kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

এই সময়

আইসিজেতে গাম্বিয়ার মামলা ও কিছু প্রশ্ন

তারেক শামসুর রেহমান

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



আইসিজেতে গাম্বিয়ার মামলা ও কিছু প্রশ্ন

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে দ্য হেগে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) যে মামলার শুনানি শুরু হয়েছে, সেই শুনানি চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালত উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনবেন। গাম্বিয়া ওআইসির পক্ষ হয়ে এই মামলাটি দায়ের করে। রোহিঙ্গা সংকটের সঙ্গে গাম্বিয়া কোনোভাবেই জড়িত নয়। কিন্তু ওআইসির সদস্য হিসেবে ওআইসির পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল গাম্বিয়াকে এই মামলাটি করার। প্রথম দিকে মিয়ানমার এই মামলায় লড়বে না বলে জানিয়ে দিলেও পরে দেখা গলে সে দেশের স্টেট কাউন্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি নিজেই এই মামলার শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। তিনি বুধবার আদালতে তাঁর বক্তব্য পেশ করেছেন। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলা অনেক বিষয়কে এখন সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথমত, মামলা যখন হয়েছে তখন একটি রায় অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিন্তু এই রায়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হবে? দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে যে সব মিলিয়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে, তারা কি আদৌ নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবে? তৃতীয়ত, মিয়ানমারের রাখাইনে গণহত্যার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কিন্তু আইসিজে কি গণহত্যার বিচার করতে পারবে? চতুর্থত, আইসিজেতে যে মামলাটি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ কোনো পক্ষ নয়। তার পরও বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল সেখানে গেছে। পর্যবেক্ষণ ছাড়া প্রতিনিধিদলের করার কিছু নেই। বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমেও এই কাজটি করা যেত।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়ই আইসিজের সদস্য। জাতিসংঘ সনদের ৯৩ ধারায় জাতিসংঘের সদস্য প্রতিটি দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইসিজের সদস্য। আর ৯৪ ধারা মতে, আইসিজের রায় মানতে প্রতিটি দেশ বাধ্য। এর অর্থ হচ্ছে আইসিজে যে রায়ই দিক না কেন, উভয় দেশই তা মানতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে প্রথম দিনের শুনানিতে গাম্বিয়া তার বক্তব্য যোগ করেছে। প্রথম দিনের শুনানিতে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবু বকর তামবাদো মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জেনোসাইডের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। তিনি এসব হত্যাকাণ্ড ও বর্বরতা বন্ধের আহ্বান জানান। ওই সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন অং সান সু চি। সংবাদপত্রের ভাষায় তিনি ছিলেন ভাবলেশহীন। বুধবার তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা বক্তব্য দেন। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হলো। বলা ভালো, গাম্বিয়া আইসিজেতে যে মামলা দায়ের করেছে তাতে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়ে মিয়ানমার জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশন (১৯৪৮) লঙ্ঘন করেছে। ৪৬ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রের নথি সংযুক্ত করে বলা হয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করেছে। হত্যা ও ধর্ষণও করেছে। আজ মিয়ানমার সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও বাস্তবতা হচ্ছে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ৪৪৪ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়—হত্যা, গণধর্ষণ ও শারীরিক লাঞ্ছনার ব্যাপক প্রমাণ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা বিষয়ক বিচারের আওতায় পড়ে। শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করে তদন্ত ও বিচারের কথা বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। মিয়ানমার সরকার এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনেও বানোয়াট বলেছিল। এখানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি নিয়েও কথা বলা দরকার। রোম স্ট্যাটিটিউট অনুযায়ী আইসিসি গঠিত হয় ২০০২ সালে। ১৯৯৮ সালের ১৭ জুলাই ইতালির রাজধানী রোমে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গঠনের লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এ পর্যন্ত ১২২টি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। রোম স্ট্যাটিটিউটে চারটি অপরাধকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, genocide বা গণহত্যা, crime against humanity বা মানবতাবিরোধী অপরাধ, war crime বা যুদ্ধাপরাধ এবং crime of aggression বা আক্রমণসংক্রান্ত অপরাধ। মিয়ানমার রোম স্ট্যাটিটিউটে স্বাক্ষর করেনি। তবে আইসিজেতে স্বাক্ষর করেছে। রোম স্ট্যাটিটিউটে স্বাক্ষর না করায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের গণহত্যাকারীদের বিচার করা যাবে কি না—এটা একটা মৌলিক প্রশ্ন।

আইসিজে সাধারণত দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধের মীমাংসা করে থাকে। যেমন বলা যেতে পারে ক্যামেরুন বনাম নাইজেরিয়ার মধ্যকার বিরোধ কিংবা ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়ার মধ্যকার বিরোধের মীমাংসা করেছে আইসিজে। আইসিজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে (২২ মে ১৯৪৭) ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত আইসিজে ১৭৭টি মামলার শুনানি শুনেছেন ও রায় দিয়েছেন। আইসিজে জাতিসংঘের একটি সংস্থা এবং সংস্থাটির যেকোনো সিদ্ধান্ত মানতে সদস্যভুক্ত দেশগুলো বাধ্য। এখানে স্পষ্টতই একটি বিষয় লক্ষণীয়—তা হচ্ছে গাম্বিয়া যে মামলা করেছে, তাতে সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। অভিযোগ আনা হয়েছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। গাম্বিয়া প্রাথমিকভাবে যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছে, তাতে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়। ১. সেখানে, অর্থাৎ রাখাইন স্টেটে গণহত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া; ২. সেনাবাহিনী কিংবা কোনো প্যারামিলিশিয়া বাহিনী সেখানে যাতে আর গণহত্যা না চালায় তার ব্যবস্থা নেওয়া; ৩. রাখাইনে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, সেই গণহত্যাসংক্রান্ত কোনো প্রমাণ নষ্ট না করা; ৪. বর্তমান পরিস্থিতি আরো যাতে জটিল না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা। গাম্বিয়া এ ব্যাপারে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়েছে। সূক্ষ্মভাবে দেখলে দেখা যাবে এর কোনো একটির ব্যাপারেও মিয়ানমার সরকারের আপত্তি থাকার কথা নয়। রাখাইনে ব্যাপক গণহত্যা হয়েছে, এটা মিয়ানমার স্বীকার না করলেও সেখানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, এটা তারা স্বীকার করে। যে কারণে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিচারের কথা মিয়ানমারের মিডিয়ায় প্রচারিতও হয়েছে। সুতরাং অং সান সু চি আদালতে এটা বলার চেষ্টা করবেন যে সেখানে গণহত্যা বন্ধ হয়েছে এবং দোষীদের বিচারের প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে! ২০১৭ সালের আগস্টের পর বড় ধরনের কোনো গণহত্যা হয়নি, এটাও বলবেন সু চি! গণহত্যার প্রমাণ ধ্বংস না করার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু এটা কি অনেক দেরি হয়ে গেল না? মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তো সব প্রমাণ এর মধ্যে ধ্বংস করে ফেলেছে। রোহিঙ্গাদের আদি বাড়িঘরের কোনো অস্তিত্ব নেই। বুলডোজার দিয়ে তা ধ্বংস করা হয়েছে। ওই সব অঞ্চল এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং সু চি আদালতে কী বলবেন, তা সবারই জানা। কেউ তদন্ত করতে গেলেও সেখানে কোনো আলামত খুঁজে পাবে না। তবে সু চি আদালতকে আশ্বস্ত করবেন এ ধরনের ‘ঘটনা’ আর ঘটবে না! এ ক্ষেত্রে আইসিজের কিছু করার থাকবে কি না সেটাও একটা প্রশ্ন।

অং সান সু চি নিজে মিয়ানমারের পক্ষে মামলা লড়ছেন। তাঁর এই ভূমিকাও বিতর্কিত। তিনি আইসিজেতে গেছেন শুধু সেনাবাহিনীর স্বার্থ দেখার জন্য। সারা বিশ্ব যেখানে জানে যে রাখাইনে গণহত্যা হয়েছে, সেখানে হত্যাকারীদের পক্ষ তিনি অবলম্বন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনায় একটি মামলা হয়েছে। গেল সপ্তাহেই আর্জেন্টিনার একটি আদালতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হুমকি সৃষ্টির অভিযোগে অং সান সু চি, সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লিয়াংসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এর মধ্য দিয়ে খোদ অং সান সু চির ভাবমূর্তি যথেষ্ট ক্ষুণ্ন হয়েছে। এটা সত্য, রোহিঙ্গা গণহত্যা চালানোর সময় সরকারের মূল ব্যক্তি ছিলেন সু চি। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে অং সান সু চির দল বিজয়ী হয়। তিনি ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির মূল ব্যক্তি। তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সমমর্যাদায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা আইসিসির প্রসিকিউটর ফাতুউ বেনসৌদার প্রতিবেদন—সব মিলিয়ে মিয়ানমারের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন অনেকটা দিশাহারা। তিন দিনের ব্যবধানে আলাদা আদালতে তিনটি সম্পর্কহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে। সবগুলোতেই ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর থেকে সামরিক অভিযানের সময় সংঘাতপীড়িত রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জন্য মিয়ানমারের সরকার ও সামরিক নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। মামলা দায়ের করার সঙ্গে সঙ্গেই যে রায় পাওয়া যাবে, তেমনটি নয়। চূড়ান্ত রায় পেতে আমাদের অনেক সময় লাগবে। তবে স্পষ্টতই এই মামলার রায় যা-ই হোক, এ মুহূর্তে আমাদের আশাবাদী হওয়ার মতো তেমন কিছু ঘটবে না। আইসিজে ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে বলতে পারে না। তাদের কর্মপরিধিতে এমনটি নেই। উপরন্তু গাম্বিয়ার উপস্থাপনায়ও এমনটি নেই। দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের বিষয়টিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারে ১৯৮২ সালে যে আইনটি পাস হয়েছে (1982 Citizenship Low), এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে অস্বীকার করা হয়েছে। সংকটের মূল সমাধান এখানে নিহিত। কিন্তু আইসিজে এ ব্যাপারে কোনো মতামত দিতে পারে না। সব মিলিয়ে মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রশ্নে এক ধরনের ‘চাপ’-এ আছে। অং সান সু চি নিজে দ্য হেগের আদালতে উপস্থিত থেকে এই ‘চাপ’ কমাতে পারবেন বলে মনে হয় না। অত্যন্ত ক্ষমতাবান জেনারেল মিন অং হ্লিয়াংয়ের স্বার্থ রক্ষা করে ২০২০ সালের নির্বাচনী বৈতরণী তিনি পার হতে চাচ্ছেন বটে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, মিয়ানমারের সংবিধান সংশোধনীতে সেনাবাহিনী সায় দেবে না এবং তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্তির সম্ভাবনাও ক্ষীণ।

গাম্বিয়ার প্রতিনিধি ওই সময়কার রোহিঙ্গা হত্যা ও নির্যাতনের কথা আদালতকে বলেছেন। আদালতের ১৭ জন বিচারপতি এসব বিষয়ে অবগত আছেন। রায়ে যা-ই বলা হোক না কেন, আইসিজের একটা সীমাবদ্ধতা আছে। আইসিজে নিজে কোনো ‘রায়’ বাস্তবায়ন করতে পারে না। রায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে হবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে। ফলে আইসিজেতে যে মামলাটি হয়েছে, তার রায় আমাদের সন্তুষ্ট না-ও করতে পারে। তবে নিঃসন্দেহে এটা বলা যায়, মামলা দায়েরের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের নৈতিক পরাজয় হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমার আজ ‘অপরাধী’। মামলা একদিকে, আমাদের কূটনীতি অন্যদিকে। কূটনৈতিকভাবে আমাদের আরো কিছু করা দরকার। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যাতে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা যায়—এ লক্ষ্যেই আমাদের কাজ করে যেতে হবে। আর এটা যদি আমরা সাফল্যের সঙ্গে করতে পারি, তাহলে মিয়ানমার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে। দ্য হেগে মামলা করে এ মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাবে বলে মনে হয় না।

 

লেখক : অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

[email protected]

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা