার তথ্য দেওয়া হয়। তবে হুন্ডি ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে দুই বছর ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) এক হাজার ৫০৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০.৭৫ শতাংশ বেশি। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসে; যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ১৭.৩২ শতাংশ বেশি ছিল। এর আগে টানা ১২ বছরের বেশি প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা থাকলেও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ছন্দপতন হয়। ২০১২-১৩ অর্থবছরের এক হাজার ৪৪৬ কোটি ডলার থেকে রেমিট্যান্স আড়াই শতাংশ কমে নেমে আসে এক হাজার ৪২৩ কোটি ডলারে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আবার তা বেড়ে এক হাজার ৫৩২ কোটি ডলারে উন্নীত হয়; দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এক অর্থবছরের হিসাবে ছিল সর্বোচ্চ। এরপর টানা দুই অর্থবছর রেমিট্যান্স ব্যাপক কমে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক হাজার ২৭৭ কোটি ডলারে নামে। গত অর্থবছর আবার ১৭ শতাংশের বেশি বাড়লেও ২০১৪-১৫ অর্থবছরের পর্যায়ে আসেনি। তবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কারণ অর্থবছরের ১১ মাসেই দেড় হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে রেমিট্যান্স।

মন্তব্য