kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্যক্তিত্ব

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যক্তিত্ব

মোহাম্মদ নজিবর রহমান

 

ঔপন্যাসিক মোহাম্মদ নজিবর রহমানের জন্ম পাবনা জেলার শাহজাদপুরে ১৮৬০ সালে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন সচ্ছল ছিল না। শাহজাদপুর ছাত্রবৃত্তি বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে ঢাকা নর্মাল স্কুলে ভর্তি হন। এ সময় তাঁর পিতৃবিয়োগ হয়। ছাত্র পড়িয়ে নিজ লেখাপড়ার খরচ জোগাতে থাকেন। এভাবে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে তিনি জলপাইগুড়ির একটি নীলকুঠিতে চাকরি করেন। পরে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে সিরাজগঞ্জের ভাঙ্গাবাড়ী মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়, সলঙ্গা মাইনর স্কুল ও রাজশাহী জুনিয়র মাদরাসায় চাকরি করেন। কিছুদিন পোস্ট-মাস্টারের দায়িত্বও পালন করেন। ১৮৯২ সালে তিনি নিজ গ্রামে একটি মক্তব স্থাপন করেন, যা পরে বালিকা বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। তিনি যখন সলঙ্গায় শিক্ষকতা করতেন সেখানকার হিন্দু জমিদার গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ করলে তিনি তার প্রতিবাদ করেন। ফলে সে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়। তিনি ইসমাইল হোসেন সিরাজীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রতী হন। ১৯১৪ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘আনোয়ারা’ লিখে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর অন্যান্য উপন্যাস : ‘প্রেমের সমাধি’, ‘পরিণাম’, ‘গরীবের মেয়ে’ প্রভৃতি। তিনি তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি সাহিত্যরত্ন উপাধি লাভ করেন। তাঁকে ঊনবিংশ শতাব্দীর বিকাশোন্মুখ মধ্যবিত্ত বাঙালি মুসলমান সমাজের প্রতিনিধি গণ্য করা হয়। তাঁর ‘আনোয়ারা’ উপন্যাসটি ‘বিষাদ সিন্ধু’র পর বাংলা সাহিত্যের জগতে ব্যাপক জনপ্রিয় একটি উপন্যাস। ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর তিনি মারা যান ।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা