kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

ব্যক্তিত্ব

৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যক্তিত্ব

দীনেশ গুপ্ত

বিপ্লবী দীনেশচন্দ্র গুপ্তের জন্ম তৎকালীন ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ১৯১১ সালের ৬ ডিসেম্বর। এলাকায় তিনি ‘নসু’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা কলেজে অধ্যয়ন করেন। সাহসিকতাপূর্ণ কর্মতৎপরতার জন্য তিনি বিপ্লবী সংগঠন বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স (বিভি) বাহিনীর সাধারণ সদস্য থেকে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন। ঢাকা জেলায় এবং পরে ভারতের মেদিনীপুরে বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন। এ সংগঠনের প্রভাবেই বিপ্লবী দল মেদিনীপুরে একে একে তিন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সমর্থ হয়। ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর বিনয় বসুর নেতৃত্বে বাদল গুপ্ত ও তিনি কলকাতা রাইটার্স বিল্ডিংয়ে আক্রমণ চালিয়ে কারা বিভাগের অত্যাচারী ইন্সপেক্টর জেনারেল সিম্পসনকে হত্যা এবং অন্য কয়েকজন উচ্চপদস্থ ইউরোপীয় কর্মচারীকে গুরুতর আহত করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার এড়ানোর উদ্দেশ্যে তাঁরা উগ্র বিষপানে এবং নিজেদের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এতে বিনয় ও বাদলের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে বহু চেষ্টায় বাঁচিয়ে তোলা হয়। কিন্তু তাঁর দেশপ্রেম এতই গভীর ছিল যে বহু চেষ্টা করেও সরকার তাঁর কাছ থেকে কোনো স্বীকারোক্তি আদায় করতে পারেনি। পরে সরকারবিরোধী কার্যকলাপ ও হত্যার অভিযোগে বিচারে তাঁর ফাঁসির আদেশ হয়। ফাঁসির প্রতীক্ষায় থাকাকালে কারান্তরালে বসে কয়েকটি মূল্যবান পত্র লেখেন, যাতে বিপ্লবীদের বীরত্বগাথা, আত্মত্যাগের মহিমা এবং গভীর দেশপ্রেম ব্যক্ত হয়েছে। ১৯৩১ সালের ৭ জুলাই আলিপুর কারগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা