kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্যক্তিত্ব

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যক্তিত্ব

নূর মোহাম্মদ শেখ

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ শেখের জন্ম নড়াইল জেলার মহিষখোলায় ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ সালে। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেসা। তিনি অল্প বয়সে মা-বাবাকে হারান, ফলে শৈশবেই ডানপিটে হয়ে পড়েন। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সপ্তম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা করেননি। ১৯৫৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করেন। ১৯৭০ সালে তাঁকে যশোর সেক্টরে বদলি করা হয়। এরপর তিনি ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে স্বাধীনতাযুদ্ধে যোগদান করেন। যুদ্ধ চলাকালে যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালে সুতিপুরে নিজস্ব প্রতিরক্ষার সামনে যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে তাঁকে অধিনায়ক করে পাঁচজনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্ট্যান্ডিং প্যাট্রল পাঠানো হয়। শত্রুর মর্টারের গোলা এসে লাগে তাঁর ডান কাঁধে। সঙ্গীরা তাঁকে বহন করে নিয়ে যেতে গেলে সবাই মারা পড়বে এই আশঙ্কায় তিনি রণক্ষেত্র ত্যাগ করতে রাজি হননি। পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্র; অন্যদিকে মাত্র অর্ধমৃত সৈনিক, সম্বল একটি রাইফেল ও সীমিত গুলি। তবু তিনি শত্রুপক্ষের এমন ক্ষতিসাধন করেন যে তারা তাঁকে বেয়নেট দিয়ে বিকৃত করে চোখ দুটি উপড়ে ফেলে। ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে তিনি মারা যান। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত হন।

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা