kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মত ও মন্তব্য

ফেসবুক অপব্যবহারে আরেক তাণ্ডব

হারুন হাবীব

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



ফেসবুক অপব্যবহারে আরেক তাণ্ডব

ফেসবুক এবং টুইটার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে সব দেশেই ছেলে-বুড়োদের একটি বড় অংশ জড়িত। শুধু আমাদের দেশেই নয়, প্রায় সারা বিশ্বেই এর ব্যাপক ব্যবহার হয়, কারণ মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে যে কেউ অসংখ্য মানুষের সঙ্গে মুহূর্তে নিজের কথা বা ছবি পৌঁছে দিতে পারে। তবে বাংলাদেশে টুইটারের ব্যবহার ফেসবুকের মতো ব্যাপক হয়ে ওঠেনি। মূলত ‘ফ্রেন্ডস অ্যান্ড রিলেটিভস’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও ফেসবুক মাধ্যমটি নানা সময়েই বিস্তর আলোচনায় এসেছে। কারণ এটি দিয়ে সুযোগসন্ধানীরা একদিকে যেমন ব্যবসা-বাণিজ্য করে, প্রায় নিখরচায় বিজ্ঞাপন প্রচার করে, অন্যদিকে নানা ধরনের অপপ্রচারও করে থাকে। অর্থাৎ যোগাযোগ-প্রযুক্তির অভাবিত বিকাশে মানুষ যেমন সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহার বেড়েছে। ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ায় এই অপব্যবহারের মাত্রাও বেড়ে গেছে। একটি ভালো বা নিরপরাধ যোগাযোগ মাধ্যমকে কিভাবে নষ্ট প্রবণতার দিকে ধাবিত করা যায়, কিভাবে এটি দিয়ে সামাজিক অস্থিরতা ও নানামুখী সংকট সৃষ্টি করা যায়—তার বহু দৃষ্টান্ত এরই মধ্যে স্থাপিত হয়েছে দেশে।

কয়েক বছর আগে কক্সবাজারের রামু ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফেসবুকের অপব্যবহার করে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করা হয়েছিল। বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়িসহ প্যাগোডা-মন্দির ধ্বংস করা হয়েছিল। পরে দেখা গেছে খুবই সুপরিকল্পিতভাবে জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে তাণ্ডব ঘটানোর অভিপ্রায়েই অপপ্রচারগুলো করা হয়েছিল! আবারও প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ভোলার বোরহানউদ্দিনে গত রবিবার। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্র্র্রদায়ের এক যুবকের বিচারের দাবিতে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে চারজন নিহত হন। দফায় দফায় ধাওয়াধাওয়ি ও সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক মানুষ আহত হন। এই অভাবিত সংঘর্ষের একপর্যায়ে উত্তেজিত মানুষ বোরহানউদ্দিন বাজারে ভাওয়ালবাড়ীর একটি মন্দির ও সাতটি ঘর ভাঙচুর করে।

রামু ও নাসিরনগরের ঘটনার সঙ্গে ভোলার ঘটনার যথেষ্টই মিল পাওয়া যায়। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রামুতে হামলা চালিয়ে লুটপাটসহ ১২টি বৌদ্ধ মন্দির ও ৩০টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে নাসিরনগরে রসরাজ নামে এক মৎস্যজীবীর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ এনে লোকজনকে খেপিয়ে তুলে ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলা চালানো হয়। আতঙ্কিত, বিপন্ন করা হয় ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষকে। ঠিক একইভাবে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তা থেকে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির একটি ‘স্ক্রিনশট’ ভাইরাল করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে বিপ্লবের ফেসবুক আইডি থেকে কে বা কারা মহানবী (সা.) সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ একটি মন্তব্য কয়েকজন ফেসবুক বন্ধুর কাছে পাঠায়। যাদের মেসেজ পাঠানো হয়, তারা এরপর তার ‘স্ক্রিনশট’ নিয়ে ফেসবুকে দেয়। শুরু হয় প্রতিবাদ। বিষয়টি এরই মধ্যে পুলিশের নজরে আসে। এ নিয়ে বিভিন্ন মসজিদ থেকে কয়েক দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিপ্লব চন্দ্র বোরহানউদ্দিন থানায় গিয়ে তাঁর আইডি ‘হ্যাক’ হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করে পুলিশ।

কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি থামানো যায়নি। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার উত্তেজনায় ওই যুবকের বিচার চেয়ে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ-সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। সমাবেশের জন্য পুলিশ প্রাথমিক অনুমতি না দিলেও পরে দেয়। তবে মিছিল করতে বাধা দেয়। মিছিল করতে না পেরে কয়েক হাজার মানুষ উত্তেজিত হয়। পরে পুলিশ এক স্থানীয় পীর সাহেবকে সেখান থেকে ঈদগাহ জামে মসজিদের দোতলায় নিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে—মাওলানাকে পুলিশ আটক করেছে। দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিল সমাপ্ত হয় বটে, কিন্তু আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ততক্ষণে বোরহানউদ্দিনের বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ এসে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপরও চড়াও হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ সদস্যরা মসজিদে ইমামের কক্ষে আশ্রয় নেন। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও মসজিদের দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। পরে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এর পরপরই সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করে। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, ধাওয়াধাওয়িতে উপজেলা সদর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি টিয়ার গ্যাসের শেল ও গুলির ব্যাপক শব্দ শোনা যায়।

ঘটনার পর থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে আহতদের ঢল নামে। মারা যান চারজন। জনতার ইটপাটকেল নিক্ষেপে ১০ পুলিশ সদস্যও আহত হন। এক পুলিশ কনস্টেবল বুকে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। তাঁকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন স্থানীয় একটি নূরানি মাদরাসার ছাত্র। অন্যজন পলিটেকনিকের।

বিগত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানের ঘটনাবলি বাদ দিলেও যে তিনটি বড় ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটে গেল তার দিকে দৃষ্টি রাখলে দেখা যাবে সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে অপব্যবহার করে কেউ না কেউ, কোনো না কোনো গোষ্ঠী পরিকল্পিত নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা করে আসছে। উদ্দেশ্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি। ধর্ম মানুষের আত্মা ও বিশ্বাসের বিষয়। কিন্তু ধর্মীয় আবেগ অনেক ক্ষেত্রেই সীমা বা যুক্তি ছাড়িয়ে যায়, যা যুক্তিগ্রাহ্য নয়। কারণ যেকোনো আবেগই সীমা ছাড়িয়ে গেলে সেই আবেগের মর্যাদা থাকে না। তা ছাড়া ধর্ম এমন এক সুপ্রতিষ্ঠিত শক্তিধর বিষয় যে কেউ তাকে আঘাত করার চেষ্টা করলেই তা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তবে মানুষের ধর্মীয় আবেগকে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ আঘাত করার চেষ্টা করে—তা অপরাধ। সেই অপরাধের বিচার করবেন আইন-আদালত। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার যে কোথাও কিছু ঘটলে বা ঘটানো হলেই উন্মাদনার সৃষ্টি করা হয়। যে উন্মাদনার শিকার হয় সাধারণ মানুষ।

ভোলার বোরহানউদ্দিনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যে যুবকের নামে অভিযোগটি করা হয়েছে তিনি নিজে তাঁর ফেসবুক আইডিটি ‘হ্যাক’ হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগ কতটা যুক্তিগ্রাহ্য বা নয়, তা প্রমাণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আছে, আইন-আদালত আছে। পত্রিকার প্রতিবেদনে দেখা গেল, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এ ব্যাপারে আশ্বস্তও করেছিলেন। কিন্তু একটি মহল পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করেছে। তারা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চেয়েছে। কোনো যুক্তি কাজ করেনি। মানুষকে খেপিয়ে তোলা হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বহিরাগতদের নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো না কোনো মহল ঘটনাটি ঘটিয়েছে। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে হঠাৎ হামলা করা হয়েছে। মসজিদ অবমাননা করা হয়েছে। পুলিশের এক সদস্যকে গুলি করা হয়েছে। যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের দুজনের মাথা ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে থেঁতলানো হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সমাবেশ বাতিলের ঘোষণা সত্ত্বেও সকাল থেকেই লোকজন ময়দানে সমবেত হতে থাকে। বিশেষ মহল থেকে ১৭টি মাইকও বসানো হয়, যাতে জোর প্রচার চালানো যায়। পুলিশ লোকজনকে সরিয়ে নিতে বললে উপস্থিত আলেমরা নিশ্চিত করেন, কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটবে না। বরিশালের অতিরিক্ত ডিআইজি ও অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করেন। এতে আশ্বস্ত হয়ে লোকজন ঈদগাহ ময়দান ত্যাগ করে। বক্তব্য শেষে পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ অন্য কর্মকর্তারা মাদরাসার একটি কক্ষে অবস্থান নেন। কিন্তু এরই মধ্যে অন্য একটি গোষ্ঠী ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করে মানুষকে নতুন করে উত্তেজিত করতে থাকে। হঠাৎ একদল লোক মাদরাসার অফিস কক্ষে অবস্থানরত কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত হয়ে পুলিশ ও কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ চলে। আক্রমণকারীদের গুলিতে পুলিশের একজন সদস্য গুরুতর জখম হন। গুরুতর আহত হন পুলিশের আরেক সদস্য। আহত হন বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি। এ পরিস্থিতিতে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আত্মরক্ষার্থে, উত্তেজিত লোকজনকে নিবৃত্ত করতে প্রথমে টিয়ার গ্যাস শেল নিক্ষেপ ও পরে শটগান চালায় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয় বলে জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন মহলের ধারণা, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে শুরু থেকে তৎপর থাকা সত্ত্বেও এবং কর্মসূচি স্থগিত করা সত্ত্বেও কোনো একটি স্বার্থান্বেষী মহল ধর্মকে পুঁজি করে একটি সামাজিক অস্থিরতা তৈরির অপপ্রয়াস চালিয়েছে। যা হোক, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ডিআইজি বরিশাল রেঞ্জকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

চারজনের মৃত্যুর ঘটনা শুধু দুঃখজনক নয়, নিন্দনীয়ও। ১৪ বছরের একটি বালকও নিহত হয়েছে। দুঃখজনক এই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো যদি কোনো না কোনো মহল নিছক উত্তেজনাকে ছড়িয়ে না দিত, যদি তারা যুক্তির ওপর ভর করত, সহনশীলতা দেখাত। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তা হয়নি।

বাংলাদেশ সাম্প্র্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, যদিও কখনো কখনো সেই সম্প্রীতি বিনষ্ট করার দুঃখজনক দৃষ্টান্ত ঘটেছে এই দেশে। এই দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান যুগের পর যুগ একসঙ্গে থেকেছে। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে। যতবারই এমন অঘটন ঘটেছে ততবারই দেখা গেছে ঘটনার পেছনে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর যোগসূত্র আছে। এই শ্রেণির প্রবক্তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তারা হয়তো ভাবে, এভাবেই তাদের মনোবাঞ্ছা পূরণ হবে! আমি জানি না কবে শেষ হবে এই আত্ম-সংহারক প্রবণতা।

যা হোক, ভোলার বোরহানউদ্দিনের পরিস্থিতি এখন শান্ত জানা গেছে। প্রশাসন ছয় দফা দাবি মেনে নিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। নতুন প্রতিবাদ সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। জেলা ও থানা থেকে এসপি ও ওসিদের প্রত্যাহার করার দাবি মানা হয়েছে। আহত লোকজনের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে বুঝতে অসুবিধা হয়, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কেন? এটি আইনের স্বাভাবিক আচরণ নয়।

যা ঘটেছে তা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। তবে ঘটনার শেষ শান্তিপূর্ণ সমাধান স্বস্তিদায়ক। কিন্তু এতেই সরকার, সমাজ ও প্রশাসনের উদ্বেগহীন থাকার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। সত্যিকার অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপব্যবহার রোধ করতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এবং এর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে প্রখর নজরদারি বলবৎ করতে হবে। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কিংবা মিথ্যা গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আরো প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির। অন্যথায় আরেকটি রামু, আরেকটি নাসিরনগর বা আরেকটি ভোলার জন্ম রোধ করা হয়তো অসম্ভব হবে।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও লেখক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা