kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

ছাত্রসংগঠন এবং দায়িত্বশীল অভিভাবক

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



ছাত্রসংগঠন এবং দায়িত্বশীল অভিভাবক

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সভার মাধ্যমে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিরোধী দল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদচ্যুত করায় সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার তীর নিক্ষেপ শুরু করেছে। তবে দায়িত্বশীল সব মহলই এই অব্যাহতি প্রদানকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে যেসব হতাশা ও অনাস্থার অবস্থা তৈরি হয়েছে, তা থেকে ছাত্রসংগঠনকে আদর্শের ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছে। বেশির ভাগ মানুষই আশা করছে যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠনকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত না-ও হতে পারে। বিষয়টি এককভাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলেও চলবে না। দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্ররাজনীতি নামে যেসব ছাত্রসংগঠনের কর্মকাণ্ড রয়েছে, তাদের মধ্যেও একইভাবে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে সেই পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিতে হবে সেসব ছাত্রসংগঠনের অভিভাবক সংগঠনগুলোকে। তাহলেই দেশব্যাপী ‘ছাত্ররাজনীতি’ নিয়ে যে হতাশা ও সমালোচনা রয়েছে তার একটি ভালো প্রতিকার করা সম্ভব হতে পারে।

দেশে ছাত্ররাজনীতিতে অনেক আগেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল, মারামারি, টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা ধরনের অপরাধ জায়গা করে নিয়েছে। এই অপরাধের তালিকা এতটাই বিশাল যে সেই তালিকায় সরকার সমর্থক প্রায় সব কটি ছাত্রসংগঠন অভিযুক্ত হওয়ার মতো প্রমাণ রয়েছে। বাংলাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘রগকাটা’ ছাত্রসংগঠনের কথা যেমন রয়েছে আবার হল ও হোস্টেলে বোমাবাজি, অস্ত্রবাজি, প্রতিপক্ষকে হত্যা, নির্যাতন, হল দখল, টেন্ডার লুটপাট, চাঁদাবাজি ইত্যাদির সঙ্গে সব সময়ই ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের অনেকেই জড়িত ছিল। ছাত্রসংগঠনের অনেক নেতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছে। আবার অনেকে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে রাজনৈতিক দলের বড় বড় পদও লাভ করেছে। সত্যিকার অর্থে ছাত্রসংগঠনগুলো কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ছাত্ররাজনীতির নামে দখলদারি প্রতিষ্ঠা, অর্থকড়ি রোজগার, ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি ইত্যাদির মাধ্যমে যেভাবে পরিচিত হয়ে এসেছে, তাতে সাধারণ ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের অবস্থান এসব ছাত্রসংগঠনে প্রায় শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে। সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠনের দৌরাত্ম্য সব সময়ই এককভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল বা আছে। বিরোধী ছাত্রসংগঠন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়। এর মূল কারণ হচ্ছে আদর্শের চর্চা থেকে ছাত্রসংগঠনগুলো সরকারের লেজুড় বাহিনীতে পরিণত হওয়ায় তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা জায়গা করে নিতে থাকে। গত শতকে পঞ্চাশ-ষাটের দশকে যে ধরনের আদর্শের চর্চা ছাত্রসংগঠনগুলোতে ছিল, মূল রাজনৈতিক দল যেভাবে ছাত্রসংগঠনগুলোকে পরিচালিত করেছিল, তাতে মূলধারার ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের বিরূপভাজন হওয়ার মতো কোনো কর্মকাণ্ডে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন জড়িত হতো না। একমাত্র সরকারি ছাত্রসংগঠন হিসেবে এনএসএফকে তখন ছাত্র-ছাত্রীরা গুণ্ডা বাহিনী হিসেবে আখ্যায়িত করত। এনএসএফ কখনো সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সমর্থনপুষ্ট ছাত্রসংগঠন ছিল না। পক্ষান্তরে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের প্রতি সমর্থন বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর ছিল। বিশেষত ছাত্রসংসদ নির্বাচনে সেই সমর্থনের প্রভাব পড়ত।

স্বাধীনতার পর ছাত্ররাজনীতির অংশ হিসেবে ছাত্রসংগঠনগুলো নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় রাজনীতির মতো তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর জাতীয় রাজনীতিতে যে হত্যাকাণ্ড এবং ক্ষমতা দখলের ধারা সূচিত হয়, তা থেকে ছাত্রসংগঠন ও ছাত্ররাজনীতি বাদ পড়েনি। বাংলাদেশে রাজনীতিতে ছাত্রসংগঠনকে ব্যবহার করার ধারা প্রত্যক্ষভাবে শুরু হয়। তখন থেকেই শিক্ষাঙ্গনে সরকার সমর্থক ও সরকারবিরোধী সমর্থক ছাত্রসংগঠনের অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, বোমাবাজি ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার অবাধ লাইসেন্স ব্যবহার করতে থাকে। এই ধারা ক্রমেই প্রবলতর হয়েছে। ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ে অনেকের নাম এসেছে, যারা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি করতে পেরেছিল। সেই সুযোগ নিয়ে ছাত্রশিবির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের সমর্থন ও দখল বৃদ্ধি করার মাধ্যমে আরেকটি ধারা শুরু করেছিল, যা অচিরেই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রগকাটা, প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যা, ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করা ইত্যাদি ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আশি-নব্বইয়ের দশক এবং একুশ শতকের প্রথম দশকে দেখা গেছে। ১৯৯১ সালে দেশে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে পরিবর্তনের ধারা সূচিত হবে।

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল দেশের রাজনীতির হিসাব-নিকাশ এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কর্তৃত্ব ধরে রাখার অবস্থান থেকে সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠনকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে। ফলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠনের কর্মতৎপরতায় আইন না মানা, অর্থবিত্ত, প্রশাসনে কর্তৃত্ব, টেন্ডার, চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হল দখল এবং ডাইনিং হলে ফাও খাওয়া ইত্যাদি অপকর্মের সঙ্গে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়ার ধারা তৈরি হতে থাকে। ছাত্রসংগঠন এ সময় থেকে সংগঠনের নেতাকর্মীদের জন্য বৈষয়িক এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠার অভাবনীয় সুযোগ এনে দেয়। অনেক শিক্ষার্থী তখন থেকে সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠনে যুক্ত হয়, বিনিময়ে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা লাভ এবং রাজনীতিতে স্থান করে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। এই ধারায় এখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নেতাকর্মীদের সম্মুখে অবাধ সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে প্রলুব্ধ হয়ে অনেকেই এ দুটি সংগঠনে যুক্ত হয়, সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটলে অনেকেই সংগঠনও পরিবর্তন করতে দেরি করে না। এই ধারায় যুক্ত হওয়ার ফলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের কাজ হচ্ছে সর্বত্র নজরদারি প্রতিষ্ঠা করা, বিনিময়ে নিজেদের নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নেওয়া। আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে সব ধরনের কাজে, অপকর্মে ইনডেমনিটি লাভ করা।

প্রকৃতপক্ষে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগেরই লেখাপড়ার সঙ্গে তেমন কোনো সম্পর্ক থাকে না। তারা প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ছাত্রনেতা’ পরিচয়ে বছরের পর বছর অবস্থান করে, প্রশাসনের ওপর তাদের প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ইত্যাদির মাধ্যমে বিত্তশালী হয়ে ওঠে। ছাত্রসংগঠনের একটি পদ পাওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যেই বিরাট অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিষয়টি এখন সবারই জানা বিষয়। ফলে ছাত্রসংগঠন এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত, তা বাস্তবেই আদর্শবাদী কোনো ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যায় না। তবে সুবিধাবাদী ও আদর্শহীন ছাত্রসংগঠনের বেলায় বিষয়টি একেবারে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করে। কোনো অবস্থায়ই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রভাব বিস্তারকারী ছাত্রসংগঠন এখন আর শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় কিংবা দেশপ্রেম, জাতীয় আদর্শ, শিক্ষা-সংস্কৃতি ইত্যাদির দায় বহন করছে না। কিছু বাম ছাত্রসংগঠন থাকলেও সেগুলোর অবস্থান একেবারেই নামমাত্র। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে তাদেরও তেমন নিবিড় সম্পর্ক নেই। বেশির ভাগ সাধারণ শিক্ষার্থী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর শিক্ষাজীবন শেষ করার বাইরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তেমন কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয় না। ছাত্রসংগঠনগুলোও শিক্ষাঙ্গনে সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক কিংবা আদর্শিক রাজনৈতিক কোনো আলোচনাসভার কর্মসূচিও পালন করে না। ফলে এই মুহূর্তে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রসংগঠনের ভূমিকা কার্যতই সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠনের নাম ব্যবহার করে বা পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেওয়া। ফলে সরকারের ভাবমূর্তি শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই নয়, দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপকভাবে পড়ে। খুব গভীরভাবে চিন্তা করলে সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠন সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেয়ে বেশি কিছু যোগ করে না।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে এদল-ওদলকে দোষ দিয়ে মূল সমস্যা থেকে কেউই রক্ষা পাবে না। এর জন্য প্রয়োজন সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিকে নিজ নিজ ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রমকে সুস্পষ্ট নিয়ম-নীতিতে পরিচালিত করার উদ্যোগ নেওয়া। এ দুটি দলের ছাত্রসংগঠন যেন শিক্ষাঙ্গনে লেখাপড়া, শিল্প-সংস্কৃতি ইত্যাদি চর্চার অবাধ সুযোগের বাইরে কোনো ধরনের নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে না পারে, প্রশাসনের ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার উদাহরণ সৃষ্টি করতে না পারে, সেভাবেই পরিচালিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। যেসব সংগঠনের ছাত্রনেতা কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবে, তাদের দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের সম্মুখীন করার ব্যবস্থা করা হলে কেউই আইন ভঙ্গ করার সাহস দেখাতে পারবে না। আবার একইভাবে ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্ব থেকেও অব্যাহতি প্রদানের বিষয়টি স্বাভাবিক নিয়মে করার বিধান অনুসরণ করতে হবে। দেশে ছাত্রশিবির ও জঙ্গিবাদী কিছু ছাত্রসংগঠনের তৎপরতা রয়েছে। সেগুলোকে দেশের আইনের কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে। সামগ্রিকভাবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ছাত্রসংগঠন কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি যেন যোগদান করতে না পারে সে ব্যাপারে সব মহলকে তৎপর থাকতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার দর্শনে, নিয়ম-শৃঙ্খলায়, শিক্ষা-সাংস্কৃতিক পরিবেশে পরিচালিত হবে। সেখানে কোনো ছাত্রসংগঠন বা ব্যক্তির কর্তৃত্বে অবৈধ কর্মকাণ্ড চলতে পারে না। বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে ছাত্রসংগঠনগুলোর অভিভাবক সংগঠনের নেতা, শিক্ষক ও সমাজের সচেতন মহলকে। আমাদের শিক্ষার্থীরা আমাদেরই সন্তান, দীর্ঘদিন যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে পরিচালিত হয়েছিল, তাদের পথ হারানোর মূলে ছিল অভিভাবক সংগঠনগুলো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালনা পরিষদগুলো। এখন এসব অভিভাবকের দায়িত্ব হচ্ছে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা দিয়ে মানুষ করে গড়ে তোলা। কোনো অবস্থায়ই চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, অবৈধ অর্থবিত্তশালী হওয়া নয়। আমাদের এসব তরুণ শিক্ষার্থীই দেশের মেধা, মনন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ইত্যাদিতে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রাখে। তাদের সেভাবেই পরিচালিত হওয়ার পথ দেখাতে হবে।

 

লেখক : অধ্যাপক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা