kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

কাটমানির কাঠগড়ায় তৃণমূল

সুখরঞ্জন দাসগুপ্ত

৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



কাটমানির কাঠগড়ায় তৃণমূল

এ যেন ডাক্তার দেবী শেঠির হার্ট সার্জারি! লোকসভা ভোটে গোহারা হেরে দুই বছর পর বিধানসভা ভোটেও যাতে একই রকম লেজেগোবরে না হতে হয়, তার জন্য এক দিনও দেরি না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে ডেকে পাঠালেন প্রশান্ত কিশোরকে। ভোট বৈতরণী পার করানোর ক্ষেত্রে অব্যর্থ চিকিৎসক বলে এরই মধ্যে খ্যাতি অর্জন করা শল্যচিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গেই লেগে পড়লেন রোগী নিয়ে কাটাছেঁড়ায়। নিদান বাতলে দিলেন তত্ক্ষণাৎ—তাঁর পরামর্শমতো শুরু হয়ে গেল অ্যাকশন।

সেই অ্যাকশন এখন চলতে থাকবে একটার পর একটা। রীতিমতো হার্ট সার্জারির মতোই প্রশান্ত কিশোরের এই চিকিৎসায় রাজ্যজুড়ে একটা বড়সড় ধরনের হৈচৈ ফেলে দেওয়ার দরকার ছিল। যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রেরই খবর, মমতার ‘কাটমানি’ নাট্য আসলে সেই তোলপাড় সৃষ্টিরই উদ্দেশ্যে।

ভোট মিটতে মমতা নজরুল মঞ্চে ডাকলেন দলের কাউন্সিলরদের বিশেষ বৈঠক। গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হাজার তিনেক দলীয় কাউন্সিলরের সভায় মমতা ফাটিয়ে দিলেন সেই বোমা! প্রশান্ত কিশোরের বানিয়ে দেওয়া সেই বোমা ফাটিয়ে দিয়ে মমতা ঘোষণা করলেন, তৃণমূলের যাঁরা এত দিন মানুষের কাছ থেকে কাটমানি খেয়েছেন তাঁরা সবাই এবার টাকা ফেরত দিন। কোনো বিরোধীপক্ষীয় নেতার মুখ থেকে নয়, খোদ মমতার মুখ থেকে প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে এ রকম বিস্ফোরক অভিযোগ এনে মমতা সেদিন তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন গোটা রাজনৈতিক মহলে। মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল মমতার সেই অবিশ্বাস্য; কিন্তু সেটা ছিল বিস্ময়ের সবেমাত্র শুরু। মমতার সেই ঘোষণার পরদিন থেকেই জেলায় জেলায় প্রতিদিন শুরু হয়ে গেল ‘কাটমানি-বিক্ষোভ’। না সিপিআই (এম), না কংগ্রেস, এমনকি না বিজেপি—কোনো বিরোধী দলের তরফ থেকেই শুরুর দিকে ছিল না এসব বিক্ষোভে কোনো রকম মদদ। কিন্তু তবু একটার পর একটা জেলায়, একটার পর একটা এলাকায় তৃণমূলের বাছা বাছা নেতা, নেত্রী, কাউন্সিলর, পঞ্চায়েতপ্রধান, সভাধিপতি থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের কর্তাব্যক্তিরা পর্যন্ত সবার বিরুদ্ধে শুরু হয়ে গেল কাটমানি-বিক্ষোভ। বাড়ি ঘেরাও, মারধর, লুটপাট ইত্যাদি ঘটনায় গ্রামে গ্রামে তৃণমূলের বিরুদ্ধে এক ব্যাপক হুল্লোড় শুরু হয়ে গেল। এখন যা চলছে এবং ক্রমেই তা বাড়ছে।

অতি সম্প্রতি এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব হাতে তুলে নিয়েছে বিজেপি। এর ফলে অতি দ্রুত গোটা রাজ্যে শাসকদল চিহ্নিত হচ্ছে ‘কাটমানি’র দল হিসেবে। এর ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়ে গেছে ব্যাপক গুঞ্জন। দলের নিচু থেকে ওপর পর্যন্ত তাবৎ নেতা ও কর্মীরা অবাক হয়ে দেখছে স্বয়ং দলনেত্রীর খুলে দেওয়া প্যান্ডোরার বাক্স থেকে বেরিয়ে আসা ‘কাটমানি দৈত্য’ গিয়ে খাচ্ছে গোটা তৃণমূল দলটাকে, আর তা নীরবে দেখে যাচ্ছেন দলনেত্রী। অথচ এর বিরুদ্ধে একটুও মুখ খুলছেন না দলনেত্রী। আর তিনি মুখ খুলছেন না বলে কাটমানি-বিক্ষোভের বিরুদ্ধে মুখে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না দলের অন্য নেতারা। শুধু এক দিন একবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় মিডিয়ার সামনে এক বিবৃতিতে বলেন, দলের ৯৯.৯৯ শতাংশ নেতাকর্মী সৎ। কিন্তু ওই পর্যন্তই! না তিনি, না দলের অন্য কেউ, না মমতা স্বয়ং। জেলায় জেলায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী অথবা বিরোধীদের উদ্যোগে অথবা কোথাও বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলতে থাকা কাটমানিসহ বিক্ষোভের বিরুদ্ধে একটা কথাও বলছেন না। এমনকি সোমবার থেকে শুরু হওয়া বিধানসভা অধিবেশনেও মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে ‘কাটমানি’।

বিধানসভায় বিরোধীরা আক্রমণের মূল লক্ষ্যে দাঁড় করিয়েছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ‘কাটমানি=সিএম’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে সভাকক্ষে তাঁরা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকেই রাজ্যে ‘কাটমানি’ কারবারের প্রধান কারবারি বলে চিহ্নিত করেছেন। শুধু তিনি নন, মুখ্যমন্ত্রীর ভাই, ভাতিজা ও পরিবারের অন্যদের তরফে বিশাল আর্থিক লুটপাট নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন এবং কাটমানি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি তুলেছেন।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে গোটা তৃণমূল দলটি এখন কাটমানির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো এক অভিযুক্ত চোরদের দল। এমনিতে ভোটে ভরাডুবির পর দলে দলে লোক তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে ঢুকে পড়ছে। তার ওপর এই কাটমানি-বিক্ষোভের দরুন জনমানসে গোটা তৃণমূল দলটাই এখন মস্ত ভিলেনে পরিণত। অথচ এর সবটাই শুরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সূচনা থেকে এবং তারপর এত কিছু ঘটে চলা সত্ত্বেও তিনি সম্পূর্ণ নির্বিকার, নিশ্চুপ। কিন্তু কেন? না তৃণমূলের লোকজন, না সাধারণ মানুষ, না মিডিয়া—কেউই ঠাহর করে উঠতে পারছে না গোটা বিষয়টার পেছনে মমতার কী উদ্দেশ্য।

অবশেষে মমতার ‘থিংকট্যাংক’ বলে পরিচিত ছোট্ট বৃত্তের গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এক ব্যক্তির সূত্রে জানা গেল, রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা এই কাটমানির মহাপ্রহসনের পেছনে আছেন মহানির্দেশক প্রশান্ত কিশোর। তিনি ভোটের বাজারে ভেলকি দেখাতে ওস্তাদ বলে এরই মধ্যে পরিচিত। ২০১৪ সালে দেশজুড়ে মহামোদি ঝড় তুলে কেন্দ্রে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠা প্রশান্ত কিশোরেরই কৃতিত্ব বলে সবাই জানে। এরপর উত্তর প্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে বিপুল সমর্থন নিয়ে বিজেপির সরকারে আসা প্রশান্ত কিশোরের পরিকল্পনামাফিক কৌশলেরই সুফল বলে মনে করে সবাই। আর সর্বশেষ অন্ধ্র। সেখানে তাঁরই ছকে দেওয়া স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী চন্দ্রবাবু নাইডুর মতো ডাকসাইটে শক্তিকে হারিয়ে রীতিমতো ঝড় তুলে বিজয় লাভ করলেন জগমোহন রেড্ডি। শোনা যায়, উদ্যোগটা নাকি ভাইপোর মস্তিষ্কপ্রসূত। লোকসভা ভোটে ভরাডুবির পর গোটা দলে পার্টির সবাই যখন হয় দুশ্চিন্তায় মুহ্যমান অথবা পদ্মশিবিরে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতিতে মগ্ন, তখন অভিষেক লেগে পড়লেন কিভাবে দলকে এই শোকসাগর থেকে তুলে এনে ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে জয় ধরে রাখা সম্ভব করা যায়। অভিষেকেরই ভাবনা অনুযায়ী মমতা রাজি হয়ে যান এবং ডেকে পাঠানো হয় প্রশান্ত কিশোরকে। পরদিনই তিনি চলে আসেন নবান্নে। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তাঁর সঙ্গে মমতার কথা বলার সময় দ্বিতীয় ব্যক্তি বলতে ছিলেন শুধু অভিষেক। মিডিয়ায় প্রচারিত হয় আগামী বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের হয়ে স্ট্র্যাটেজিস্টের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। নবান্নের বৈঠকে যোগ দিতে আসার আগেই এ রাজ্যের হালফিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মূল বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা নিয়েই এসেছিলেন। মমতার সঙ্গে ‘ডিল’ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নেমে পড়ে প্রশান্তর টিম। বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে সংগৃহীত নমুনা প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রশান্ত কিশোর বুঝে যান, এই মুহূর্তে তৃণমূল দলটা সব দিক থেকে একটা কালিমালিপ্ত চেহারায় পরিণত হয়েছে। এ থেকে দলকে উদ্ধার করে আবার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে দরকার এক বিশেষ ঝটকা। ঝটকার সেই দফাই হলো ‘কাটমানি’।

প্রশান্ত কিশোরের কৌশল হলো গোটা তৃণমূল দলটাই সম্পূর্ণভাবে ভাবমূর্তি খোয়ানো দলে পরিণত। এই দলের নিশ্চিত ভবিতব্য হলো দলের বেশির ভাগ অংশটাই চলে যাবে বিজেপিতে। আর যারা আপাতত বিজেপিতে চলে যাবে না তারাও ঢলে থাকবে পদ্মশিবিরের দিকেই। ফলে তৃণমূলের বর্তমান এই কাঠামো দিয়ে আর কিছু হওয়ার নয়। তাই প্রশান্ত কিশোরের কৌশল হলো—জনগণের কাছে চোর, বাটপার, লুটেরা, তোলাবাজ ও কাটমানি খাওয়ার মানুষ বলে প্রতিষ্ঠিত এসব বাজে লোক দল থেকে বিদায় হোক। আর দলকে দুর্নীতিমুক্ত ও সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন হিসেবে গড়ে তোলা এক নব কর্মযজ্ঞের সূচনা করা হোক, যার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন ‘মা মমতা’। প্রশান্ত কিশোরের লক্ষ্য হলো রাজ্যবাসীর কাছে এটাই প্রতিষ্ঠা করা—তৃণমূল চোর আর মমতা ‘চোর-তাড়ুয়া’। ভোটবিশারদের ছকে দেওয়া সেই চিত্রনাট্য অনুযায়ীই নিপুণ ভঙ্গিমায় অভিনয় করে চলেছেন মমতা।

টাকার অঙ্কটা নাকি ৪০০ কোটি। এবারের লোকসভা ভোটে গোহারা সত্ত্বেও ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে জিতিয়ে দিতে দাওয়াই বাতলানোর ডাকসাইটে ওঝা প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে ডিল হয়েছে নাকি ৪০০ কোটি টাকার। কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ওঝা। তাঁর প্রথম দাওয়াই অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাটমানি খাওয়া তৃণমূল নেতাদের অবিলম্বে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সুপরিকল্পিত এই নাটুকে ঘোষণা অনুযায়ী এরই মধ্যে রাজ্যের জেলায় জেলায় কাটমানি খাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে মারমুখী বিক্ষোভ ক্রমেই উত্তাল হয়ে উঠছে, যার ফলে গোটা তৃণমূল দলটাই লাটে ওঠার জো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে প্রশান্ত কিশোরের এই ঘোষণা করানোর উদ্দেশ্য ছিল, তৃণমূল দলটা এরই মধ্যে জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত ও ঘৃণিত বলে পর্যবসিত। এই অবস্থা থেকে উঠে এসে নতুন করে দলকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে প্রশান্ত কিশোরের দাওয়াই অনুযায়ী দরকার তৃণমূলের বেশির ভাগ লোক চোর, জোচ্চোর, তোলাবাজ ও কাটমানি খাওয়া লোক হলেও তিনি অর্থাৎ দলে একমেবাদ্বিতীয়ম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগাপাশতলা সৎ। নিজেকে সততার প্রতিমূর্তি হিসেবে প্রমাণিত করতে গিয়ে প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ অনুযায়ী মমতা বাজারে ছেড়েছিলেন তাঁর কাটমানি ঢপ। কিন্তু সেই ঢপ যে এ রকম রাক্ষুসে চেহারা নিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই গোটা তৃণমূল দলটাকে গিলে ফেলার উপক্রম করবে, তা বুঝে উঠতে পারেননি মমতা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোকেরা। বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূলের নেতানেত্রীরা তো বটেই, মমতার চারপাশে ঘিরে থাকা তাঁর ঘনিষ্ঠতম নেতারাও মমতাকে কাটমানি ঘোষণার এই উল্টো বিপত্তি সম্পর্কে তাঁদের আতঙ্কের কথা জানান। তাঁরা প্রত্যেকেই দলনেত্রীকে বলেন, কাটমানি ঘোষণার ফলে দলের আখেরে ভালো হবে—এমন কোনো ইঙ্গিতই তো দেখা যাচ্ছে না, বরং গ্রামে গ্রামে গোটা তৃণমূল দলটাকেই যেভাবে কাটমানি আতঙ্ক গ্রাস করে ফেলেছে, তাতে অচিরেই দলটাই উঠে না যায়। তাঁরা অবিলম্বে মমতাকে গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখতে বলেন, কিভাবে এই কাটমানি-জাল দ্রুত গুটিয়ে ফেলা যায়। প্রশান্ত কিশোরের যে পরামর্শে কয়েক সপ্তাহ আগে মমতা এই কাটমানি নাটকের অবতারণা করেছিলেন, তাতে সে সময় এর সুফল সম্পর্কে নিশ্চিত হলেও এখন দলনেত্রীর মনোভাব দলের অন্যদের সমান। তাঁর মনেও এখন গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে, এভাবে দলের নিচের তলার সবাইকে ‘চোর’ প্রমাণ করে কিছুতেই দলের ভাবমূর্তি ফেরানো সম্ভব নয়, বরং এর উল্টো ফলই ঘটে চলেছে। এই সংশয়ের অবস্থান থেকে তিনি আবার ডেকে পাঠান প্রশান্ত কিশোরকে। সেই মতো নবান্নে হাজির হন প্রশান্ত কিশোর। রুদ্ধদ্বার কক্ষে তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসেন মমতা ও অভিষেক।

রুদ্ধদ্বার সেই বৈঠকে সঠিক কী কথা হয়েছিল, তা না মমতা-অভিষেক, না প্রশান্ত কিশোর কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবে বৈঠক শেষে সবারই যে উদ্বিগ্ন মুখমণ্ডলের ছবি মিডিয়াম্যানদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাতে দেখা যায়, মমতা-অভিষেক ও প্রশান্ত কিশোর সবাই এ নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত। তবে তাঁরা কিছু না বললেও এরই মধ্যে গোটা তৃণমূল দলে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে দলনেত্রীর এই কাটমানি নাট্যের বিরুদ্ধে। মুখে বলার সাহস না থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু আড়ালে তাঁরা প্রত্যেকেই বলছেন, লোকসভা ভোটে ব্যাপক পরাজয়ের পরও দলের যেটুকু অস্তিত্ব ছিল তা-ও ডুববে মমতার এই স্বখাত কাটমানি সলিলে।

এদিকে প্রশান্ত কিশোরের সাহায্য নিয়ে ২০২১ সালে তৃণমূলের ভোট বৈতরণী পার করার এই উদ্যোগকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেছেন, কে এই প্রশান্ত কিশোর? সুপার চিফ মিনিস্টার নাকি তিনি? উত্তর প্রদেশে সপা-কংগ্রেসকে এ-ই তো ডুবিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘প্রশান্তকে ৪০০ কোটি টাকা না দিয়ে স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ একদিকে তিনি পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ, অন্যদিকে রাজ্যে সরকারি হাসপাতালগুলো লাটে ওঠার জোগাড়।

লেখক : পশ্চিমবঙ্গের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

মন্তব্য