kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যক্তিত্ব

অতুলপ্রসাদ সেন

কবি, গীতিকার ও গায়ক অতুলপ্রসাদ সেনের জন্ম ঢাকায় ২০ অক্টোবর ১৮৭১ সালে। বাল্যকালে বাবাকে হারিয়ে তিনি মাতামহ কালীনারায়ণ গুপ্তের আশ্রয়ে প্রতিপালিত হন। ১৮৯০ সালে প্রবেশিকা পাসের পর তিনি কিছুদিন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যয়ন করেন। পরে বিলেত থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে কলকাতা ও রংপুরে আইন ব্যবসা শুরু করেন। তিনি বঙ্গ-সাহিত্য সম্মিলন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন। রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও প্রথমে কংগ্রেসের সমর্থক ছিলেন, পরে লিবারেলপন্থী হন। সমগ্র জীবনের উপার্জিত অর্থের বৃহদাংশ স্থানীয় জনকল্যাণে ব্যয় করেন। বাংলাভাষীদের কাছে তিনি একজন সংগীতজ্ঞ ও সুরকার হিসেবেই পরিচিত। তাঁর গানগুলো প্রধানত স্বদেশি সংগীত, ভক্তিগীতি ও প্রেমের গান—এ তিন ধারায় বিভক্ত। তবে ব্যক্তিজীবনের বেদনা তাঁর গানে কমবেশি প্রভাব ফেলেছে। রবীন্দ্র-প্রভাববলয়ের মধ্যে বিচরণ করেও যাঁরা বাংলা কাব্যগীতি রচনায় নিজেদের বিশেষত্ব প্রকাশ করতে সক্ষম হন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম। ১৯০২ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত তিনি আইন ব্যবসা উপলক্ষে লখনউতে অতিবাহিত করেন। সেই সময় তাঁর বাংলোতে প্রায় সন্ধ্যায়ই গানের আসর বসত। সেই আসরে গান শোনাতে আসতেন আহম্মদ খলিফ খাঁ, ছোটে মুন্নে খাঁ, বরকৎ আলী খাঁ, আব্দুল করিম প্রমুখ। বাংলা সংগীতে তিনিই প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন। ‘মোদের গরব, মোদের আশা/আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটিতে তাঁর মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। এ গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। ১৯৩৪ সালের ২৬ আগস্ট তিনি মারা যান।

 

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা