kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পবিত্র কোরআনের আলো | ধারাবাহিক

ইয়াহইয়া (আ.)-এর প্রশান্তিময় জীবন ও মৃত্যু

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইয়াহইয়া (আ.)-এর প্রশান্তিময় জীবন ও মৃত্যু

১৫। তার প্রতি সালাম, যেদিন সে জন্মগ্রহণ করে, যেদিন তার মৃত্যু হবে এবং যেদিন সে জীবিত অবস্থায় উত্থিত হবে। (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ১৫)।

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে ইয়াহইয়া (আ.)-এর বৈশিষ্ট্য ও তাঁর জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আলোচ্য আয়াতে সংক্ষিপ্তভাবে তাঁর জীবন ও মৃত্যু প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। তিন স্থানে মানুষের সর্বাধিক নিরাপত্তা প্রয়োজন। এক. জন্মের সময়। দুই. মৃত্যুর সময়। তিন. মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের পর। মহান আল্লাহ ইয়াহইয়া (আ.)-কে এই তিন স্থানেই নিরাপত্তা দান করেছেন। তাঁর জন্ম হয়েছে আল্লাহর বিশেষ হুকুমে। শয়তানের কুপ্রভাব থেকে তিনি মুক্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছে ঈমানের ওপর। কাজেই তিনি কবরের আজাব থেকে নিরাপত্তা লাভ করেছেন। এবং তিনি নিষ্পাপ জীবন যাপন করেছেন, তাই পরকালে তাঁর কোনো ভয় নেই। কিয়ামতের দিনও বিশেষ নিরাপত্তা লাভ করবেন।

বাইবেলের লুকের বর্ণনা অনুসারে ইয়াহইয়া (আ.) ছিলেন ঈসা (আ.)-এর চেয়ে ছয় মাসের বড়। তাঁর মাতা ঈসা (আ.)-এর মাতার নিকটাত্মীয়া ছিলেন। ৩০ বছর বয়সে তিনি কার্যকরভাবে নবুয়তের দায়িত্ব লাভ করেন। জোহনের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ট্রান্স জর্ডান এলাকায় আল্লাহর বাণী প্রচার করেছেন। তিনি তাঁর সময়ের ইহুদি শাসনকর্তা হিরোদ এন্টিপাসের রাজ্যে সত্যের দাওয়াতের দায়িত্ব পালন করেছেন। এই শাসনকর্তা ছিলেন আপাদমস্তক রোমীয় সভ্যতার প্রতিভূ। তাঁর কারণে সারা দেশে নৈতিকতাবিরোধী ও আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কার্যকলাপের প্রসার ঘটেছিল। তিনি নিজের ভাই ফিলিপের স্ত্রী হিরোদিয়াসকে নিজের গৃহে রক্ষিতা রেখেছিলেন। ইয়াহইয়া (আ.) এ জন্য হিরোদকে ভর্ত্সনা করেন এবং তাঁর পাপাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। এ অপরাধে হিরোদ তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠান। তবু তিনি তাঁকে একজন সৎকর্মশীল মনে করে তাঁর প্রতি সম্মান দেখাতেন। এবং জনগণের মধ্যে তাঁর প্রভাবের কারণে তাঁকে ভয়ও পেতেন। কিন্তু হিরোদিয়াস মনে করতেন, ইয়াহইয়া (আ.) জনগণের মধ্যে যে নৈতিক চেতনা সঞ্চার করেছেন, তার ফলে জনগণের দৃষ্টিতে তাঁর মতে মেয়েরা ঘৃণিত হয়ে যাচ্ছে। তাই তাঁর প্রাণসংহারের প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত হিরোদের জন্মবার্ষিকী উৎসবে তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পেয়ে যান। উৎসবে তাঁর মেয়ে মনোমুগ্ধকর নৃত্য প্রদর্শন করে হিরোদের চিত্ত জয় করেন। হিরোদ সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বলে, কী পুরস্কার চাও, বলো। মেয়ে তার ব্যভিচারী মাকে জিজ্ঞেস করে, কী চাইব? মা বলেন, ইয়াহইয়ার মস্তক চাও! তাই সে হিরোদের সামনে হাতজোড় করে বলল, জাহাঁপনা! আমাকে এখনই ইয়াহইয়া বাপ্তাইজকের মাথা একটি থালায় করে এনে দিন। হিরোদ এ কথা শুনে বড়ই বিষণ্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু প্রিয়ার মেয়ের দাবি না মেনে উপায় ছিল না। তিনি তত্ক্ষণাৎ কারাগার থেকে ইয়াহইয়া (আ.)-এর মাথা কেটে আনেন এবং তা একটি থালায় রেখে ওই নারীকে নজরানা দেন। (মথি ১৪ : ৩-১২, মার্ক ৬ : ১৭-১৯ ও লুক ৩ : ১৯-২০)।

বাইবেলের এই বর্ণনার ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তাই এ ঘটনার সত্য-মিথ্যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ



সাতদিনের সেরা