kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন শুনানির পরিণতি কী

গাজীউল হাসান খান

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন শুনানির পরিণতি কী

‘Quid Pro quo’একটি লাতিন প্রবাদ। বাংলায় এর অর্থ দাঁড়ায় কোনো কিছুর বিনিময়ে অন্য কিছু দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সম্প্রতি এ প্রবাদবাক্যটি এক ঐহিতাসিক ঝড় বা বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধী শক্তি অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটদের কাছে এটি কোনো প্রবাদবাক্য নয়, এটি ঘুষ বা দুর্নীতি। যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এটি বেআইনি এবং সংবিধানের পরিপন্থী বলে ডেমোক্রেটিক দলীয় রাজনীতিকরা উল্লেখ করেছেন। এবং এমনই একটি রাজনৈতিক অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গত বুধবার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে শুরু হয়েছে একটি উন্মুক্ত অভিশংসন শুনানি। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী সেই শুনানি জনগণের অবগতির জন্য টেলিভিশনে প্রচার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, তিনি ইউক্রেনকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার সামরিক সাহায্য দেওয়ার বিনিময়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছে একটি আনুকূল্য দাবি করেছেন। আর সেই আনুকূল্য বা ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ফেবার’, তা হচ্ছে ২০২০ সালে অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তাঁর পুত্র হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে একটি অভিযুক্ত দুর্নীতির তদন্ত করা। ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে জো বাইডেনের কম্পানি ও তাঁর পুত্র হান্টার বাইডেন ইউক্রেনে ব্যবসা করেছেন। তা ছাড়া হান্টার বাইডেন ইউক্রেনের একটি তেল কম্পানির পরিচালনা বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন। এটি আইনসংগত নয় বলে অভিযোগ করে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ওপর অভিযুক্ত দুর্নীতির তদন্ত করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। নতুবা ইউক্রেনের প্রতিশ্রুত সামরিক সাহায্য পাওয়া হবে সুদূরপরাহত। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তাঁর পুত্র হান্টারকে দুর্নীতির অভিযোগে জড়াতে পারলে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বৈতরণি পার হওয়া ট্রাম্পের জন্য অনেক সহজ হবে বলে তিনি মনে করেছেন। ডেমোক্র্যাটরা এ ধরনের একটি ঘটনাকে অত্যন্ত বেআইনি ও অপরাধমূলক বলে গণ্য করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিশংসন শুনানি শুরু করেছে। ডেমোক্র্যাটদের সুবিধা হচ্ছে, বর্তমানে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদে তাদের রয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা। তাই বিগত ২০ বছর পর এটি হচ্ছে আরেক প্রকাশ্য অভিশংসন শুনানি। এটি করা হয়েছে সংবিধান পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহারকারী বলে অভিযুক্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।

এই প্রকাশ্য শুনানির পেছনেও ডেমোক্র্যাটদের বিরাট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে গণমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। কারণ প্রকাশ্যে কোনো শুনানি সংঘটিত করার অর্থ কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসনপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা নয়। রাজনীতিগতভাবে দেশব্যাপী জনগণের কাছে তাঁকে বিতর্কিত ও হেয় প্রতিপন্ন করা। এ প্রক্রিয়ায় অভিশংসন চূড়ান্ত না হলেও আগামী নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্টকে গণতান্ত্রিকভাবে মূলোচ্ছেদ করা সম্ভব হবে বলে বিরোধী ডেমোক্রেটিক দলের নেতাদের ধারণা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং বিশেষ করে, কূটনীতিকদের অত্যন্ত অবহেলা কিংবা অবজ্ঞা করেছেন বলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই অভিযোগ ছিল। ট্রাম্প কোনো প্রথাগত রাজনীতি কিংবা প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হননি। ফলে গ্রাম্য মোড়লের মতো নিজ ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছার বশবর্তী হয়ে তিনি অনেক কাজ করে থাকেন, যার পেছনে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা কিংবা নীতি-নৈতিকতার ছাপ থাকে না। তা ছাড়া রাজনীতি ও কূটনৈতিক অঙ্গনের বাইরে ট্রাম্পের রয়েছে কিছু অপেশাদার সহযোগী বা মিত্র, যাঁদের পরামর্শ তিনি বেশি নিয়ে থাকেন। সেসব কারণে ইউক্রেনে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও অত্যন্ত বিজ্ঞ কূটনীতিক বিল টেইলর পদত্যাগ করেছেন এবং পরে ট্রাম্প নিজেই সরিয়ে দিয়েছেন ইউক্রেনে নিযুক্ত আরেক রাষ্ট্রদূত মেরি ইভানুভিচকে। তা ছাড়া ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেঁকে বসেছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জর্জ কেন্ট ও তাঁর মতো অনেক নীতিবান পেশাদার কূটনীতিক। জর্জ কেন্ট স্টেট ডিপার্টমেন্টের ইউরোপীয় ও ইউরেশীয় বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। তা ছাড়া তিনি কিয়েভ দূতাবাসে একসময় উপপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইউক্রেনে নিযুক্ত বিল টেইলর ও জর্জ কেন্টের মতো দুজন প্রাজ্ঞ কূটনীতিকই ১৩ নভেম্বর প্রথমবারের মতো ক্যাপিটল হিলের হাউস ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটি রুমে প্রতিনিধি পরিষদের ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডাম শিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শুনানিতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে তাঁরা সুস্পষ্টভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন যে তিনি ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য দেওয়ার বিনিময়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও তাঁর পুত্রের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য দুর্নীতি তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। এবং সে শর্তটিই ছিল সাহায্য দেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের কাছে প্রধান বিষয়। এ অপকর্মে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি। নিউ ইয়র্কের সাবেক মেয়র জুলিয়ানির পরামর্শেই ট্রাম্প ইউক্রেনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মেরি ইভানুভিচকে বরখাস্ত করেছিলেন। তা ছাড়া ইউক্রেন সীমান্তে যখন প্রতিদিন রাশিয়ার সেনাদের হাতে ইউক্রেনবাসী নিহত হচ্ছিল তখন কিয়েভ কিংবা ইউক্রেনের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো সামরিক সাহায্য পাননি। তাঁকে বাইডেনদের বিরুদ্ধে তদন্তের শর্ত দিয়ে মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

বিল টেইলর কিংবা জর্জ কেন্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রদত্ত শর্তের কথা তাঁর কাছ থেকে নিজ কানে শোনেননি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত গর্ডন সন্ডল্যান্ডের কথোপকথন থেকে তাঁরা সরাসরি সেসব শর্তের কথা জেনেছেন। তা ছাড়া তাঁরা নিজে ইউক্রেনে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে এবং এমনকি পররাষ্ট্র সেক্রেটারি মাইক পম্পেওর সঙ্গে বিল টেইলর তাঁর কথোপকথনের বিষয়গুলোও শুনানিতে উল্লেখ করেছেন। এ শুনানির পথ ধরে আবার শুক্রবার ক্যাপিটল হিলে উপস্থিত হবেন ইউক্রেনে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত মেরি ইভানুভিচ ও ডেভিড হোমস। তা ছাড়া জবানবন্দি দেবেন এই শুনানির একজন তারকা সাক্ষী গর্ভন সন্ডল্যান্ড। সন্ডল্যান্ড ইইউয়ে রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত থাকা অবস্থায় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি ইউক্রেনের প্রস্তাবিত সামরিক সাহায্য নিয়ে যেসব কথা হয়েছে, তা জানাবেন। এতেই ট্রাম্পের প্রদত্ত শর্তের কথা বেরিয়ে আসবে বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনীত অভিশংসনসংক্রান্ত মোট চারটি শুনানি যথাসময়ে শেষ করা হবে বলে কংগ্রেসম্যান অ্যাডাম শিফ জানিয়েছেন। প্রথম দিনের শুনানিতে বিল টেইলর ও জর্জ কেন্টের জবানবন্দিতে বেশ কিছু নতুন তথ্য বের হয়ে এসেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী ভোটাররা বেশ কিছুটা নড়েচড়ে উঠেছেন বলে গণমাধ্যম প্রচারিত বিভিন্ন খবরে জানা গেছে। এটি নিঃসন্দেহে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারণাকে অনেক জোরদার করবে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের বিশ্বাস। ডেমোক্র্যাটদের শিবিরে প্রায় ২০ জন সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর মধ্যে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর সামান্য পেছনে রয়েছেন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তা ছাড়া তরুণ প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে কংগ্রেসম্যান পল বুটেজেজ অত্যন্ত স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর রেখেছেন বলে গণমাধ্যমের ধারণা। এ অবস্থায় এখনো প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলানো তাঁর পক্ষে অনুচিত হবে। তা ছাড়া সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও তাঁর পুত্রের বিরুদ্ধেও তিনি কোনো তদন্তের উদ্যোগ নেননি। এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিকি হেইলির বই ‘সেভ দ্য কান্ট্রি’। এতে নিকি বলেছেন, আমেরিকাকে ট্রাম্পের অপশাসন থেকে বাঁচানোর লক্ষ্যে একসময় তৎকালীন পররাষ্ট্র সেক্রেটারি রেক্স টিলারসন, প্রতিরক্ষা সেক্রেটারি জিম মাতিস ও হোয়াইট হাউসের প্রধান কর্মাধ্যক্ষ জন কেলি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। এবং ট্রাম্পের তুঘলকি শাসন থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য তাঁদের সঙ্গে নিকিকে যোগ দিতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে বিষয়টি অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে নিকি তাতে যোগ দেননি বলে জানিয়েছেন এবং নিজ দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা কিংবা হোয়াইট হাউস প্রশাসনে এখন পুরনো কেউ-ই নেই। একে একে ট্রাম্পের কথিত স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সবাই তাঁকে ত্যাগ করেছেন কিংবা তিনি তাঁদের বরখাস্ত করেছেন বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শুনানির ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতে আগ্রহী নন। কারণ তাঁর মতে, পুরো বিষয়টিই নাকি একটি ‘উইচহান্ট’ বা তাঁকে জব্দ করার প্রচেষ্টা। শুক্রবার আরো আটজন সাক্ষীর শুনানিতে অংশগ্রহণ করার কথা। এখানে উল্লেখ্য যে প্রথম শুনানিতেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, পররাষ্ট্রনীতি, বিভিন্ন মার্কিন জোট এবং দেশটির ‘সিভিল লিবার্টি’র ধ্যান-ধারণা ধ্বংস করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে দুর্নীতি, ব্যক্তিস্বার্থে প্রশাসনকে কাজে লাগানো এবং বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনকে মতাদর্শগত দিক থেকে বিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত না করে তাদের সঙ্গে গোপনে সম্পর্ক স্থাপন করা হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বা সহযোগীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইউক্রেনের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে নীতিবহির্ভূতভাবে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার অভিযোগ করা হয়েছে। তা ছাড়া ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার কিংবা ইউক্রেনের বিভিন্ন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রকৃত অর্থে কোনো ব্যাপক তদন্ত হয়নি বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষে নির্লজ্জভাবে অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সর্বত্র। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী কিংবা অধিকৃত গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের অংশ বলে ঘোষণা করা আন্তর্জাতিক আইনের বরখেলাপ এবং সর্বোচ্চ লঙ্ঘন বলে স্বয়ং জাতিসংঘই মত প্রকাশ করেছে। সিরিয়া সমস্যার কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধানের আগে সেখান থেকে মার্কিন সেনা অপসারণ যুক্তরাষ্ট্রবাসী ভালো দৃষ্টিতে দেখেনি। এতে স্বৈরাচারী বাশার আল-আসাদের হাতকে শক্তিশালী করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। নীতিজ্ঞানসম্পন্ন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষিত ও সচেতন সমাজ প্রথম থেকেই ট্রাম্পের নির্বাচনকে সহজভাবে নিতে পারেনি। দিন দিন এখন এটি এক ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে বলে গণমাধ্যমসহ সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ।

এই সার্বিক বিষয়টিকেই প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত অভিশংসনসংক্রান্ত শুনানিতে তুলে ধরতে চেয়েছেন কংগ্রেসের হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডাম শিফ। তাঁর মতে, সোভিয়েত শাসন থেকে মুক্ত হওয়া একটি গণতন্ত্রকামী রাষ্ট্র অর্থাৎ ইউক্রেনকে প্রতিশ্রুত সামরিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত করে দুর্নীতি তদন্তের বানোয়াট শর্ত দিয়ে নিরীহ মানুষ মারতে সাহায্য করেছেন ট্রাম্প। ইউক্রেন সীমান্তে প্রতিদিন রাশিয়ার হাতে নিহত হচ্ছে অনেক নিরীহ ইউক্রেনবাসী। সেদিকে দৃষ্টি নেই ট্রাম্পের। তিনি সব নীতি-আদর্শ বর্জন করে নিজ রাজনৈতিক ও ব্যক্তি বা পারিবারিক স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ক্রমে ক্রমে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রে পরিণত করছেন বলে কংগ্রেসম্যান শিফ অভিযোগ করেছেন। তিনি শুনানি উদ্বোধনকালে প্রদত্ত এক বক্তব্যে বলেছেন, ‘এসব অপরাধের অভিযোগে যদি ট্রাম্পের অভিশংসন চূড়ান্ত না হয়, তবে আর কিসে হতে পারে?’ শুনানিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করার ব্যাপারে সমান সময় ও সুযোগ দিয়েছেন অ্যাডাম শিফ। এই চলতি শুনানি শেষ হলে হয়তো বা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে অভিশংনের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। তেমন একটি অবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী সবাই এখন অপেক্ষা করছে। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সময় কোনো শুনানি অনুষ্ঠানের আগেই পদত্যাগ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। আর অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অভিশংসনের উল্লেখযোগ্য অভিযোগ ছিল নারী ঘটিত; কিন্তু ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে দুর্নীতির, আইন ভঙ্গ করার এবং দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার। দেখা যাক, এই প্রকাশ্য অভিশংসন শুনানি যুক্তরাষ্ট্রবাসীকে কোথায় নিয়ে যায়।

 

লেখক : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক

[email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা