kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পবিত্র কোরআনের আলো ধা রা বা হি ক

গর্ভস্থ সন্তান নিয়ে দূরবর্তী স্থানে মারিয়াম (আ.)-এর গমন

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গর্ভস্থ সন্তান নিয়ে দূরবর্তী স্থানে মারিয়াম (আ.)-এর গমন

২২. এরপর সে [মারিয়াম (আ.)] গর্ভ ধারণ করল এবং গর্ভসহ দূরবর্তী স্থানে চলে গেল।

২৩. তারপর প্রসব বেদনা তাকে একটি খেজুরগাছের তলায় আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। সে [মারিয়াম (আ.)] বলল, হায়! আমি যদি এর আগেই মরে যেতাম, আর যদি মানুষের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হতাম! [(সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ২২-২৩ (প্রথম পর্ব)]।

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে মারিয়াম (আ.)-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচ্য দুই আয়াতেও একই প্রসঙ্গ আনা হয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছায় মারিয়াম (আ.) গর্ভবতী হয়ে যান। এই গর্ভ ক্রমেই সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠতে লাগল। তাই মারিয়াম (আ.) বায়তুল মোকাদ্দাসের ইবাদতস্থল ত্যাগ করে জনমানবহীন মরু প্রান্তরের দিকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, যাতে তাঁকে কেউ দেখতে না পায়। মারিয়াম (আ.) বায়তুল মোকাদ্দাসে ইবাদত করার জন্য উৎসর্গিত হয়েছিলেন। এই সময় তিনি গর্ভধারণ করেন। এ অবস্থায় তিনি যদি নিজের ইতিকাফের জায়গায় বসে থাকতেন এবং লোকেরা তাঁর গর্ভধারণের কথা জানতে পারত, তাহলে শুধু পরিবারের লোকেরাই নয়, সম্প্রদায়ের অন্য লোকেরাও তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত। এমনকি এই কারণে তাঁর জীবন বিপন্ন হতে পারত। তাই তিনি আল্লাহর পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়ার পর নীরবে নিজের ইতিকাফকক্ষ ত্যাগ করে বাইরে বের হয়ে পড়েন; যাতে আল্লাহর ইচ্ছা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নিজ জাতির অপবাদ ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ঈসা (আ.)-এর জন্ম যে পিতা ছাড়াই হয়েছিল, এ ঘটনা তার অন্যতম প্রমাণ। কেননা যদি তিনি বিবাহিত হতেন এবং স্বামীর ঔরসে তাঁর সন্তান জন্মলাভ হতো, তাহলে সন্তান প্রসবের জন্য দূরবর্তী স্থানে চলে যাওয়ার কোনো কারণই ছিল না। ইবনে ইসহাক বলেন, মারিয়াম (আ.) গর্ভ ধারণ করার পর একটি জগে করে কূপ থেকে পানি উত্তোলন করে দূরবর্তী স্থানে চলে যান। এর পর থেকে তাঁর মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। অন্য গর্ভবতী নারীর মতো তাঁরও ক্ষুধা, বমি বমি ভাব, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন ইত্যাদি হয়। (ইবনে কাসির)।

এই গর্ভ নিয়ে অনেক দিন কাটানোর পর মারিয়াম (আ.)-এর প্রসব বেদনা শুরু হয়। তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। সন্তান যেহেতু এসেই যাচ্ছে, তাকে নিয়ে সতত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে—এই চিন্তা তাঁকে ব্যাকুল করে তোলে। কিভাবে তিনি মানুষের প্রশ্নের জবাব দেবেন, গর্ভবতী হওয়ার বিষয়ে তিনি কী ব্যাখ্যা দেবেন, তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগের অন্ত নেই। নিরুপায় হয়ে তিনি মৃত্যুর কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, হে আল্লাহ! এর আগে কেন আমার মৃত্যু হলো না! মরে গেলে তো এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো না। আসলে তিনি মৃত্যু কামনা করেছেন—বিষয়টি এমন নয়। বরং পরিস্থিতির তীব্রতা ও ভয়াবহতা এবং আল্লাহর মহাপরীক্ষার কথা তাঁকে বিচলিত করে। মহান আল্লাহ তাঁকে যে ভয়াবহ পরীক্ষার সম্মুখীন করেছেন, তা কিভাবে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়া যায়—এই চিন্তায় তিনি পেরেশান হয়ে যান।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা