kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্যক্তিত্ব

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যক্তিত্ব

লালন শাহ

বাউলসাধক, গীতিকার ও গায়ক লালন শাহর জন্ম ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুরে, মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে ১১৭৯ বাংলা সনের ১ কার্তিক। এ তথ্যটি পাওয়া যায় তাঁর মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পরে হিতকরী (১৮৯০) পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ নিবন্ধে। তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। নিজ সাধনাবলে তিনি হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের শাস্ত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করেন। তাঁর রচিত গানে সেই জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়। আধ্যাত্মিক ভাবধারায় তিনি প্রায় দুই হাজার গান রচনা করেন। তাঁর গান মরমি ব্যঞ্জনা ও শিল্পগুণে সমৃদ্ধ। সহজ-সরল শব্দময় অথচ গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্মস্পর্শী তাঁর গানে মানবজীবনের আদর্শ, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি কোনো জাতিভেদ মানতেন না। সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধিমুক্ত সর্বজনীন ভাবরসে সিক্ত বলে তাঁর গান বাংলার হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে সমান জনপ্রিয়। তাঁর ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’, ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি গান বাউলতত্ত্ব সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। একসময় তাঁর গান সাধারণ মানুষ ও নৌকার মাঝি-মাল্লাদের মুখে মুখে শোনা যেত। এখনো নানা অনুষ্ঠানে ও রেডিও-টেলিভিশনে নিয়মিত প্রচারিত হয়। বহু তীর্থ ভ্রমণ এবং সাধু-সন্ন্যাসীদের সঙ্গ লাভের পর ছেঁউড়িয়ার আখড়ায় বসেই তিনি আজীবন সাধনা ও সংগীতচর্চা করেন। তাঁর লেখা গানের কোনো পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়নি। শিলাইদহে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ লালন শাহর ২৯৮টি গান সংগ্রহ করেন এবং সেগুলো থেকে ২০টি গান তিনি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশ করেন। ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি মারা যান।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা