kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৪ অক্টোবর ২০১৯। ৮ কাতির্ক ১৪২৬। ২৪ সফর ১৪৪১       

পবিত্র কোরআনের আলো ধা রা বা হি ক

মারিয়াম (আ.)-এর কাছে আসমানি দূত

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মারিয়াম (আ.)-এর কাছে আসমানি দূত

১৮. সে [মারিয়াম (আ.)] বলল, তুমি যদি আল্লাহকে ভয় করে থাকো, তাহলে আমি তোমার (অনিষ্ট) থেকে করুণাময়ের আশ্রয় চাচ্ছি।

১৯. সে [জিবরাইল (আ.)] বলল, আমি তো তোমার রবের দূত এবং আমাকে পাঠানো হয়েছে তোমাকে একটি পবিত্র পুত্র দান করার জন্য। (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ১৮-১৯)।

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে মারিয়াম (আ.) সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছিল। বায়তুল মুকাদ্দাসে তিনি থাকতেন। নির্জনে গোসলের জন্য কক্ষের অদূরে গেছেন। এমন সময় সেখানে সুন্দর এক যুবকের আবির্ভাব ঘটে। ওই যুবক হলেন ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)। আসমানি বার্তা নিয়ে তিনি এই পৃথিবীতে আগমন করে থাকেন। মারিয়াম (আ.) তাঁর উপস্থিতি দেখে বিস্মিত হন এবং ভয় পেয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে একান্ত আল্লাহর ওপর ভরসা করা ছাড়া তাঁর কিছুই করার ছিল না। তিনি জিবরাইল (আ.)-কে সম্বোধন করে বলেন, ‘আপনি যদি খোদাভীরু হন, তাহলে আল্লাহকে ভয় করুন। আমি আপনার ব্যাপারে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ জিবরাইল (আ.) তখন মারিয়াম (আ.)-কে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলেন, ‘আমি মানুষ নই। আমি আসমানি দূত। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন ফেরেশতা। আমাকে পাঠানো হয়েছে আপনাকে একজন পবিত্র সন্তানের সুসংবাদ দেওয়ার জন্য। আমাকে পাঠানো হয়েছে আপনার জন্য সন্তান জন্ম দেওয়ার পথ সুগম করার জন্য।’

এই দুই আয়াত থেকে বিশেষভাবে দুটি বিষয় জানা যায়। এক. আল্লাহ চাইলে মাধ্যম ছাড়াও সন্তান হতে পারে। দুনিয়া ‘দারুল আসবাব’ তথা কারণ ও উপকরণ সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্র। কারণ ও উপকরণের মাধ্যমেই দুনিয়ার যাবতীয় কাজ সম্পাদিত হয়। ইসলামের পরিভাষায় এটাকে ‘আদাতুল্লাহ’ বা আল্লাহর চিরাচরিত রীতি বলা হয়। তবে তিনি কখনো কখনো কারণ ও উপকরণ ছাড়াও অনেক কিছু প্রকাশ করেন, যাতে মানুষ আল্লাহর অসীম ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারে। যেমন—সাধারণ নিয়ম অনুসারে মা-বাবার মাধ্যমেই সন্তান জন্মগ্রহণ করে; কিন্তু আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে মা-বাবা ছাড়া, হাওয়া (আ.)-কে মা ছাড়া এবং মারিয়াম (আ.)-এর গর্ভে ঈসা (আ.)-কে বাবা ছাড়া সৃষ্টি করেছেন। নিয়ম ও মাধ্যমবহির্ভূত আল্লাহর এ কার্যাবলিকে ‘কুদরতুল্লাহ’ বা আল্লাহর কুদরত ও মহাশক্তির বহিঃপ্রকাশ বলা হয়। ইরশাদ হয়েছে, “আমি (আল্লাহ) কোনো কিছুর ইচ্ছা করলে সে বিষয়ে আমার কথা শুধু এই যে আমি বলি ‘হও’। অতঃপর তা হয়ে যায়।” (সুরা : নাহল, আয়াত : ৪০)।

দুই. নিজের সম্মান ও সম্ভ্রম রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করা উচিত। অপদৃষ্টিদানকারীকে তাকওয়া ও খোদাভীরুতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত। আর মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত। অনেক সময় এর সুদূরপ্রসারী ফল পাওয়া যায়।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা