kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

ব্যক্তিত্ব

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যক্তিত্ব

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

শিক্ষাবিদ, ব্রাহ্মধর্ম প্রচারক ও সমাজসেবক দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে, ১৫ মে ১৮১৭ সালে। তাঁর বাবার নাম প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর এবং মা দিগম্বরী দেবী। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র। প্রথমে তিনি বাড়িতেই পড়াশোনা করেন। ১৮২৭ সালে অ্যাংলো হিন্দু কলেজে ভর্তি হন, সেখানে কিছুকাল পড়াশোনার পর তিনি বাবার বিষয়-সম্পত্তি ও ব্যবসা দেখাশোনার পাশাপাশি দর্শন ও ধর্মচর্চা শুরু করেন। ১৮৩৮ সালে পিতামহীর মৃত্যুকালে তাঁর মানসিক পরিবর্তন ঘটে। তিনি ধর্ম বিষয়ে আগ্রহী হয়ে মহাভারত, উপনিষদ, প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন। এর ফলে পার্থিব বিষয়ের প্রতি তাঁর অনীহা জন্মে, ঈশ্বর লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়। ১৮৪২ সালে তিনি তত্ত্ববোধিনী সভা ও ব্রাহ্মসমাজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাঁর অর্থায়নে প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা। ১৮৫৯ সালে তিনি ব্রাহ্মবিদ্যালয় স্থাপন করেন। তিনি পূজা-পার্বণা বন্ধ করে ‘মাঘ উৎসব’, ‘নববর্ষ’, ‘দীক্ষা দিন’ ইত্যাদি উৎসব প্রবর্তন করেন। ১৮৬৭ সালে তিনি বীরভূমের ভুবনডাঙ্গা নামে একটি বিশাল ভূখণ্ড ক্রয় করে আশ্রম স্থাপন করেন। এ আশ্রমই আজকের বিখ্যাত শান্তিনিকেতন। তিনি দরিদ্র গ্রামবাসীর চৌকিদারি কর মওকুফের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং ভারতের স্বায়ত্তশাসনের দাবিসংবলিত একটি পত্র ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রেরণ করেন। বিধবাবিবাহ প্রচলনে তিনি উৎসাহী ছিলেন, তবে বাল্য ও বহুবিবাহের বিরোধী ছিলেন। শিক্ষা বিস্তারেও তাঁর অবদান ছিল। তিনি ‘জাতীয় ধর্মের পরিরক্ষক’ ও ব্রাহ্মসমাজ ‘মহর্ষি’ উপাধি লাভ করেন। ১৯০৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা