kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

পবিত্র কোরআনের আলো ধা রা বা হি ক

পৌত্তলিক পরিবেশ ত্যাগ করে অনুগ্রহে সিক্ত ইবরাহিম (আ.)

১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পৌত্তলিক পরিবেশ ত্যাগ করে অনুগ্রহে সিক্ত ইবরাহিম (আ.)

৪৯. অতঃপর যখন সে [ইবরাহিম (আ.)] তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ইবাদত করত, তাদের থেকে আলাদা হয়ে গেল, তখন আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুবকে। আর তাদের প্রত্যেককে নবী বানালাম।

৫০. এবং তাদের আমার অনুগ্রহ দান করলাম। আর তাদের নাম-যশ সমুচ্চ করলাম। (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৪৯-৫০)।

তাফসির : তাওহিদ ও আল্লাহর একত্ববাদের কথা বলায় ইবরাহিম (আ.)-এর পিতা তাঁকে দূরে চলে যেতে বলেন। ইবরাহিম (আ.)-এর নিজের বেড়ে ওঠা সমাজ শিরক ও কুফরিতে পরিপূর্ণ ছিল। ওই পরিবেশে টিকে থাকা তাঁর জন্য সম্ভব ছিল না। তাই তিনি পৌত্তলিক সেই সমাজ থেকে দূরে চলে যেতে মনস্থির করেন। এ বিষয়ে আগের আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে এর পরবর্তী পরিস্থিতি বর্ণনা করা হয়েছে।

ঈমান ও বিশ্বাসচর্চার তাগিদে নিজের পরিবার ও সমাজ ত্যাগ করার পর মহান আল্লাহ ইবরাহিম (আ.)-কে বিশেষ অনুগ্রহে সিক্ত করেন। তাঁকে এমন সন্তান দান করেন, যাঁরা নবী হয়েছিলেন।

আলোচ্য ঘটনা সেসব মানুষের জন্য সান্ত্বনাস্বরূপ, যাঁরা নিজের ঈমান ও বিশ্বাস রক্ষার তাগিদে গৃহ ত্যাগ করেছেন। ইবরাহিম (আ.) তাঁর পরিবারবর্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ধ্বংস হয়ে যাননি; বরং এর প্রতিদানস্বরূপ মহান আল্লাহ তাঁকে বিশেষ অনুগ্রহে সিক্ত করেছেন। ঠিক তেমনি কেউ নিজের ঈমানের হেফাজত ও বিশ্বাসের চর্চার জন্য প্রতিকূল পরিবেশ ত্যাগ করলে মহান আল্লাহর কাছে এর প্রতিদান পাবে।

ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ইসলামের প্রথম যুগে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করা মুসলমানের ওপর ফরজ ছিল। এটি ছিল তখন ঈমানের শর্তস্বরূপ। বর্তমান যুগে হিজরতের বিষয়ে ইসলামী আইনবিদরা বলেন, কোনো মুসলিম যদি এমন কোনো অমুসলিম দেশে বসবাস করে, যেখানে ইসলাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তাহলে সামর্থ্য থাকলে নারী-পুরুষ সবার জন্য সেখান থেকে হিজরত করা ওয়াজিব। আর এ ধরনের রাষ্ট্রে কোনো মুসলিমের নিজ দেশ ত্যাগ করে বসবাস বা চাকরির জন্য যাওয়া হারাম। তবে দ্বিনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য সেখানে যেতে পারবে।

আর যে দেশে নিজের ঈমানের কথা প্রকাশ করা যায় ও ইসলামের যাবতীয় কাজ আদায় করা যায়, সেখান থেকে হিজরত করা জরুরি নয়। তবে তা সত্ত্বেও এমন কোনো মুসলিম দেশে হিজরত করা মুস্তাহাব, যেন সেখানে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। মোল্লা আলি কারি (রহ.) লিখেছেন, ‘ইসলামের প্রথম দিকের হিজরত (মদিনায় যাওয়া) রহিত হয়ে গেছে। তবে জিহাদের জন্য, অমুসলিম রাষ্ট্র ত্যাগ করা, বিদআত থেকে দূরে থাকা, ফিতনা থেকে পরিত্রাণ অথবা ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের জন্য হিজরত করার বিধান এখনো আছে। এ বিধান রহিত হয়নি।’ (মিরকাতুল মাফতিহ, খণ্ড-৪, পৃ. ১৮২)।

বর্তমানে অনেক অমুসলিম রাষ্ট্রে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের উচিত সামর্থ্য থাকলে কোনো মুসলিম দেশে হিজরত করা—যে দেশ তাদের আশ্রয় বা নাগরিকত্ব দেবে।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা