kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড-১

অবর্ণনীয় নির্মমতার চিত্র

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



অবর্ণনীয় নির্মমতার চিত্র

প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতি পালন করে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। স্মরণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ মেধাবী সন্তানদের। জাতির জন্য এটি বেদনাবৃত একটি দিন। সুসংগঠিত পরিকল্পনায় ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির শ্রেষ্ঠ মেধাসম্পন্ন সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর এ দেশীয় দোসর কুখ্যাত আলবদররা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধকালে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যাসহ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আসছিল জাতি। এ লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর দৃঢ়তায় প্রণীত হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩। কিন্তু ১৯৭৫ সালের আগস্টে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক শাসকদের দৃশ্যমান অনুমোদনে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হওয়ায় অসীম বেদনা বুকে নিয়ে জাতি হতে থাকে রক্তাক্ত।

অবশেষে বিচারহীনতার গ্লানি থেকে জাতিকে মুক্ত করার সাহসী উদ্যোগ নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১২ সালের মার্চে গঠিত হয় আরেকটি ট্রাইব্যুনাল। শুরু হয় শীর্ষস্থানীয় রাজাকার, আলবদর এবং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শক্তিধর দোসরদের বিচারকাজ। বিচার শুরু হয় বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডেরও। ‘বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের’ হোতা আশরাফুজ্জামান খান ওরফে নায়েব আলী খান ও চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এই রায়সহ ঘোষিত সব রায়ই আপলোডেড রয়েছে ট্রাইব্যুনালের ওয়েবসাইটে। দেখা যায়, ২৫ জন সাক্ষীর মৌখিক সাক্ষ্য ও দালিলিক সাক্ষ্য বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল ১১টি চার্জের প্রতিটিতেই দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। 

এ ধরনের বর্বর প্রকৃতির আন্তর্জাতিক অপরাধ সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড প্রদানই একমাত্র লক্ষ্য নয়। এই প্রকৃতির মামলার রায়ের মাধ্যমে জাতি, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে কতটা সীমাহীন রক্ত আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এই নির্মম প্রতিষ্ঠিত সত্যই নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনা বুকে ধারণ করতে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে বিশ্বও জানবে এসব সত্য। আর এই সত্যের অংশ হিসেবে বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলায় শহীদদের স্বজনদের বুকে জমে থাকা ক্ষত ও নিরন্তর কান্নাকে তাঁদের ভাষায় তুলে ধরার প্রয়াসেই এই লেখা। সেই সঙ্গে রায়ে প্রতিফলিত বিচারকদের বিশ্লেষণপ্রসূত ভাবনাগুলোও প্রাসঙ্গিকভাবে এসে যায় লেখায়।

বিচারকরা রায়ে উল্লেখ করেছেন, বুদ্ধিজীবী শ্রেণি বাঙালি জাতির অংশ। এই হত্যাকাণ্ড প্রকারান্তরে একটি জাতিকে নির্মূলের জন্য পরিকল্পিত ম্যাসাকার। এটি ছিল জাতিকে মেধাশূন্য করার এক নীলনকশা।  বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এ মামলায় মঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে রায়ে বলা হয়, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের হিংস্রতা মৌলিক মানবতাবোধের জন্য হুমকি। ইতিহাস বলে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা সময়ে বেসামরিক নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নানা ধরনের নৃশংস আক্রমণ হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের ইতিহাস এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়নি, যেখানে জাতির বিবেক সরব মেধাদীপ্ত বুদ্ধিজীবীদের লক্ষ্য করে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

এই পাশবিক হত্যাযজ্ঞ শুধু অপরাধীর অপরাধের মাত্রাই বাড়ায়নি, গোটা জাতির হৃদয়ে অবর্ণনীয় এক যন্ত্রণার ছাপ এঁকে দিয়েছে। দশকের পর দশক ধরে জাতি ও শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা সেই অব্যক্ত যন্ত্রণা বুকে চেপে আছেন। আইন এখানে নির্বিকার থাকতে পারে না। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে অপরাধের প্রকৃতি, মাত্রা ও গভীরতার বিচারে একমাত্র মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে ন্যায়বিচার করা হবে। রায়ে এসব পর্যবেক্ষণ দেন ট্রাইব্যুনাল। আমি তখন ছিলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান। আমার সঙ্গে বিচারক প্যানেলে সদস্য হিসেবে ছিলেন মাননীয় বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া (বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত) ও মাননীয় বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম (বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান)।

অভিযুক্ত দুজনই পলাতক থাকায় আইনের বিধান অনুযায়ী তাঁদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে দুজন দক্ষ আইনজীবীর নাম (আব্দুস শুকুর খান ও সালমা হাই টুনি) সরকারের কাছে পাঠাই এবং আমাদের মনোনীত আইনজীবীদের সরকার মামলাটি পরিচালনার জন্য স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দেয়। মামলাটির নাম দেওয়া হয় ‘চিফ প্রসিকিউটর বনাম আশরাফুজ্জামান খান ওরফে নায়েব আলী খান ও চৌধুরী মঈনুদ্দীন’। প্রসিকিউশনপক্ষে মামলা পরিচালনায় ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরীফ টিপু, বিজ্ঞ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, জেয়াদ আল মালুম, সাহিদুর রাহমান, মিস তুরিন আফরোজ, মিস নুরজাহান মুক্তা, মিস সাবিনা ইয়াসমিন খান প্রমুখ।

যেকোনো অপরাধসংশ্লিষ্ট মামলার রায় দিতে গিয়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা হয়। নির্ভর করা হয় ওই সাক্ষ্যসহ পারিপার্শ্বিক আরো অন্যান্য সাক্ষ্যের ওপর। যৌক্তিকভাবে এসবের বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হয়। এটি করতে গিয়ে রায়ে সাক্ষীদের সবটুকু বক্তব্য আলোচনায় আসে না। শুধু প্রদত্ত বক্তব্যের প্রাসঙ্গিক অংশটুকুই তুলে ধরা হয়। এ মামলার রায় প্রচারিত হয়েছে ছয় বছর আগে। রায়ের সারাংশ এবং ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ তখন দেশি-বিদেশি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ রায়টি সংশ্লিষ্ট নথিতে ট্রাইব্যুনালে সংরক্ষিত আছে। যেহেতু দণ্ডিত দুজন আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের পর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেননি, তাই বিষয়টি আর সাবজুডিস (বিচারাধীন) নয়। এটি এখন একটি পাবলিক ডকুমেন্ট বা গণদলিল। ট্রাইব্যুনালের ওয়েসবাইটে এবং আইসিসি লিগ্যাল টুলস প্রজেক্টের ওয়েবসাইটেও তা আপলোডেড আছে।

এ মামলার রায় ও সাক্ষ্য এখন পাবলিক ডকুমেন্ট হওয়ায় ভাবলাম, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের কাছাকাছি সময়ে দেশের মানুষ জানুক বিশেষ করে এই মামলার সাক্ষীরা ট্রাইব্যুনালে এসে স্বজন হারানোর বেদনা ব্যক্ত করতে গিয়ে কী বলে গেছেন। এই সাক্ষীদের অনেকেই শহীদের সন্তান বা নিকটাত্মীয়। এই মামলার সাক্ষীরা ট্রাইব্যুনালে সব কথাই বলেছিলেন বাংলায় এবং সেভাবেই তা লিপিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু রায় ইংরেজিতে লেখা হওয়ায় সংগত কারণেই ইংরেজিতে অনুবাদ করেই তা রায়ে তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ও এর বিচারিক কার্যক্রমের প্রতি শুরু থেকেই বৈশ্বিক দৃষ্টি ও আগ্রহ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যেসব সংস্থা ও গবেষক, আন্তর্জাতিক অপরাধ, গণহত্যা প্রভৃতি নিয়ে কাজ করেন, তাঁরা দেখেছেন আমাদের ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সব রায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ইংরেজিতে রায় লেখার প্রয়াস। সাক্ষীদের আবেগের কথা রায়ে সামান্যই উল্লেখ আছে। কেননা রায়ে এর সবটুকু প্রতিফলিত করা বেশ কঠিন।

১৪ ডিসেম্বর শোকাবহ দিনটিতে আমরা অনেকেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাক্রান্ত হই। বিশেষ করে, তরুণ প্রজন্ম জানতে চায় সেই নির্মম সত্যের অধ্যায়টি। তাই সাক্ষীদের সাক্ষ্যের সবটুকু তুলে না ধরে এর উল্লেখযোগ্য অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি। আমার বিশ্বাস, এটি থেকে সবাই জানতে পারবেন ক্ষত ও বেদনায় ভরা সত্যটি। জানতে পারবেন কিভাবে সেদিন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নিজ নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল কুখ্যাত আলবদররা এবং তারপর কিভাবে স্বজনরা তাঁদের প্রিয় মানুষটির লাশের খোঁজ পেয়েছিলেন বা আদৌ পাননি। সাক্ষীদের এসব কথার প্রতিটিই যেন তাঁদের বুকে বয়ে বেড়ানো নিরন্তর কান্নার ফোঁটা। তাঁদের এই কান্না থেকে এটিও বেরিয়ে এসেছে কিভাবে এই শহীদ পরিবারগুলো, এমনকি ছোট ছোট সন্তান বুকে নিয়ে সামনে পথ হেঁটেছেন। কিভাবে তাঁরা বেঁচে থাকার সংগ্রাম করেছেন এবং বর্তমানে তাঁরা কেমন আছেন।

সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন অপহরণ ও হত্যা

এই অভিযোগের সমর্থনে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেনের ছেলে তৌহিদ রেজা নূর। ঘটনার সময় তিনি ছিলেন মাত্র তিন বছরের শিশু। বড় হয়ে তিনি তাঁর মায়ের কাছ থেকে তাঁর বাবার অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের কথা শুনেছেন।

সাক্ষী তৌহিদ রেজা নূর ট্রাইব্যুনালে যে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তার কিছু অংশ :

“১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল তিন বছর। ওই বয়সেই আমি আমার বাবাকে হারাই। আমরা আট ভাই, আমাদের কোনো বোন নেই। আমি ভাইদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। ১৯৭১ সালে আমার বাবাকে কিভাবে অপহরণ করা হয়েছিল তার বিস্তারিত বিবরণ পরবর্তী সময়ে আমার মা এবং আমার মেজো ভাই শাহীন রেজা নূরের কাছ থেকে শুনেছি এবং জেনেছি।

১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকে ‘এতদিনে’ শিরোনামে একটি লেখা বের হয়, যেখানে আমার বাবা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের অবস্থান সম্পর্কে সমালোচনা করেন। সে সময় আমার বাবা দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তা ও কার্যনিবাহী সম্পাদক ছিলেন।

১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় ব্ল্যাক আউট চলছিল। মধ্যরাত ১২টা-সাড়ে ১২টার দিকে আমাদের বাসার দরজায় করাঘাত হয়। এই করাঘাতের শব্দে আমার মা-বাবাসহ অন্যরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে যখন আমার বাবা দরজা খোলেন তখন সেখানে কাউকে দেখতে পাননি। এ অবস্থায় আমার বাবা দরজা বন্ধ করে তিনিসহ সবাই ঘরে শুতে যান। এরপর রাত ৩টা-সাড়ে ৩টার দিকে আবার দরজায় করাঘাতের শব্দ শোনা যায়। আমার মেজো ভাই শাহীন রেজা নূর ঘুম থেকে উঠে শুনতে পান বাড়িওয়ালা তাঁকে ডেকে বলছেন, ‘শাহীন, দরজা খোলো।’ এ অবস্থায় আমার ভাই দরজা খুলে দেখতে পান বাড়িওয়ালা, তাঁর দুই ছেলে ও তাঁর শ্যালকরা দরজার বাইরে দাঁড়ানো ছিল। তিনি আরো দেখতে পান ছয়-সাতজন সশস্ত্র লোক কেউ মাফলার, কেউ মাংকি ক্যাপ বা অন্য ধরনের কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকা অবস্থায় দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। তারা আধো বাংলা আধো উর্দুতে জানতে চায় ঘরে কে আছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ জোরপূর্বক আমাদের ঘরের ভেতর ঢুকে বাবার শোবার ঘরের সামনে চলে আসে। আমার মা সে সময় কী হয়েছে জানার জন্য সামনে এগিয়ে এসে শোবার ঘরের দরজাটি খোলেন। এ অবস্থায় সশস্ত্র লোকগুলো আমার বাবার শোবার ঘরে ঢুকে যায় এবং আমার বাবাকে লক্ষ্য করে বলে ‘হ্যান্ডস আপ’।”

লেখক : হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সাবেক চেয়ারম্যান 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা