kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

অযোধ্যা ইস্যুতে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে!

সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



অযোধ্যা ইস্যুতে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে!

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর হাজার হাজার করসেবক অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছিল—‘মন্দির ওহি বানায়েঙ্গে’। গত ৯ নভেম্বর শনিবার শীর্ষ আদালতের পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ করসেবকদের দাবিকেই সিলমোহর দিয়ে দিলেন। সুতরাং অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতেই তৈরি হতে চলেছে রামমন্দির, যে ২.৭৭ একর জমিতে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল প্রায় সাড়ে ৪০০ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদ। মোগল সম্রাট বাবরের আমলে এই মসজিদটি তৈরি হয়েছিল। এই বাবরি মসজিদ ভাঙার জন্য বিজেপির প্রথম সারির Gang of five—এঁরা হলেন ৯১ বছরের লালকৃষ্ণ আদভানি, ৮৮ বছর বয়সী মুরলি মনোহর যোশি, ৭৫ বছর বয়সী উমা ভারতী, ৭৫ বছরের আরেকজন হলেন কালরাজ মিশ্র এবং তৎকালীন উত্তর প্রদেশের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং। এলাহাবাদ হাইকোর্ট এঁদের অপরাধ মারাত্মক বলে শাস্তি দিয়েছিলেন, শাস্তির বিরুদ্ধে এঁরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন, যেহেতু কল্যাণ সিং এখন বিজেপিশাসিত একটি রাজ্যের রাজ্যপাল, তাই এই Gang of five-এর বিচারব্যবস্থা থমকে গেছে।

এই মসজিদ ভাঙার আগেকার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গসহ সারা দেশে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়। রঞ্জন গগৈ ও তাঁর পাঁচ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ এই মন্দির ভাঙাটাকে জঘন্যতম অপরাধ ও সংবিধানবিরোধী বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা আরো উল্লেখ করেছেন, ১৯৪৯ সালে মসজিদের তালা ভেঙে সেখানে একটি রামের মূর্তি স্থাপন করে ফুল-মালা দিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতারা সেদিন থেকেই এই মসজিদকে রামের জন্মস্থান বলে উল্লেখ করে আন্দোলন শুরু করে দেন। নেহরু তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

মসজিদে তালা দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রাখার জন্য উত্তর প্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার পরেও আবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতারা রামের পূজা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও যখন গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেলেন যে আদভানি মসজিদ ভেঙে দেবেন, তখন বিরোধী দলনেতা অটল বিহারি বাজপেয়িকে ডেকে নরসিমা রাও মসজিদ না ভাঙার জন্য অনুরোধ করেন। পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে ঘোলাটে হচ্ছে দেখে নরসিমা রাও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়ে আদভানির কাছে পাঠান। ভূয়োদর্শী জ্যোতিবাবু কলকাতায় ফিরে এসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন—“আমি আদভানিকে প্রশ্ন করলাম আপনি কী করে জানলেন অযোধ্যার রাজা দশরথ ও তাঁর প্রথমা স্ত্রী কৌশল্যা ছাড়া আর তো কারো জানার কথা নয় যে ‘মিস্টার রাম’ ওখানে জন্মেছেন।”

উত্তরে আদভানি জ্যোতিবাবুকে বলেছিলেন, ‘এটা আমার ভাবনা’। জ্যোতিবাবু একটু ব্যঙ্গর সুরে বললেন, এটা আদভানির ‘ভাওনা’। আর ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর শীর্ষ আদালতের রায়েও বলা হয়েছে, এটা মানুষের বিশ্বাস। এত বড় ঘটনার কোনো ভাবনার ওপর নির্ভর করে কি সমাধান করা যায়। এই প্রশ্ন তুলেছিলেন দেশের বাঘা বাঘা আইনজীবীরা। এই রায়ের কঠোর সমালোচনা করে তাঁরা বলেছেন, প্রকৃত তথ্য ছাড়া কারো বিশ্বাসের ওপর  ভিত্তি করে এই রায় দেওয়া যায় না।

আরেক ধাপ এগিয়ে শীর্ষ আদালতের সাবেক বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলি বলেছেন—এই রায়ে তাঁর মনের মধ্যে অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অশোক বাবু ১০ নভেম্বর টেলিগ্রাফ পত্রিকায় এক প্রবন্ধও লিখেছেন।

৯ নভেম্বরের রায়ের বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৩৪ বছরের ইতিহাসনির্ভর সুদীর্ঘকালীন বিতর্কের স্থায়ী নিষ্পত্তির উদ্দেশ্য নিয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সাংবিধানিক বেঞ্চ অযোধ্যায় বিরোধীয় জমিতে মন্দির নির্মাণের পক্ষেই রায় দিলেন। পরিবর্তে ৫-০ সংখ্যাধিক্যে, অর্থাৎ পাঁচ বিচারপতি সবাই সর্বসম্মতভাবে যে রায় দিয়েছেন তাতে মুসলিমদের সন্তুষ্ট করতে ওই বিতর্কিত জমির অদূরে পাঁচ একর বিকল্প জমি বরাদ্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা বাহুল্য, সর্বোচ্চ আদালতের এই বহু প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক রায়ে আদৌ সন্তুষ্ট হতে পারেনি মুসলিম ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠন। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এবং মুসলিম ল বোর্ড উভয়ের পক্ষ থেকেই তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যক্ত প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, ‘আমরা সুপ্রিম কোর্টের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।’

‘সন্তুষ্ট না হওয়ার’ উপাদান অবশ্য আছে এক হাজার ৪৫ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যেই। ৪০ দিনের টানা শুনানি শেষে ৯২৬ ও ৯২৭ নম্বর পৃষ্ঠায় মূল অপারেটিভ অংশে লিপিবদ্ধ রায়ে বলা হয়েছে, অযোধ্যার এই বিতর্কিত জমিতে কস্মিনকালেও যে কোনো মন্দির ছিল না, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায় না। আবার ওই রায়ে এও বলা হয়েছে, যে কাঠামো ভেঙে বাবরি মসজিদ তৈরি হয়েছিল, তা কোনো মসজিদ ছিল না। এখানেই শেষ নয়, রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) অর্থাৎ ভারতের পুরাতত্ত্ব গবেষণার শীর্ষ সংস্থাও বলতে পারেনি সেখানে মন্দির ভেঙে মসজিদ হয়েছে। যদিও এই মামলায় হিন্দুদের পক্ষে বক্তব্যের মধ্যে মূল প্রতিপাদ্য কথাটাই ছিল, এই বিতর্কিত জমিতে ভগবান রামচন্দ্র জন্মেছিলেন। সে উপলক্ষে বহু বছর আগে রামমন্দির নির্মিত হয়েছিল। পরে ভারতে মুসলিম সম্রাটদের শাসনকালে সেই রামমন্দির ভেঙে সেখানে বাবরি মসজিদ করা হয়। সম্রাট বাবরের শাসনকালে নাকি মন্দির ভেঙে এই মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল। তাই নাম রাখা হয়েছিল বাবরি মসজিদ, যা ১৯৯২ সালে সঙ্ঘ পরিবারের নেতৃত্বে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এবং যার ফলে আরো সহস্র গুণ উসকে ওঠে দীর্ঘ ১৩টি দশকের সাম্প্রদায়িক বিতর্ক।

রায়ে মুসলিমদের পক্ষে ‘সন্তুষ্ট’ না হওয়ার কারণ হিসেবে আরো একটি বড় উপাদান হলো, রায়ে লিপিবিদ্ধ বক্তব্যে বিচারপতিরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, বিতর্কিত যে জমি আজ রামলালার হাতে তুলে দেওয়া হলো সেখানে মন্দির নির্মাণের উদ্দেশ্যে, সেই জমিতে মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে নামাজ পড়ত। রায়ের এই অংশ উল্লেখ করে পরে মুসলিম ল বোর্ডের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, মুসলিমদের নামাজ পড়ার জায়গাই তো মসজিদ। সেখানে চাক্ষুষভাবে মসজিদ কবে ছিল অথবা ছিল না, সেই বিতর্কের মধ্যে না গিয়েও বলা যায় নামাজ পড়ার জায়গাকে মসজিদ মনে করার অধিকার মুসলিমদের অবশ্যই আছে। তাই সেই কারণে ওই মসজিদ কাউকে হস্তান্তর করা যায় না। যেমন মেনে নেওয়া যায় না সেই মসজিদকে গুঁড়িয়ে দেওয়া। মুসলিম ল বোর্ডের এই যুক্তির সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করে এদিন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলিও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, নামাজ পড়ার স্থানকে মসজিদ মনে করার অধিকার খর্ব করা যায় না। কোনো একটি ধর্মবিশেষের মানুষদের বিশ্বাস অনুযায়ী একটা ঐতিহাসিক সৌধ ভেঙে দেওয়াকে যদি মেনে নেওয়া হয়, তাহলে তো দেশে আরো অনেক মসজিদ ভাঙা পড়বে। সংবিধান বেঞ্চে আরো একটি মন্তব্য সম্পর্কেও বিরাট প্রশ্ন উঠতে পারে, তা হলো—‘রাম যে অযোধ্যায় জন্মেছিলেন, হিন্দুদের এই বিশ্বাসের ওপর প্রশ্ন তোলা যায় না।’ আবার পরক্ষণেই একই রায়ের মধ্যে একই আদালতে একই বিচারপতিরা মন্তব্য করেছেন, ‘ধর্মবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আদালত রায় দিতে পারেন না।’

রায় বেরোনোর পর দৃশ্যত খুশি বিজেপি, যা প্রকাশ পায় এদিন করতারপুর সীমান্তে সকালে রায়ের অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচ্ছ্বসিত ভাষণে। অন্যদিকে সংখ্যাগুরু ভোটের কথা মাথায় রেখে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এদিন সরকারিভাবে যে মন্তব্য করা হয়েছে, তাতে রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘অযোধ্যায় ভগবান রামচন্দ্রের নামে মন্দির হচ্ছে, এটা জেনে জাতীয় কংগ্রেস খুশি।’

এদিন প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের সওয়াল ও দাবির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি তাঁর রায়ে বলেন, অযোধ্যায় বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমির মালিকানা আপাতত যাবে সরকারের হাতে। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার তিন মাসের মধ্যে একটি ট্রাস্ট বা অছি পরিষদ গঠন করে সেই জমির মালিকানা তাদের হাতে তুলে দেবে। সেই সঙ্গে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি থেকেই খানিক দূরে মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জমি দিতে হবে সরকারকে। এদিন রায় ঘোষণার আগে পুরাতত্ত্ব বিভাগের সাক্ষ্য ও প্রমাণের কথা বিশদে তুলে ধরেন বিচারপতি। তিনি বলেন, পুরাতত্ত্ব বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অযোধ্যায় মসজিদ খালি জমির ওপর তৈরি হয়নি। তার আগে একটি কাঠামো সেখানে ছিল। তবে সেই কাঠামো আদৌ মন্দির ছিল কি না, তা স্পষ্ট করে বলেনি পুরাতত্ত্ব বিভাগ। মসজিদটি বাবরই তৈরি করেছিলেন কি না তাও স্পষ্ট নয়। প্রধান বিচারপতি এও বলেন, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড জমির অধিকার চেয়ে মামলায় যে যুক্তি দিয়েছিল, তার কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আইনজ্ঞদের মতে, পুরাতত্ত্ব বিভাগের মতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। সেই সঙ্গে এমনভাবে ভারসাম্য রেখে রায় দিতে চেয়েছেন, যাতে দুই সম্প্রদায়ের ভাবাবেগকেই মর্যাদা দেওয়া যায়। সে কারণেই বিতর্কিত জমির মালিকানা সরকারের হাতেই আপাতত তুলে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের রায় বের হওয়ার পর নাগপুর থেকে আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত এক বিবৃতি জারি করে বলেছেন—মথুরা ও বৃন্দাবন থেকে মসজিদ সরিয়ে শ্রীকৃষ্ণের মন্দির তৈরি করা হবে। এবার তাঁরা এভাবেই হাঁটবেন।

বস্তুত ১৯৯৬, ১৯৯৭, ১৯৯৮, ২০০৪, ২০১৪ এবং ২০১৯ বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে তিনটি কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

১. জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২. অযোধ্যার রামমন্দির তৈরির বাধা দূর হলো। ৩. অভিন্ন আচরণবিধি, এরই মধ্যে আংশিক সফল হয়েছে। অর্থাৎ তিন তালাক তুলে দেওয়া হয়েছে, বাকি অংশটি আগামী সপ্তাহে সংসদে অধিবেশন শুরু হলে নতুন করে বিল আনা হবে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র ও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে কোন মুখে প্রতিবাদ করবেন? তিনি তো বিজেপির ওই কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করেই তাদের সঙ্গে আঁতাত করে বিজেপি সরকারে যোগ দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য একটাই—ভোটব্যাংক। অটল বিহারির শাসনকালে অযোধ্যায় প্রচুর মাটি খুঁড়ে দেখা গেছে সেখানে কোনো মন্দির ছিল না, ভূতাত্ত্বিক রিপোর্টে বলা হয়েছে—সেখানে পাওয়া গেছে ছোট ছোট কয়েকটি বৌদ্ধস্তূপ। এই রিপোর্ট ভূতত্ত্ববিদ আইএস অফিসার গৌরি চ্যাটার্জি তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানির হাতে দিলে তিনি বলেছিলেন, ‘এই রিপোর্ট আপনাকে জমা দিতে হবে না। চেপে যান।’ এ কথা আমার গৌরি চ্যাটার্জির মুখেই শোনা।

রায় বের হতেই সারা দেশের রাজনৈতিক অবস্থা, বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে বিজেপি সরকার গঠন করতে না পারায় সব কিছু থমকে গেছে। এই রায় এবং ভারতের পরবর্তী পরিস্থিতি ১৯৯২ সালের থেকেও খারাপের দিকে যাবে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

 

লেখক : পশ্চিমবঙ্গের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা