kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

জাতিসংঘের মাদ্রিদ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কতটুকু কার্যকর হবে

গাজীউল হাসান খান

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



জাতিসংঘের মাদ্রিদ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কতটুকু কার্যকর হবে

জলবায়ু ও পরিবেশের ক্রমবিপর্যয়ের ফলে বিশ্বব্যাপী এখন রাজনৈতিক নেতাদের থেকে ছাত্রসমাজ পর্যন্ত সবাই অস্থির ও প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে। বর্তমান বিশ্বে এক প্রান্তে যখন চলছে প্রবল বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস, তখন অন্য প্রান্তে সৃষ্ট দাবানলে ভস্মীভূত হচ্ছে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। অকল্পনীয়ভাবে বেড়ে যাচ্ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। বিশ্বের ৯৭ শতাংশ পরিবেশবিজ্ঞানী এ ব্যাপারে একমত যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাঁদের ধারণা, বিগত ছয় লাখ ৫০ হাজার বছরের তুলনায় বাতাসে এখন কার্বন ডাই-অক্সাইড ঘনীভূত হওয়ার পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিগত শিল্পবিপ্লবের আগের তুলনায় কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কিংবা বাতাসে তা ঘনীভূত হওয়ার পরিমাণ ৩৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। এর জন্য শিল্পোৎপাদনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারকে মূলত দায়ী করেছেন। শিল্পসমৃদ্ধ চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, কোরিয়া, জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশকে এই পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। কারণ চীন ও ভারতের মতো দেশে এখনো প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদন করা হচ্ছে কয়লা থেকে, যা থেকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ তুলনামূলক অনেক বেশি। সুইডেনের ষোড়শী ছাত্রী ও পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গের মতে, প্যারিসে স্বাক্ষরিত পরিবেশ চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনার ঘোষণাও এখন অত্যন্ত অবাস্তব ও অপর্যাপ্ত বলে মনে হচ্ছে। গ্রেটার মতে, বর্তমান বিশ্বকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ ৮০ শতাংশ কমাতে হবে, যা প্যারিস ঘোষণার তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

গত ফেব্রুয়ারিতে ডাবসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিটির সম্মেলনে গ্রেটা থানবার্গ এ ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা পরিবেশবিজ্ঞানীরা কোনো মতেই উড়িয়ে দিতে পারেননি। বিজ্ঞানীদের মতে, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ থেকে ‘গ্রিনহাউস গ্যাস’ নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনতে হবে। গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টে বর্তমান পরিবেশ বিপর্যয়কে একটি ‘ঞরঢ়ঢ়রহম ঢ়ড়রহঃ’ বা চূড়ান্ত অবস্থা বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান বিশ্বসভ্যতা এখন তার অস্তিত্ব বিলোপের এক আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছে গেছে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতা-নেত্রীরা উল্লেখ করেছেন। সেই ঐতিহাসিক অধিবেশনে প্রথমবারের মতো যোগ দিয়েছিলেন ইউরোপীয় কমিশনের নবনির্বাচিত প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভনডার লেইন। ৬১ বছর বয়স্ক ভনডার লেইন সাবেক প্রেসিডেন্ট জন ক্লদ ইয়ংকারের স্থলাভিষিক্ত হলেন। বৈশ্বিক আবহাওয়া জলবায়ুর সুষ্ঠু সংরক্ষণ এবং পরিবেশ বিপর্যয় থেকে বর্তমান বিশ্বকে রক্ষার ব্যাপারে কমিশন প্রেসিডেন্ট লেইন অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে ঘোষণা করেছেন।

বর্তমান বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিগগিরই ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নামিয়ে আনার সংকল্প ব্যক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি সদস্য রাষ্ট্র। তা ছাড়া কয়লাজাত কিংবা জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনের পরিমাণও ৫৫ শতাংশে নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে শিল্পসমৃদ্ধ দেশগুলোর কাছে। নতুবা তাদের কাছ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থনৈতিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের আভাসও দিয়েছে। এমন একটি অবস্থায় ২ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী জাতিসংঘের উদ্যোগে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পরিবেশ পরিবর্তন সম্মেলন সিওপি-২৫ বা পরিবেশ অ্যাকশন শীর্ষ সম্মেলন-২০১৯। এ সম্মেলন এত দিন চিলিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে পূর্বনির্ধারিত ছিল। কিন্তু চিলির বর্তমান গণ-আন্দোলনের মুখে জাতিসংঘ তা মাদ্রিদে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। মাদ্রিদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ উন্নয়নশীল বিশ্বের বেশ কয়েকজন সরকারপ্রধান এবং বিশেষ করে বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের পরিবেশমন্ত্রীরা যোগ দেন। বর্তমান বিশ্বে কার্বন নিঃসরণ যেমন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা কমানো সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি বিগত চার বছর ধরে বিশ্বে পর পর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে আর্কটিক সার্কেলে শীতের তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে বিশাল পরিবর্তন। এ অবস্থায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বর্তমান মাদ্রিদ পরিবেশ অ্যাকশন সম্মেলন ২০১৯-এর আলোকে এবং অভিজ্ঞতায় বিশ্বনেতাদের ২০২০ মাসে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের অধিবেশনে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় পরিবেশ শীর্ষ সম্মেলনে শিল্পসমৃদ্ধ বিশ্বের নেতাদের তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য বাদ দিয়ে পরিবেশ বাঁচানোর লক্ষ্যে এবং বিশ্বকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা বা পরিকল্পনা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। মহাসচিব গুতেরেস উল্লেখ করেছেন যে ২০২০ সাল থেকে ৪৫ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনা এবং ২০৫০ সালের মধ্যে শূন্য নিঃসরণের লক্ষ্যে পৌঁছার ব্যবস্থা করতে হবে, নতুবা বর্তমান বিশ্বের চূড়ান্ত পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হবে না। সেই ঘোষিত লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য শিল্পসমৃদ্ধ বিশ্বের নেতাদের বক্তৃতা নয়, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে এবং বিপন্ন বিশ্ববাসীর কাছে তা উপস্থাপন করতে হবে।

আবহাওয়া পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ক্রমে ক্রমে শক্তিশালী হয়ে উঠছে এখন। ব্রিটেনে অনুষ্ঠেয় ১২ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে বর্তমানে এক প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে দলীয়ভাবে। সে কর্মসূচিতে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০৫০-এর মধ্যে শূন্য কার্বন নিঃসরণে পৌঁছার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। ক্ষমতায় গেলে দেশব্যাপী তিন কোটি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্তের ঘোষণা করেছেন লেবারদলীয় নেতা জেরেমি করবিন। গত শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য সরকার জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করার জন্য বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ঘোষণা করা শুরু করেছে। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় ২০২০ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন পরিবেশবিষয়ক অতীত বক্তব্য নিয়ে ক্রমে সোচ্চার হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন। জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সবুজ জ্বালানি ব্যবহারের পক্ষে শক্তিশালী হচ্ছে জনমত। সূর্যরশ্মি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপায়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনের পক্ষে মতামতের পাল্লা অনেক ভারী হয়েছে আগের তুলনায়। যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী সাধারণ মানুষ এখন কয়লাভিত্তিক জ্বালানির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে অনেক সচেতনতা অর্জন করেছে। তা ছাড়া বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ কার্বন ডাই-অক্সাইড সৃষ্টিকারী দেশ হিসেবে চীন ও ভারতের কথা বারবার আলোচনায় আসছে। কারণ চীন ও ভারত শিল্পোৎপাদনের জন্য যে জ্বালানি ব্যবহার করছে তার প্রায় ৮০ শতাংশই আসছে কয়লা থেকে। আর কয়লাকেই বিশ্বব্যাপী এখন দায়ী করা হচ্ছে পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য। চীনের রাজধানী বেইজিং কিংবা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিভিন্ন সময় আকাশ আচ্ছাদিত হয়ে থাকে শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়ায়। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় সাধারণ মানুষের। সেসবের ওপর ভিত্তি করে একের পর এক তথ্যচিত্র প্রচার করে যাচ্ছে সিএনএনসহ বিভিন্ন টেলিভিশন প্রচারমাধ্যম। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অন্যান্য দেশ বা অঞ্চলও। পাম অয়েল উৎপাদন ও বিশেষ করে পাম চাষ করার জন্য ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের বিশাল বনাঞ্চল জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করার মর্মান্তিক চিত্র সিএনএন এখন তাদের বিশেষ অনুষ্ঠানে নিয়মিত প্রচার করছে। তার পাশাপাশি প্রচার করা হচ্ছে আমাজন রেইন ফরেস্টের বিভিন্ন অংশ জ্বালিয়ে দেওয়ার দৃশ্য। রয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে দাবানল সৃষ্টি হওয়ার ভয়াবহ দৃশ্য। এবং তার সঙ্গে যোগ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চল পুড়ে যাওয়ার বিভিন্ন সাম্প্রতিক দৃশ্যাবলি। বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড ঘনীভূত করার জন্য এই অগ্নিকাণ্ডগুলো কম দায়ী নয়।

জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, যানবাহন চলাচল, ইটভাটা নির্মাণ এবং অন্যান্য উপায়ে বর্তমানে আবহাওয়া ও পরিবেশ প্রতিনিয়ত যে অপ্রতিরোধ্য হারে দূষিত করা হচ্ছে, সেটা এখন থেকে শক্ত হাতে রোধ করা না গেলে ২১০০ সাল নাগাদ বিশ্বের ভূমণ্ডলের তাপমাত্রা ২ থেকে সাড়ে ১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাতে পৃথিবী বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়বে। সে কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সুপারিশ হচ্ছে, বিশ্বে বর্তমান কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ৫৫ শতাংশ কমিয়ে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রাকে দুই ডিগ্রির নিচে নামিয়ে আনতে হবে। সে কারণে সব রকম জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে চীন, ভারত, রাশিয়া ও অন্যান্য শিল্পসমৃদ্ধ দেশের সরকারগুলো কিভাবে সাড়া দেবে তার ওপর নির্ভর করছে বর্তমান পরিবেশ আন্দোলনের সাফল্য। তবে বিশ্বের বিভিন্ন শিল্পপ্রধান দেশে সরকারের তুলনায় জনগণ অত্যন্ত বেশি স্বাস্থ্যসচেতন ও পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠছে। বিশ্বব্যাপী এখন তৈরি হচ্ছে গ্রেটা থানবার্গের মতো অগণিত তরুণ পরিবেশকর্মী, যারা প্রতিবাদী ও আপসহীন। প্যারিস, নিউ ইয়র্ক কিংবা মাদ্রিদে আয়োজিত পরিবেশ রক্ষার সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তাই দিন দিনই দীর্ঘতর হচ্ছে তাদের প্রতিবাদ মিছিল এবং দেশে দেশে গড়ে উঠছে তাদের অসংখ্য প্রতিবাদ সমাবেশ। ক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন সরকার নির্বাচন কিংবা তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকা পরিবেশসচেতন নাগরিকদের সমর্থনের ওপর যেন নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। সে কারণে ডাবসের পর মাদ্রিদে যোগ দিতে যাচ্ছে বিশ্বের অসংখ্য তরুণ পরিবেশকর্মী। ক্রমে আরো এগিয়ে আসছে ভুক্তভোগী উন্নয়নশীল দেশের সরকারগুলো। বর্তমানে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত বায়ু ও পরিবেশ পরিবর্তন সম্মেলনকে (সিওপি-২৫) কেন্দ্র করে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মাদ্রিদে ইইউ প্যাভিলিয়ন সম্মেলনে আগত প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকদের জন্য বেশ কিছু পার্শ্ব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকরা জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন। তা ছাড়া অন্যান্য বিশেষ অনুষ্ঠানে পরিবেশ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে তাঁরা বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করতে সক্ষম হবেন। জাতিসংঘ আয়োজিত মাদ্রিদে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সম্মেলনটি হচ্ছে এর ২৫তম অধিবেশন, যেখানে সিওপি ২৫-এর বিভিন্ন পার্টি অংশগ্রহণ করবে। এতে কিয়োটো প্রটোকল (সিএমপি-১৫), প্যারিস চুক্তির পার্টিগুলো (সিএমএ-২), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক কমিটি (৫১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী) এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির (এসবিআই-৫১) সদস্যরা অংশগ্রহণ করবেন। তাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা, গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থা এবং প্যারিস চুক্তিসহ জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণের ব্যাপারে এ পর্যন্ত জাতিসংঘের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। তাঁদের সামগ্রিক আলাপ-আলোচনা, প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকদের মতামত এবং উন্নয়নশীল বিশ্ব থেকে আগত সরকারপ্রধান কিংবা নেতাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ওপরই ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখে জাতিসংঘে অনুষ্ঠেয় সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণগত শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্যসূচি কিংবা কর্মসূচি নির্ধারিত হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে সৃষ্ট অতিবৃষ্টি কিংবা অনাবৃষ্টি, খরা কিংবা জলোচ্ছ্বাস, উপর্যুপরি বন্যা কিংবা দাবানল সৃষ্টির মতো ধ্বংসাত্মক বিষয়গুলো মোকাবেলা করার জন্য উদ্বিগ্ন বিশ্ববাসী আজ সত্যিই জেগে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে চীন, ভারত, রাশিয়া, জাপান ও কোরিয়ার মতো শিল্পোন্নত দেশের সরকারগুলোর পক্ষ থেকে চাই বর্তমান বিশ্বব্যাপী বিরাজিত এই মহাসংকট নিরসনের সদিচ্ছা। জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমাগত পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে পৃথিবী আজ ধ্বংসের মুখোমুখি। সে কারণেই এখন সর্বত্র সৃষ্টি করতে হবে আরো গণসচেতনতা এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিতে হবে শক্তিশালী পদক্ষেপ, তা যতই কঠিন হোক না কেন।

 

লেখক : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক

[email protected]

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা