kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যক্তিত্ব

সন্তোষ গুপ্ত

কবি, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক সন্তোষ গুপ্তের জন্ম ঝালকাঠিতে ৯ জানুয়ারি ১৯২৫ সালে। ছেলেবেলায় বাবা ও কাকাকে হারান মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে। তাঁর মা কিরণবালা তাঁকে অনেক কষ্টে মানুষ করেন। মা হিন্দু বিধবাদের আচার-আচরণ মানলেও তিনি ছিলেন প্রগতিশীল। ছেলেবেলায় তাঁর বই পড়ার নেশা ছিল। একবার একনাগাড়ে রবীন্দ্রনাথের ৪৪টি কবিতা মুখস্থ বলে তিনি তাঁর শিক্ষক মহেন্দ্রবাবুকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন এবং উপহার পেয়েছিলেন সঞ্চয়িতা ও চয়নিকা। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিংয়ে আইজি প্রিজন অফিসে ১৯৪৪ সালে। দেশভাগের সময় বাংলাদেশে চলে আসার আগেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে। ঢাকায় এসে কারা বিভাগের আইজির অফিসে তাঁর পোস্টিং হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যেই দমননীতি নেমে আসে কমিউনিস্ট পার্টির ওপর এবং অনেকের সঙ্গে তিনিও গ্রেপ্তার হন। পার্টির মধ্যে অনুপ্রবেশকারী পুলিশি চরের বিশ্বাসঘাতকতায় তাঁর জেল হয়। জেল থেকে বের হয়ে ১৯৫৭ সালে সংবাদে যোগদান করেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। তাঁর লেখা ‘অনিরুদ্ধের কলাম’ পাঠক মহলে সমাদৃত ছিল। কবিতা, শিল্পকলা, চিত্রকলা, রাজনীতি, সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি ১৪টি বই লিখেছেন। ১৯৭১ সালে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য বিভাগে কর্মরত ছিলেন। কবিতা ছাড়াও তিনি শেলির কবিতা ও শেকসপিয়ারের সনেট অনুবাদ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : ইতিহাসের ঝর্ণাধ্বনি, অনালোকে আলোকস্তম্ভ। তিনি একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০০৪ সালের ৬ আগস্ট তিনি মারা যান।

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]

মন্তব্য