kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সড়ক দুর্ঘটনা ও ট্রাফিক অব্যবস্থাপনায় করণীয়

এ কে এম শহীদুল হক

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



সড়ক দুর্ঘটনা ও ট্রাফিক অব্যবস্থাপনায় করণীয়

আমি একবার আমার এক বন্ধুকে নিয়ে ব্যাংকক থেকে কুয়ালালামপুরে রওনা দিলাম। থাইল্যান্ডের রাজধানী শহর এবং মালয়েশিয়ার রাজধানী শহরের মধ্যে দূরত্ব এক হাজার ৪৭৩ কিলোমিটার। সড়কপথে ভ্রমণ করলে অনেক শহর ও গ্রামের দৃশ্য দেখা যাবে, আবার ভ্রমণ খরচও কম হবে। তাই বাসযোগে রওনা হলাম। বাস ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের  ঠিক  পাঁচ-সাত মিনিট আগে সাদা সাফারি পরিহিত মধ্যম বয়সের এক লোক বাসের চালকের সিটে এসে বসলেন। তিনি প্রায় পাঁচ মিনিট তাঁর নিজ ধর্ম মোতাবেক সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে স্তুতিবাক্য পাঠ করলেন। সৃষ্টিকর্তার কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করে সেজদার আদলে গাড়ির স্টিয়ারিং কপালে স্পর্শ করলেন। যাত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাস চালানো শুরু করলেন। আমি বলছি ১৯৯৩ সালের কথা। প্রায় ২৫ বছর আগের স্মৃতি। তখন আমি কম্বোডিয়ায়  জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কর্মরত ছিলাম। ছুটি কাটানোর জন্য থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া ভ্রমণ করি। চালক প্রায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে একটি রেস্টুরেন্টের সামনে  থামালেন। গাড়ির কন্ডাক্টর যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে রেস্তোরাঁয় কিছু খেয়ে নিতে অনুরোধ করেন। প্রায় আধাঘণ্টা বিরতির পর বাস আবার চলা শুরু করল। এবার নতুন  চালক। নতুন চালকও একইভাবে প্রার্থনা করে গাড়ি চালাতে শুরু করলেন। প্রথম চালক তাঁর পুরো সময় অত্যন্ত সতর্কভাবে ঠাণ্ডা মাথায় পারদর্শিতার সঙ্গে সাধারণ গতিতে গাড়ি চালিয়েছেন। আমরা যাত্রীরা বেশ নিরাপদ বোধ করছিলাম। দ্বিতীয় চালকও একইভাবে গাড়ি চালিয়ে তাঁর নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছেন।

আমি লক্ষ করলাম চালকদ্বয় অত্যন্ত দক্ষ, পেশাদার, দায়িত্বশীল ও মার্জিত। তাঁরা সৃষ্টিকর্তার কৃপা প্রার্থনা করে যাত্রা শুরু করলেন এবং সারা রাস্তায় যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালালেন। অথচ ২০১৯ সালে এসেও আমাদের দেশের চালকদের মধ্যে সেই রকম পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ, কর্তব্যের প্রতি অনুরক্তি ও সচেতনতাবোধ সৃষ্টি হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনার বহুবিধ কারণ থাকলেও চালকদের অবহেলা, অদক্ষতা, দায়িত্বহীনতা, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো এবং নিরাপত্তাজ্ঞানের অভাবের কারণে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

গত ১৯ মার্চ রাজধানীর প্রগতি সরণিতে সুপ্রভাত  পরিবহনের একটি বাস সকাল ৭টায় জেব্রা ক্রসিংয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ছাত্র আবরারকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। গত বছর ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে একটি বাস দুজন শিক্ষার্থীকে চাপা দিয়ে হত্যা করার পর শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেছিল। তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিল। আবরারের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

জেব্রা ক্রসিং পথচারীদের জন্য। এখানে পথচারীরা অগ্রাধিকার পাবে। পথচারীদের দেখলে গাড়ি থেমে যাবে। পথচারীদের পারাপারের পর গাড়ি চলবে। আমাদের দেশের চালকরা তা জানে না অথবা জেনেও মানে না। ট্রাফিক আইনের এটা গুরুতর লঙ্ঘন।

যেকোনো অকালমৃত্যু বড়ই মর্মান্তিক। মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করে। সন্তানহারা মা-বাবাই  একমাত্র উপলব্ধি করতে পারেন সন্তান হারানোর কী ব্যথা, কী কষ্ট। তাঁদের হৃদয়ের হাহাকার কোনো কিছুর বিনিময়েই মোচন করা যায় না। একটি স্বপ্নের অকালমৃত্যু, যা কোনো কিছু দিয়েই পূরণ হয় না। আর কোনো পরিবারের উপার্জনক্ষম কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে গোটা পরিবার চরম বিপদ ও অসহায়ত্বের মধ্যে নিমজ্জিত হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় এমন অকালমৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্যই নয়, এ আন্দোলন গোটা দেশবাসীর নিরাপত্তার জন্য, মানবতার জন্য। ঘর থেকে বের হয়ে কারো সন্তানই যেন লাশ হয়ে ফিরে না আসে তার জন্য আন্দোলন। কিন্তু এ আন্দোলন করেই কি সড়ক নিরাপদ করা যাবে? তা হয়তো হবে না। কিন্তু সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেককে তো নাড়া দেবে। সে নাড়া থেকে কিছু একটা করার তাগিদ তাদের মধ্যে জাগবে। আর সে তাগিদ থেকেই সমস্যা সমাধানের একটা পন্থা বের হবে—এ প্রত্যাশাই সবার।

পরিবহন সেক্টরের যে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা ও বহুবিধ সমস্যা, তার ব্যাপকতা অনেক বিস্তীর্ণ, অনেক গভীরে। এ সমস্যার সমাধান তড়িঘড়ি করে হবে না। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া পরিবহন সেক্টরের সমস্যার ক্ষেত্রকে সংকুচিত করা সম্ভব নয়। আর এ জন্য সমস্যার প্রধান প্রধান কারণ চিহ্নিত করে তার ভিত্তিতে সমাধানের পথ খুঁজে নিতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনা ও ট্রাফিক বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী কারণগুলো হলো—অদক্ষ, অপ্রশিক্ষিত ও বেপরোয়া চালক, চালকদের অজ্ঞতা, দায়িত্বহীনতা, অসংবেদিতা, অসচেতনতা, অধিক গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ  ওভারটেকিং এবং ব্যক্তিনিরাপত্তা জ্ঞানের অভাব। এ ছাড়া চলাচলের অযোগ্য, ঝুঁকিপূর্ণ ও অননুমোদিত  যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, একই রাস্তায় দ্রুত ও ধীরগতির গাড়ি চলাচল, যেখানে-সেখানে গাড়ি থামানো, আইন প্রয়োগের শিথিলতা, অস্বচ্ছতা ও প্রতিবন্ধকতা, আইন না মানার সংস্কৃতি, নাগরিকদের সচেতনতার অভাব, নিজেদের নিরাপত্তার প্রতি উদাসীনতা, ফুট ওভারব্রিজ ও জেব্রাক্রসিং ব্যবহার না করে যত্রতত্র রাস্তা পার হওয়া ইত্যাদি।

দক্ষ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, পেশাদার, সচেতন, দায়িত্বশীল, সংবেদনশীল পরিবহন শ্রমিক তৈরি করা সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনা অন্তত ৭০ শতাংশের বেশি হ্রাস পাবে। যে চালকের কাছে একটি গাড়ি এবং সে গাড়িতে যাত্রী পরিবহনের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হবে, তাকে অবশ্যই মানসিক ও শারীরিকভাবে যোগ্য চালক হতে হবে। দক্ষ, পেশাদার ও দায়িত্বসচেতন চালক অপরিহার্য। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই চালক তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে চালকদের সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলাও জরুরি। দক্ষ ও পেশাদার চালক তৈরির দায়িত্ব ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুকারী সংস্থারই নেওয়া বাঞ্ছনীয়। যোগ্য চালক নিয়োগ দেওয়া, তাদের ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা,  চালক ও হেলপারদের উপযুক্ত বেতন-ভাতা, বোনাস ও প্রণোদনা প্রদান এবং তাদের  কল্যাণ দেখার দায়িত্ব মালিক ও শ্রমিক সংগঠন এবং সড়ক পরিবহন কম্পানিগুলোকেই  নিতে হবে।

গাড়ির ফিটনেস দেওয়ার ব্যাপারে বিআরটিএকে শতভাগ স্বচ্ছ হতে হবে। চলাচলের অযোগ্য কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ি যেন কোনোক্রমেই ফিটনেস সনদ না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ যানবাহন অবশ্যই সড়ক থেকে উঠিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলতে হবে।

সড়ক ও মহাসড়কে যেসব ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা হয় সংশ্লিষ্ট সড়ক প্রকৌশলীদের সে ত্রুটিগুলো দূর করে সড়ককে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে হবে। মহাসড়কগুলোতে রিকশা, ভ্যান, ঠেলাগাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন যেমন—নছিমন, করিমন, ভটভটি ইত্যাদির চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে অথবা তাদের জন্য আলাদা লেন করে দিতে হবে।

চালক ও নাগরিকদের মধ্যে আইন মানার সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। চালকরা মোটরযানসংক্রান্ত আইন-কানুন যথাযথভাবে মেনে চলবে এবং পথচারী তথা নাগরিকদের ব্যক্তিনিরাপত্তার জন্য বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হবে। সবাইকেই নিজের ও অন্যের নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। পেশাদার, নিরাপত্তা  সচেতন,  দায়িত্ববান, নিজের ও অন্যের নিরাপত্তার প্রতি সংবেদনশীল এবং বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন চালকই পারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে। একইভাবে  নিরাপত্তাসচেতন নাগরিকরা পারে নিজেকে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে। এ লক্ষ্যে সচেতনতামূলক প্রচারণা সর্বদাই বিভিন্ন উপায় ও কৌশলে অব্যাহত রাখতে হবে। শিশু-কিশোর-তরুণদের ট্রাফিক আইন ও নিরাপত্তা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান দান করতে হবে। পরিবার ও  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নাগরিকদের সচেতন করার জন্য গণমাধ্যমের  প্রচারণা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। 

স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কর্মসূচি

স্বল্পমেয়াদি কর্মসূচির মধ্যে বৈধ লাইসেন্সধারী চালকদের জন্য কমপক্ষে সাত দিনের সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক এবং আইন-কানুন ও বিধি-বিধানের ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়। যেসব চালকের বৈধ লাইসেন্স নেই অথবা আদৌ কোনো লাইসেন্স নেই অথচ নিয়মিত গাড়ি চালায়, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় প্রয়োজনে লাইসেন্স প্রদানের শর্ত কিছুটা শিথিল করে পরীক্ষা নেওয়া যায়। উত্তীর্ণদের লাইসেন্স ইস্যু করে কমপক্ষে সাত দিনের সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক  প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কেউ গাড়ি চালালে তার বিরুদ্ধে আইনের কঠোর বিধান থাকা প্রয়োজন।

আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ এবং চলাচলের অযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন জব্দ করে ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (Bus Rapid Transit-BRT) প্রবর্তন করে বাসের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

চালকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। তাদের প্রয়োজনীয় বিশ্রামের সুযোগ দিতে হবে। একনাগাড়ে পাঁচ-ছয় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কোনো চালককে গাড়ি চালাতে দেওয়া উচিত নয়। প্রত্যেক গাড়িতে দুজন চালক নিয়োজিত করতে হবে। মাদকাসক্তদের  অবশ্যই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার অনুপযোগী ঘোষণা করতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা আনয়নের জন্য রুটভিত্তিক পরিবহন চলাচল পদ্ধতি বাতিল করে একাধিক সীমিতসংখ্যক কম্পানি গঠন করা প্রয়োজন। কম্পানির অধীনে যানবাহন পরিচালিত হবে। গাড়ির মালিকরা কম্পানির কাছ থেকেই মুনাফা নেবে। চালক ও শ্রমিকরা কম্পানির অধীনে চাকরি করবে। চালক, শ্রমিক ও কর্মচারীর চাকরি এবং তাদের আচরণ কম্পানি কর্তৃক প্রণীত চাকরি বিধিমালা মোতাবেক নিয়ন্ত্রিত হবে। কম্পানি তাদের বেতন-ভাতা, বোনাস, ইউনিফর্ম, পেনশন ইত্যাদি প্রদান করবে। ব্যক্তিগতভাবে  মালিকের সঙ্গে চালকদের কোনো পেশাগত সম্পর্ক থাকবে না। এতে চালকদের চাকরির নিশ্চয়তা থাকবে, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের জবাবদিহিও থাকবে।

কম্পানিগুলোর পরিচালনা, যাত্রী নিরাপত্তা ও সবার মানোন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে একটি তদারকি ও পরামর্শক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি

দক্ষ চালক তৈরির জন্য প্রচলিত বিধানের সংস্কার এবং সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ স্কুল নির্মাণ এবং প্রশিক্ষক ও জনবলের মঞ্জুরি দিতে হবে।

মহানগর ও বড় বড় শহরগুলোতে উন্নত দেশের মতো আধুনিক ডিজিটালাইজড ট্রাফিক ও নিরাপত্তা নজরদারির ব্যবস্থা চালু করলে ট্রাফিক শৃঙ্খলা উন্নত হবে এবং দুর্ঘটনাও কমে যাবে। সব যানবাহন ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনলে চালকরা ভয়ে আইন ভঙ্গ করে বেপরোয়া গাড়ি চালাতে সাহস পাবে না।

রাস্তা, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ যেমন—ফ্লাইওভার, মেট্রো রেল, সাবওয়ে, ওভার পাস, আন্ডারপাস, চার-ছয় লেনে  সড়কের প্রশস্তকরণ, রেলপথ ও নৌপথের উন্নয়ন ইত্যাদি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এরই মধ্যে এসব প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

সড়ক ও মহাসড়কে বাস-বে, সার্ভিস রোড, পর্যবেক্ষণ ও স্পিড ক্যামেরা স্থাপন অপরিহার্য। প্রয়োজনে উড়াল সেতু, ওভারপাস, ইউলুপ ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামত অব্যাহত প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখতে হবে। 

তবে যত ব্যবস্থাই নেওয়া হোক না কেন সংশ্লিষ্ট সবাই সচেতন না হলে, দায়িত্বশীল আচরণ না করলে এবং আইন মানার সংস্কৃতি তৈরি না হলে অবস্থার উন্নয়ন কঠিন হবে।

লেখক : সাবেক ইন্সপেক্টর জেনারেল

বাংলাদেশ পুলিশ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা