kalerkantho

বিশেষ মর্যাদা বাতিল বিষয়ে কিছু কথা

নিষ্টুলা হেবার

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশেষ মর্যাদা বাতিল বিষয়ে কিছু কথা

রাজ্যের (জম্মু ও কাশ্মীর) সাংবিধানিক অবস্থা (বিশেষ মর্যাদা) বদলে দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়সংকল্প ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (অমিত শাহ)। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিবৃতি এ বিষয়ের ওপর বেশ কিছু পরিমাণে জরুরিত্ব আরোপ করেছে।

কিছু বিষয়ে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ অধিকার ছেঁটে ফেলা ও রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্বিন্যস্ত করা এবং সেখানে ভারতের সংবিধানের সব ধারা কার্যকর করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিগত কারণে নির্ধারিত হয়েছে।

সরকারের উচ্চমহলের বিভিন্ন সূত্রের বয়ান অনুযায়ী, ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করার ব্যাপারে সব সময় মতাদর্শিক তাগিদ বোধ করে বিজেপি (ভারতীয় জনতা পার্টি)। তবে এ ব্যাপারে অগ্রসর হওয়ার মনোবল প্রথম জুগিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের (জম্মু ও কাশ্মীর) সাংবিধানিক বিশেষ অবস্থা পরিবর্তন করার ব্যাপারে তাঁর দৃঢ় মনোভাব এবং ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যের বিরোধ মেটানোর বিষয়ে মধ্যস্থতা করার জন্য আমাকে বলেছিলেন’ মর্মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য বিবৃতির পর দুই সপ্তাহের ঘটনাবলি বিজেপি ও সরকারকে এ ব্যাপারে অগ্রসর হওয়ার জন্য আরো তৎপর করেছে।

যথারীতি কেন্দ্রীয় সরকার মিস্টার ট্রাম্পের সঙ্গে এ ধরনের কোনো আলোচনা বা শলার কথা অস্বীকার করেছে। কিন্তু সরকারি মহলে উপলব্ধিটা এমন ছিল যে কিছু একটা করতে হবে যাতে এমন ধারণা দেওয়া যায় যে তারা দৃঢ়ভাবেই মার্কিন মধ্যস্থতার বিরোধী এবং এ অবস্থানে তারা অনড়।

মেহবুবা মুফতির সরকারের ওপর থেকে এবং গভর্নরের শাসনের বিষয়ে বিজেপি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা রহিত করার লক্ষ্যে অনেক ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। সেসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি দমন ব্যুরো প্রতিষ্ঠা এবং জম্মু ও কাশ্মীর ব্যাংকে তল্লাশি অভিযান। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ছিল রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠান। 

এ ব্যাপারে এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর ভাষ্য হলো, সব সময়ই একটা ভাবনা ছিল—সংবিধানের ৩৫(ক) ধারা বাতিল করতে হবে এবং রাজ্যের সীমানা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করার কাজটি সম্পন্ন করে ফেলতে হবে; দেশের বাকি সব অঞ্চলে এ কাজ আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে।

অমিত শাহ সংসদের সরকারপক্ষীয় ফ্লোর ম্যানেজারদের বলে রেখেছিলেন, কী করে উচ্চকক্ষে (রাজ্যসভা) সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়া যায় সে বিষয়টি দেখতে। প্রসঙ্গত, রাজ্যসভায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স তথা এনডিএর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে তলে তলে একটা প্রক্রিয়া চলেছে। তেলেগু দেশম পার্টির রাজ্যসভা গ্রুপ বিজেপির রাজ্যসভা গ্রুপে শামিল হয়েছে। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লোকদলের রাজ্যসভা গ্রুপও বিজেপির গ্রুপের সঙ্গে সখ্য গড়েছে। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির এমপি নীরাজ শেখর ও সুরেন্দ্র নাগর রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

সংসদবিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও পিয়ূষ গয়াল এবং রাজ্যসভার এমপি ভূপেন্দ্র যাদব গত চার দিন ফোনের ওপরেই ছিলেন—সেই সব দলের লোকদের পক্ষে ভেড়াতে জম্মু ও কাশ্মীরের ব্যাপারে যেগুলোর মতাদর্শিক অবস্থান বিজেপির অবস্থানের কাছাকাছি। এনডিএ জোটসঙ্গীদের কানেও সমর্থন দেওয়ার কথা পাড়া হয়েছে এবং এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট হুইপদের তৎপর করা হয়েছে। সপ্তাহান্তে আইনমন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ বিভিন্ন বিলের নথিপত্র তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন। সেসব বিল সোমবার রাজ্যসভায় পাস হয়; দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিলগুলো পাস হয়। এক মন্ত্রী বলেছেন, নিরাপত্তার প্রতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হুমকিও ছিল। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব কিছু চুপিসারে, খুবই গোপনীয়তার সঙ্গে সারা হয়েছে। এত কিছু করার পেছনের মূলনীতি হলো স্বাধীনতা-উত্তর (কাশ্মীরের) বিশেষ মর্যাদাবিষয়ক ধারা সম্পূর্ণ রদ করা।

লেখক : ভারতীয় সাংবাদিক, দ্য হিন্দুর ন্যাশনাল ব্যুরোর রাজনীতি-সম্পাদক

সূত্র : দ্য হিন্দু (অনলাইন)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা