kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যক্তিত্ব

কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

সাহিত্যিক ও সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্ম খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে ১৮৩৪ সালের ১০ জুন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাঁর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। কীর্তিপাশার জমিদারের অর্থানুকূল্যে তিনি জীবন যাপন করেন। জমিদারপুত্রের সঙ্গে তিনি ঢাকায় আসেন এবং তাঁর এক জ্ঞাতি ঢাকা জজকোর্টের উকিল গৌরবচন্দ্র দাসের আশ্রয়ে থেকে ঢাকার নর্মাল স্কুলে শিক্ষালাভ করেন। এ সময় থেকেই তাঁর কাব্যচর্চা শুরু হয়। ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। ১৮৫৪ সালে বরিশালের কীর্তিপাশা বাংলা বিদ্যালয়ের প্রধান পণ্ডিত হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।

পরে ঢাকার নর্মাল স্কুলে যোগদান করেন; কিন্তু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ায় চাকরি ছেড়ে ১৮৬০ সালে মডেল স্কুলে যোগ দেন। এভাবে বিভিন্ন স্কুলে তিনি ১৯ বছর শিক্ষকতা করেন। অনেক কীর্তিমান ব্যক্তি তাঁর ছাত্র ছিলেন। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সদ্ভাবশতক’ প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে। নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্য পারস্য কবি হাফিজ ও সাদির কাব্যাদর্শে রচিত। তাঁর রচনা প্রসাদগুণসম্পন্ন এবং অনেক পঙক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ, যেমন : ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি। ১৮৬০ সালে মাসিক মনোরঞ্জিকা ও কবিতাকুসুমাবলী পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৮৬১ সালে ঢাকা প্রকাশ প্রকাশিত হলে তিনি সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৮৬৫ সালে বিজ্ঞাপনী পত্রিকার সম্পাদক হন। ১৮৮৬ সালে যশোর থেকে দ্বৈভাষিকী পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। ১৯০৭ সালের ১৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। 

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]

মন্তব্য