kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

ইসমাঈল (আ.) ছিলেন ওয়াদা পালনে সত্যনিষ্ঠ

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসমাঈল (আ.) ছিলেন ওয়াদা পালনে সত্যনিষ্ঠ

৫৪. আর এ কিতাবে ইসমাঈলের কথা স্মরণ করো। সে ছিল ওয়াদা পালনে সত্যনিষ্ঠ। আর সে ছিল রাসুল, নবী। (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৫৪)

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে ইবরাহিম ও মুসা (আ.)-এর কথা সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ইবরাহিম (আ.)-এর আরেক সন্তানের নাম ইসমাঈল (আ.)। আলোচ্য আয়াতে ইসমাঈল (আ.)-এর কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ইসমাঈল (আ.) ওয়াদা পালনের ক্ষেত্রে সত্যনিষ্ঠ ছিলেন। যদিও সব নবী-রাসুলই প্রতিশ্রুতি রক্ষার ক্ষেত্রে আন্তরিক ছিলেন, কিন্তু ইসমাঈল (আ.)-এর ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয় ছিল। আর এটাও নিশ্চিত যে মহান আল্লাহ যে প্রতিশ্রুতি দেন, তা তিনি শতভাগ রক্ষা করেন। কাজেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করাকে মহান আল্লাহ পছন্দ করেন না। আর কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি রক্ষার ক্ষেত্রে সব নবী সচেষ্ট ছিলেন।

মানবসমাজের সদস্যদের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক সম্পর্কই হচ্ছে মানবসমাজের ভিত্তি। এ সম্পর্ক পরস্পর কথা বলার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। আর সত্য কথা মানুষের কাছে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করে। সত্যবাদিতা মুমিনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআনে সত্যবাদীদের সঙ্গী হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে : ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১১৯)

সত্যবাদীদের জন্য কিয়ামতের দিবসে সৌভাগ্যের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ বলবেন, এটি সেই দিন, যেদিন সত্যবাদীরা তাদের সত্যতার জন্য উপকৃত হবে। তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত। আর তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট, তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটাই তো মহাসাফল্য।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ১১৯)

সত্যবাদিতা মানুষকে পুণ্যের পথ দেখায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন : ‘নিশ্চয়ই সত্যবাদিতা মানুষকে পুণ্যের পথ দেখায় এবং পুণ্য জান্নাতের দিকে পরিচালিত করে। আর মানুষ সত্য বলতে বলতে শেষ পর্যন্ত সিদ্দিক (পরম সত্যবাদী) হয়ে যায়। আর মিথ্যা মানুষকে পাপকাজের পথ দেখায় এবং পাপকাজ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে জঘন্য মিথ্যাবাদী হিসেবে তার নাম লিপিবদ্ধ হয়ে যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৬৫৫)

সত্যবাদী ব্যক্তি তাঁর সঙ্গীদের আস্থাভাজন হয়ে থাকে। তাঁর প্রতিটি বাক্য তাদের তৃপ্তি দেয়। সত্যবাদী ব্যক্তি তাঁর বিবেকের সামনে সমুন্নত এবং মিথ্যার অশান্তি থেকে মুক্ত। সত্যবাদী তাঁর ওয়াদা পালন করে থাকে এবং আমানত রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

যেকোনো পরিস্থিতিতে সততা ও সত্যবাদিতায় সমূহ কল্যাণ ও মঙ্গল রয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যদি আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা তারা সত্যে পরিণত করত, তাহলে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো।’ (সুরা : মুহাম্মাদ, আয়াত : ২১)

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা