kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

পবিত্র কোরআনের আলো ধা রা বা হি ক

মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-কে তুর পাহাড়ে একান্তে ডেকেছেন

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-কে তুর পাহাড়ে একান্তে ডেকেছেন

৫২. আমি তাকে ডেকেছিলাম [মুসা (আ.)] তুর পাহাড়ের ডান দিক থেকে এবং অন্তরঙ্গ আলাপে তাকে নৈকট্য দান করেছি। (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৫২)।

তাফসির : আগের আয়াতে মুসা (আ.)-এর কথা স্মরণ করতে বলা হয়েছিল। তিনি ছিলেন আল্লাহর নবী ও রাসুল। আলোচ্য আয়াতে তাঁর বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এ আয়াতে মুসা (আ.)-এর নবুয়ত ও কিতাবপ্রাপ্তি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। মুসা (আ.) তুর পর্বতের পাদদেশ থেকে ঐশী শব্দ শুনতে পান এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেন। পাহাড়টি ছিল মুসা (আ.)-এর ডান দিকে। কেননা তখন তিনি মাদিয়ান শহর থেকে মিসরের দিকে যাচ্ছিলেন। (ড. ওহাবা আজ-জুহাইলি, আততাফসিরুল মুনির : ৮/৪৫৫)।

অন্য আয়াতে মুসা (আ.)-এর সঙ্গে আল্লাহর সরাসরি কথোপকথনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এটি আল্লাহর দরবারে মুসা (আ.)-এর উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ। এ বিষয়টিকে আলোচ্য আয়াতে ‘আল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য মোট ১০৪ খানা কিতাব নাজিল করেছেন। এর মধ্যে তাওরাত, জাবুর, ইনজিল ও কোরআন মজিদ শ্রেষ্ঠতম এবং সবচেয়ে বড়। তাওরাত মুসা (আ.)-এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। তাওরাত প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর নির্দেশে মুসা (আ.) তুর পাহাড়ে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে তিনি ৪০ দিন রোজা রেখেছেন। ইতিকাফ করেছেন। বর্ণিত আছে যে মুসা (আ.) মিসরে অবস্থানকালে বনি ইসরাঈলকে জানিয়েছেন যে আল্লাহ তাআলা তাদের শত্রুকে ধ্বংস করে দেবেন। এবং তাদের কিতাব দান করবেন। ওই কিতাবে আদেশ-নিষেধ, করণীয়-বর্জনীয় সংক্রান্ত বিধি-বিধান থাকবে। অতঃপর যখন ফেরাউন ধ্বংস হয়ে গেল তখন মুসা (আ.) তাঁর প্রতিপালকের কাছে আসমানি কিতাব প্রার্থনা করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-কে প্রথমে ৩০ দিন ইতিকাফ ও রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সেটি ছিল জিলকদ মাসে। রোজার কারণে সৃষ্ট মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে তিনি তাঁর প্রভুর দরবারে যাওয়া অপছন্দ করেন। তাই তিনি মেসওয়াক করে নেন। তখন ফেরেশতারা বলল, ‘আমরা আপনার মুখ থেকে মেশকে আম্বরের সুঘ্রাণ উপভোগ করছিলাম, আর আপনি মেসওয়াক করে তা নষ্ট করে দিলেন!’ তখন আল্লাহ তাআলা অতিরিক্ত আরো ১০ দিন রোজা ও ইতিকাফের নির্দেশ দেন। এই ১০ দিন ছিল জিলহজের প্রথম ১০ দিন। এ ঘটনা থেকে সুফিরা বলে থাকেন যে আত্মশুদ্ধি অর্জন ও অভ্যন্তরীণ অবস্থার সংশোধনের ক্ষেত্রে ৪০ দিনের একটা বিশেষ তাৎপর্য আছে। এক হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ৪০ দিন নিরলসভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, আল্লাহ তাআলা তার অন্তর থেকে জ্ঞান ও হিকমতের ঝরনাধারা প্রবাহিত করে দেবেন। (রুহুল বয়ান)। এ ছাড়া ৪০ দিন প্রথম তাকবিরের সঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করলে কপটতা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা হাদিসে এসেছে।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা