kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্যক্তিত্ব

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যক্তিত্ব

আয়েত আলী খাঁ

ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬ এপ্রিল ১৮৮৪ সালে। তাঁর বাবার নাম সবদর হোসেন খাঁ। ১০ বছর বয়সে তিনি অগ্রজ ফকির আফতাবউদ্দিন খাঁর কাছে সংগীত শিক্ষা শুরু করেন। পরে তিনি ভারতের মাইহারে গিয়ে বড় ভাই ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর কাছে সেতার ও সুরবাহার শেখেন। একই সঙ্গে সেখানে তিনি বাদনকৌশল ও রাগ রূপায়ণের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো আয়ত্ত করেন। শিক্ষা সমাপনান্তে তিনি মাইহার রাজ্যের সভাবাদকরূপে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৩৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমন্ত্রণে তিনি শান্তিনিকেতন যান এবং বিশ্বভারতীর যন্ত্রসংগীত বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিছুদিন পরে চাকরি ছেড়ে তিনি নিজ গ্রামে চলে আসেন। উচ্চাঙ্গসংগীতের ঐতিহ্যবাহী ধারাকে সচল রাখা, নতুনদের এর প্রতি আকৃষ্ট করা এবং বিশেষভাবে যন্ত্রবাদনের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘আলম ব্রাদার্স’ নামে একটি বাদ্যযন্ত্র তৈরির কারখানা খুলে গবেষণার মাধ্যমে কয়েকটি নতুন বাদ্যযন্ত্রও উদ্ভাবন করেন। মনোহরা ও মন্দ্রনাদ বাদ্যযন্ত্র দুটি তাঁর সৃষ্টি। তিনি সুরবাহার ও সরোদ যন্ত্রেরও নতুন রূপ দেন। বিশুদ্ধ রাগসংগীতের চর্চা, সংরক্ষণ ও প্রসারের জন্য তিনি ১৯৪৮ সালে কুমিল্লায় এবং ১৯৫৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলাউদ্দিন মিউজিক কলেজ নামে দুটি সংগীত প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। সংগীতে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে তিনি গভর্নর পদক, ১৯৬১ সালে তমঘা-ই-ইমতিয়াজ খেতাব এবং ১৯৬১ সালে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাইড অব পারফরম্যান্স লাভ করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন। ২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৭ সালে তিনি মারা যান। 

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা