kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

পবিত্র কোরআনের আলো ধা রা বা হি ক

দোয়া কখনো বিফলে যায় না

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দোয়া কখনো বিফলে যায় না

৩. স্মরণ করো, যখন সে [জাকারিয়া (আ.)] তার রবকে নিভৃতে ডেকেছিল। [সুরা : কাহফ, আয়াত : ৩ (তৃতীয় পর্ব)]

তাফসির : জাকারিয়া (আ.)-এর কোনো সন্তান ছিল না। বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের আশা তাঁকে ব্যাকুল করে তোলে। তিনি কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছেন।

দোয়া বা দাওয়াত শব্দের অর্থ হলো ডাকা, আহ্বান করা। ইসলামের পরিভাষায় আল্লাহর কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করাকে দোয়া বলা হয়। ইসলামে দোয়া করা একটি পৃথক ইবাদত। হাদিস শরিফে দোয়াকে ‘ইবাদতের মগজ’ বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হন।’ অন্য হাদিসে এসেছে, ‘শুধু দোয়ার মাধ্যমেই ভাগ্য পরিবর্তন হয়।’

যেকোনো সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। তবে রাতের শেষাংশ দোয়ার সবচেয়ে উপযোগী সময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকে, তখন আল্লাহ তাআলা নিকটবর্তী আসমানে নেমে আসেন এবং ঘোষণা করতে থাকেন, কে আমাকে ডাকছ, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আছ রিজিকপ্রার্থী, আমি তাকে দান করব। কে আছ ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বুখারি, হাদিস : ১১৪৫; মুসলিম, হাদিস : ৭৫৮)।

দোয়া কখনো বৃথা যায় না। তবে কখনো কখনো দোয়া কবুল হতে বিলম্ব হয়। এর জন্য হতাশ হওয়ার কিছু নেই। হাদিস শরিফে এসেছে, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন কোনো মুমিন ব্যক্তি দোয়া করে—যে দোয়ায় কোনো পাপ থাকে না, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় থাকে না, তাহলে আল্লাহ তিন পদ্ধতির কোনো এক পদ্ধতিতে তার দোয়া কবুল করেন। পদ্ধতি তিনটি হলো—এক. সে যে দোয়া করেছে, হুবহু তা কবুল করা হয়। দুই. তার দোয়ার প্রতিদান পরকালের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। তিন. এই দোয়ার মাধ্যমে তার ওপর আসা কোনো বিপদ দূর করে দেওয়া হয়। এ কথা শুনে সাহাবিরা বলেন, ‘আমরা তাহলে অধিক পরিমাণে দোয়া করতে থাকব।’ রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা যত প্রার্থনাই করবে, আল্লাহ তার চেয়ে অনেক বেশি তা কবুল করতে পারেন।’ (বুখারি ও আহমদ)।

তাই দোয়া করার সময় তা কবুল হওয়ার বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা উচিত। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘তোমাদের কেউ (দোয়ায়) এমন কথা বলবে না যে হে আল্লাহ! আপনি যদি চান, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি যদি চান, তাহলে আমার ওপর দয়া করুন। আপনি যদি চান, তাহলে আমাকে জীবিকা দান করুন; বরং দৃঢ়তার সঙ্গে (আত্মবিশ্বাস নিয়ে) দোয়া করবে। মনে রাখবে, আল্লাহ যা চান, তা-ই করেন, তাঁকে কেউ বাধ্য করতে পারে না।’ (বুখারি, হাদিস : ৭৪৭৭)।

সুতরাং আত্মবিশ্বাস নিয়ে খাঁটি অন্তরে দোয়া করতে হবে। আল্লাহর সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি মহান আল্লাহ সম্পর্কে যে ধরনের ধারণা পোষণ করে, মহান আল্লাহ তার সঙ্গে ওই ধরনের আচরণ করেন। এক বিখ্যাত হাদিসে কুদসিতে আছে, ‘আমার প্রতি বান্দার যে ধারণা রয়েছে, আমি ওই ধারণার কাছে থাকি...।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪০৫ ; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৭৫)।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা