kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

পবিত্র কোরআনের আলো ধা রা বা হি ক

শয়তান দয়াময় আল্লাহর অবাধ্য

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শয়তান দয়াময় আল্লাহর অবাধ্য

৪৪. [ইবরাহিম (আ.) বলেন] হে আমার পিতা, শয়তানের উপাসনা করবেন না। শয়তান তো দয়াময়ের (আল্লাহর) অবাধ্য। (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৪৪)

তাফসির : ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পিতার কথোপকথন বিষয়ে আগের কয়েকটি আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতেও একই প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। ইবরাহিম (আ.) অত্যন্ত সম্মানসূচকভাবে তাঁর পিতাকে সত্যপথের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হে পিতা, মানুষ শয়তানের প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করে। আপনি তাদের দলভুক্ত হবেন না। আপনি শয়তানের উপাসনা করবেন না। কেননা শয়তান আল্লাহর অবাধ্য। শয়তান মানুষের মহাশত্রু।

পবিত্র কোরআনে ‘শয়তান’ শব্দটি ৬৩ বার আর এর বহুবচন ‘শায়াতিন’ শব্দটি ১৮ বার উল্লেখ করা হয়েছে। শয়তান মুমিনের প্রকাশ্য শত্রু—এ কথা পবিত্র কোরআনের অসংখ্য জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন—

সুরা বাকারার ১৬৮ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ  কোরো না। নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’

সুরা বাকারার ২০৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। নিশ্চিতরূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’          

সুরা আনআমের ১৪২ নম্বর আয়াতে রয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের যা কিছু দিয়েছেন, তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ  কোরো না। অবশ্যই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’

সুরা আরাফের ২২ নম্বর আয়াতে রয়েছে, ‘আর তাঁদের (আদম ও হাওয়া) প্রতিপালক তাঁদের ডেকে বলেন, আমি কি তোমাদের এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?’

সুরা ইউসুফের ৫ নম্বর আয়াতে রয়েছে, ‘নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।’

সুরা ইসরার ৫৩ নম্বর আয়াতে রয়েছে, ‘নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।’

শয়তানের প্রধান কাজ হলো, মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস ও প্রবঞ্চনা দ্বারা পথভ্রষ্ট করা এবং আল্লাহর অবাধ্য বানানো। শয়তান আল্লাহ তাআলার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছে, ‘আমি অবশ্যই তাদের পথভ্রষ্ট করব, মিথ্যা আশ্বাস দেব, তাদের নির্দেশ দেব, যার ফলে তারা পশুর কর্ণচ্ছেদ করবে এবং তাদের নির্দেশ দেব, যার ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১১৯)

শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য সদা সচেষ্ট। এ লক্ষ্যে সে বসে থাকে, যাতে কেউ সত্যপথে আসতে না পারে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘শয়তান বলল, আপনি আমাকে যেমন উদ্ভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্য আপনার সরলপথে বসে থাকব। অতঃপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে ও বাঁ দিক থেকে। আপনি তাদের বেশির ভাগকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৬-১৭)

শয়তান মানুষের সামনে অশ্লীল ও খারাপ জিনিস আকর্ষণীয় করে দেখায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘অবশ্যই সে (শয়তান) তোমাদের খারাপ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয়। আর আল্লাহর সম্পর্কে এমন কথা বলার নির্দেশ দেয়, যা তোমরা জানো না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬৯)।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা