kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

পবিত্র কোরআনের আলো ধা রা বা হি ক

নারীদের একান্ত কিছু বিধি-বিধান

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারীদের একান্ত কিছু বিধি-বিধান

২২. এরপর সে [মারিয়াম (আ.)] গর্ভ ধারণ করল এবং গর্ভসহ দূরবর্তী স্থানে চলে গেল।

২৩. তারপর প্রসব বেদনা তাকে একটি খেজুরগাছের তলায় আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। সে [মারিয়াম (আ.)] বলল, হায়! আমি যদি এর আগেই মরে যেতাম, আর যদি মানুষের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হতাম! [(সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ২২-২৩ (দ্বিতীয় পর্ব)]।

তাফসির : আলোচ্য দুই আয়াতে মারিয়াম (আ.)-এর অলৌকিকভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রসঙ্গ আনা হয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছায় মারিয়াম (আ.) গর্ভবতী হয়ে যান। নির্দিষ্ট সময়ের পর তাঁর প্রসব বেদনা শুরু হয়। প্রসঙ্গক্রমে এখানে নারীদের একান্ত কিছু বিধি-বিধান আলোচনা করা হলো—

নারীদের মাসিক রক্তস্রাবের সর্বনিম্ন সীমারেখা তিন দিন আর সর্বোচ্চ ১০ দিন। উল্লিখিত দুই সংখ্যার প্রথমটির কম হলে কিংবা দ্বিতীয়টির বেশি হলে তখন তা ‘ইস্তিহাজা’ বা রোগ হিসেবে ধর্তব্য হয়। আর দুই স্রাবের মাঝখানে ১৫ দিন পবিত্র থাকা আবশ্যক। কারো যদি স্রাবের নির্দিষ্ট অভ্যাস থাকে, আর সে কোনো মাসে অভ্যাসের বিপরীত ১০ দিনের পরও রক্ত দেখতে পায়, তাহলে অভ্যাসের ভেতরে আসা রক্তগুলোকে মাসিক ঋতুস্রাব ধরতে হবে এবং অতিরিক্তগুলোকে ইস্তিহাজা রোগ ধরতে হবে।

অনুরূপ কারো যদি এক রক্তস্রাব শেষ হওয়ার পর ১৫ দিনের আগেই আবার রক্ত দেখা দেয়, আর এভাবে কয়েক বছর ধরে চলতে থাকে, তাহলে তার এই অনিয়ম চালু হওয়ার আগের স্রাবের অভ্যাস হিসাব করে ঠিক তার ১৫ দিন পরেই দ্বিতীয় স্রাবের সময় শুরু হবে। মাঝখানে আসা রক্তগুলোকে ইস্তিহাজা বা রোগ ধরতে হবে। (রদ্দুল মুহতার : ১/২৮৯)।

সন্তান প্রসবের পর জরায়ু থেকে যে রক্ত আসে, তাকে নিফাসের রক্ত বলা হয়। এর সর্বোচ্চ সীমা ৪০ দিন। এর সর্বনিম্ন সীমা নেই, অল্প কিছুক্ষণও হতে পারে। ‘নিফাস’ অবস্থার সব বিধান মাসিক স্রাবের অনুরূপ।

নারীরা মাসিক ও প্রসবজনিত বিশেষ দিনগুলোতে নামাজ-রোজা পালন করতে পারবে না। পরে এসব নামাজের কাজাও নেই, তবে রোজা কাজা করে নিতে হবে।

আর ইস্তিহাজা অবস্থায় শরিয়তের বিধি-বিধান হলো—নামাজ, রোজা ইত্যাদি পূর্ণরূপে পালন করতে হবে এবং স্বামী-স্ত্রীর দৈহিক মিলনেও কোনো অসুবিধা নেই। (মাবসুতে সারাখসি : ৩/১৫৪-১৫৫)

অনুরূপ হায়েজ-নিফাস অবস্থায় সহবাস থেকে বিরত থাকা একান্ত অপরিহার্য। তবে অপারগতাবশত গুনাহ থেকে বাঁচার মানসে হাঁটু থেকে নাভির মধ্যবর্তী অংশ বাদ দিয়ে অন্য অঙ্গ থেকে উপকৃত হওয়া যায়। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/২৯২)।

তদ্রূপ বিশেষ দিনগুলোতে কোরআন শরিফ পড়া এবং স্পর্শ করা বৈধ নয়। তবে ওই সময় বই-পুস্তক বা দ্বিনি কিতাবাদি পড়া বা স্পর্শ করা বৈধ। তবে কোরআনের আয়াত পড়া বা স্পর্শ করা যাবে না। (রদ্দুল মুহতার : ১/১৭৬)।

কিন্তু ওই সময়েও কোরআনের আয়াত বা সুরা দোয়ার নিয়তে পড়া জায়েজ। যেমন—দোয়ার নিয়তে আয়াতুল কুরসি বা সুরায়ে নাস ও ফালাক ইত্যাদি পড়া জায়েজ হবে। (ফাতহুল কাদির : ১/১৬৮, রদ্দুল মুহতার : ১/১৭২, আহসানুল ফাতাওয়া : ২/৭১)।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা