kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

পবিত্র কোরআনের আলো ধা রা বা হি ক

সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়

৩৫. সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়। তিনি পবিত্র মহামহিম। তিনি যখন কোনো কিছু স্থির করেন তখন সে সম্পর্কে বলেন ‘হও’, অতঃপর তা হয়ে যায়। (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৩৫)।

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মহান আল্লাহ ঈসা (আ.) সম্পর্কে মহাসত্য প্রকাশ করেছেন। ঈসা (আ.) সম্পর্কে মানুষের মধ্যে অনেক বিতর্ক আছে। আলোচ্য আয়াতে তাঁর সম্পর্কিত একটি বিতর্কের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। খ্রিস্টানরা ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র বলে বিশ্বাস করে। প্রথম দিকে খ্রিস্ট ধর্মে রূপক অর্থে নবীদের জন্য ‘আল্লাহর পুত্র’ উপাধির ব্যবহার করা হয়। পরে এটাকে বাস্তবিক অর্থে গ্রহণ করা হয় এবং সে অনুযায়ী বিশ্বাস করা হয়। আলোচ্য আয়াতে এ ধরনের বিশ্বাস নাকচ করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়। মহান আল্লাহ স্ত্রী ও সন্তান থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। কেননা স্ত্রী ও সন্তান থাকা এক ধরনের দুর্বলতা ও মুখাপেক্ষিতার লক্ষণ। মহান আল্লাহ মহাশক্তিশালী। তিনি কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নন। তিনি যখন কোনো কিছু স্থির করেন তখন সে সম্পর্কে বলেন ‘হও’, অতঃপর তা হয়ে যায়।

আল্লাহ সব কিছু থেকে মুখাপেক্ষীহীন। তাই তাঁর অস্তিত্বের জন্য পিতা-মাতার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে তাঁর কোনো সন্তান নেই। কেননা সন্তান মানুষের বিভিন্ন অঙ্গের অংশ। আল্লাহ নিরাকার। তাঁর থেকে কোনো ‘অঙ্গ’ বিচ্ছিন্ন হওয়া অসম্ভব। আর সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য দৈহিক চাহিদা ও বাসনা থাকতে হয়। আল্লাহ এসব থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। সুতরাং তাঁর কোনো স্ত্রী বা সন্তান থাকতে পারে না। তা ছাড়া সন্তান পিতা-মাতাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। আল্লাহ কারো সাহায্যের মুখাপেক্ষী নন। কারো সাহায্য তাঁর প্রয়োজন নেই।

মহান আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে ঈসা (আ.) যে শিক্ষা দিতেন, তা নিরবচ্ছিন্ন সূত্রে পাওয়া না গেলেও এটা পরিষ্কার যে তিনি তাঁর উম্মতকে তাওহিদ তথা একত্ববাদের শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমানে প্রচলিত ইউহান্নার ইনজিলে আছে, ঈসা মাসিহ (আ.) আল্লাহ তাআলার কাছে মোনাজাত করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমাকে অর্থাৎ এক ও সত্য আল্লাহকে আর তুমি যাকে পাঠিয়েছ সেই ঈসা মাসিহ (আ.)-কে জানতে পারাই সত্য জীবন।’ (ইউহান্না ১৭ : ৩)

একজন নেতা ঈসা (আ.)-কে বলেছিলেন, ‘হুজুর! আপনি একজন ভালো লোক।’ ঈসা (আ.) তাঁকে বলেন, ‘আমাকে ভালো বলছেন কেন? একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউই ভালো নয়।’ (লুক ১৮ : ১৮, ১৯)।

এক যুবক এসে ঈসা (আ.)-কে বলল, ‘হুজুর! অনন্ত জীবন পাওয়ার জন্য আমাকে ভালো কী করতে হবে?’ ঈসা (আ.) তাকে বলেন, ‘ভালোর বিষয়ে আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছ? ভালো শুধু একজনই আছেন। যদি তুমি অনন্ত জীবন পেতে চাও, তাহলে তাঁর সব হুকুম পালন করো।’ (মথি ১৯ : ১৬, ১৭)।

এসব বক্তব্য থেকে এই উপসংহারে পৌঁছা খুবই সহজ যে ঈসা (আ.) তাঁর উম্মতকে তাওহিদ তথা একত্ববাদের শিক্ষা দিয়েছেন।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা