kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আমলাতান্ত্রিক উপাচার্য ও প্রভাষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সংস্কার

কামরুল হাসান মামুন, আবু জাফর আহমেদ মুকুল, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, মো. মনিরুল ইসলাম, সুব্রত ব্যানার্জী

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন দিক চিন্তা করে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী স্বায়ত্তশাসন দিয়েছেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠিত বাকি সব বিশ্ববিদ্যালয় নিজ নিজ আইন দ্বারা স্বায়ত্তশাসিতভাবে পরিচালিত হয়। ইউজিসির ওয়েবসাইট অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১০৩টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বাণিজ্য ও অনিয়ম, উপাচার্যের পদত্যাগের জন্য শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, বুয়েটে আবরার হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষক লেজুড়বৃত্তিক অপরাজনীতি এবং ক্যাম্পাসে উপাচার্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রের শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়েছে, যা নিয়ে সরকার বিব্রত এবং শিক্ষা সেক্টরের জন্য খুবই দুঃখজনক ও কালো অধ্যায় বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। এ প্রসঙ্গে কয়েক সপ্তাহ আগে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী এম শহীদুল্লাহ একটি সংবাদপত্রকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত না।’ দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম একজন উপাচার্যকে শিক্ষাগত বিষয়ে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি সংকট মোকাবেলা করার মতো দক্ষতার ওপরও গুরুত্বরোপ করেন। আমাদের মনে হয়, বহির্বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থানের তুলনামূলক অবনমন, উচ্চশিক্ষার মান হ্রাস পাওয়া, অপ্রতুল বাজেটের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণায় অনাগ্রহ ইত্যাদি সমস্যার অন্যতম কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দুর্বল নেতৃত্বের উপস্থিতি। যোগ্য ও সৎ উপাচার্য প্রধানত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চলমান সমস্যা ও সমাধানের মাঝে দাঁড়িয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুবিধাবাদী মহলের লেজুড়ভিত্তিক দলীয় কর্মকাণ্ডে ক্ষমতার অপব্যবহার করার কারণে এবং তাদের আশ্রয়ে বেড়ে উঠে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় দানবে রূপান্তরিত হওয়া কিছু ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীর আগ্রাসনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে। একজন দক্ষ ও প্রাজ্ঞ উপাচার্য পারেন ছাত্র-ছাত্রীদের একটি মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিশ্বমানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দিতে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং দলীয় রাজনীতিতে ছাত্রদের সরাসরি অংশগ্রহণ বন্ধ করা হলে এ ধরনের সংকট তৈরি হবে না। এ ক্ষেত্রে ছাত্রসংসদকে ছাত্রদের কল্যাণের জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক মাঠ নয় যে এখানে প্রতিদিন সংকট হবে। এটা জ্ঞান আহরণের পবিত্র স্থান, যেখানে ছাত্ররা সুশিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষায় শক্তিশালী হবে এবং এটাই কাম্য। আর সুশিক্ষা ও নৈতিকভাবে সঠিক থাকলে যেকোনো সমস্যা সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করা যায়। কারণ সুশিক্ষিত ও মূল্যবোধের নাগরিকরা স্বভাবতই সামাজিক, অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক সচেতন।

সুতরাং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের যোগ্যতা হওয়া উচিত সর্বোচ্চ শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় প্রশাসনিক দক্ষতা। একজন উপাচার্য সরকার সমর্থক হলেও তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, নিয়ম-নীতি, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও জ্ঞানচর্চার ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত। বর্তমানে সেটা বেশির ভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত, যার কারণে দলকানা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্ষমতাসীন ছাত্রনেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে। তাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসক হিসেবে উপাচার্য নিয়োগ প্রদানের যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য নিজ বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ বা আইন অক্ষুণ্ন রেখে সরকারের উচিত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট বা সিনেটের মাধ্যমে উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালগুলোর মতো উপাচার্য নিয়োগের একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা। আর এই নীতিমালা অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগে যোগ্যতার অবশ্যই কিছু মাপকাঠি সন্নিবেশিত থাকবে, যেমন—একজন প্রার্থীর একাডেমিক ও প্রশাসনিক দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব ও নৈতিক মানদণ্ড, দেশপ্রেম ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার দক্ষতা, আন্তর্জাতিক প্রবন্ধ সংখ্যা, গবেষণা ও সেমিনারে অর্জন, সমাজে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ ইত্যাদি। কয়েকজন দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে সম্ভাব্য উপাচার্যপ্রার্থীদের সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নীতিমালার যোগ্যতার মাপকাঠি অনুযায়ী পয়েন্টভিত্তিক স্কোর করে প্রতিবেদনটি আমলাতান্ত্রিক মাধ্যমে না গিয়ে সরাসরি মহামান্য আচার্যের কাছে প্রেরণ করা। মহামান্য আচার্য সব দিক বিবেচনা করে সম্ভাব্য উপাচার্য তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উপাচার্য নিয়োগ প্রদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসংক্রান্ত ব্যতিক্রম চর্চাও উন্নত বিশ্বে রয়েছে। আমরা যদি পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করি, তাহলে দেখা যায় অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে রাষ্ট্রপ্রধান উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে থাকেন। কোথাও কোথাও রাষ্ট্রপ্রধান বা চ্যান্সেলর কর্তৃক একক ক্ষমতাবলে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। আবার এশিয়াসহ ইউরোপ-আমেরিকার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল বা উপাচার্য নিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠিত সার্চ কমিটি প্রার্থীর যোগ্যতা বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপাচার্যের প্যানেল তৈরি করে। এ ছাড়া আফ্রিকার ৫০ শতাংশ উপাচার্য নিযুক্ত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিল কর্তৃক, যেখানে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। উল্লেখ্য, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উল্লেখ্য সার্চ কমিটির মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে।

অনেকেই ভাবতে পারেন আমাদের দেশ তো উন্নয়নশীল, আমরা কেন উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করতে যাব? বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে রূপান্তরিত হবে। তাই বর্তমান সরকারের মানসম্মত শিক্ষার ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য উন্নত দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মডেলের সঙ্গে তুলনা বা চর্চার বিকল্প নেই। উন্নত বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা পদ্ধতি থাকে, সেখানে সরকার, মন্ত্রণালয় কিংবা আমলাদের কোনো হাত নেই। আমরা উপাচার্য নিয়োগ দিই আমলা আর গোয়েন্দা রিপোর্ট দেখে—এর চেয়ে হাস্যকর ব্যবস্থা পৃথিবীতে আর নেই বললেই চলে। সুতরাং উপাচার্যদের একক দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই; উপাচার্যরা অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতির স্বীকার। দায়টি আমাদের আমলাতান্ত্রিক উপাচার্য নিয়োগ পদ্ধতির। তাই এখন সময় এসেছে উপাচার্য নিয়োগ পদ্ধতির সংস্কার করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করা, যা বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকরা চিন্তা করতে পারেন, যার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন হবে।

স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স হিসেবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং নিজ দল থেকে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করেছেন, যা বাংলাদেশের জনগণ স্বাগত জানিয়েছে। একটি সংবাদপত্রের প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয় নবনিযুক্ত প্রভাষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ নিয়ে। এবার আসা যাক, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগের দুর্নীতি কিভাবে কমানো যায়? প্রভাষক পদ দিয়ে একজন প্রার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শিক্ষকতা শুরু হয়। আজকের একজন প্রভাষক সেহেতু ভবিষ্যতের অধ্যাপক, সুতরাং প্রভাষক নিয়োগপ্রক্রিয়ার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় একজন যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করতে হলে বর্তমান প্রভাষক নিয়োগ বোর্ড সংস্কার করা জরুরি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে এসএসসি বা এইচএসসির রেজাল্ট চাওয়ার মতো হাস্যকর, অপ্রয়োজনীয় এবং অবাস্তব শর্তও আমাদের দেশে জারি আছে। আবার বাংলাদেশ বাদে বিশ্বের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগ বোর্ডে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার থাকেন না; এমনকি আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে এ চর্চা নেই। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও ডিন তো সিন্ডিকেট সদস্য, তাই তাঁদের নিয়োগ বোর্ডে থাকা সংগত কারণে যৌক্তিক নয়। প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে নিয়োগ বোর্ডে কারা থাকবেন? আমরা উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্লেষণ করে দেখতে পাই, পাঁচ বা ছয় সদস্যবিশিষ্ট প্রভাষক নিয়োগ বোর্ড উপাচার্য কর্তৃক অনুমোদিত হয়, যেখানে থাকেন বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির সভাপতি ও বিভাগের সর্বনিম্ন তিনজন সিনিয়র শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দুজন এক্সপার্ট, তাঁর মধ্যে একজন দেশবরেণ্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং আর অন্যজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ, যা আচার্য কর্তৃক অনুমোদনকৃত। নিয়োগ বোর্ডের প্রত্যেক সদস্য শুধু মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করে নিয়োগপ্রার্থী সম্পর্কে মূল্যায়ন ও মতামত প্রকাশ করে বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির সভাপতির কাছে জমা দেবেন। নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি চাকরিপ্রার্থীদের মূল্যায়ন একীভূত করে সব সদস্যের স্বাক্ষর করিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে সিন্ডিকেট বা বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সভাপতির কাছে প্রেরণ করবেন, যা সভার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রার্থীরা নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। এভাবে প্রভাষক নিয়োগে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থিতিশীলতা আসবে এবং শিক্ষক নিয়োগে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্য কমে আসবে। আমরা আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে খুব আন্তরিক হয়ে উপাচার্যের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সংস্কার ও প্রভাষক নিয়োগ বোর্ড সংস্কারের নির্দেশনা দিয়ে উচ্চশিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।

লেখকবৃন্দ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা