kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

দোয়া করতে হবে নীরবে-নিভৃতে

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দোয়া করতে হবে নীরবে-নিভৃতে

৩. স্মরণ করো, যখন সে [জাকারিয়া (আ.)] তার রবকে নিভৃতে ডেকেছিল। [সুরা : কাহফ, আয়াত : ৩ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের আয়াতে জাকারিয়া (আ.)-এর প্রতি মহান আল্লাহর রহমতের কথা বলা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াত থেকে ওই বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

জাকারিয়া (আ.)-এর কোনো সন্তান ছিল না। সন্তানবিহীন তিনি প্রায় গোটা জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। পরিশেষে বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের আশা তাঁকে ব্যাকুল করে তোলে। তিনি কায়মনোবাক্যে নিভৃতে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছেন। বৃদ্ধ বয়সে তাঁর সন্তান হয়। ওই সন্তানের নাম ইয়াহ্ইয়া। পরে তিনিও আল্লাহর নবী হয়েছেন।

এ আয়াত থেকে জানা যায়, একটি সফল দোয়ার পূর্বশর্ত হলো, দোয়া করতে হবে নীরবে-নিভৃতে।

আজকাল দোয়া করা নিয়ে মসজিদগুলোতে অপসংস্কৃতি চালু হয়েছে। কোরআন ও সুন্নাহর মধ্যে নীরবে ও গোপনে দোয়া করার কথা বলা হলেও সুউচ্চৈঃস্বরে দোয়া করা ইমামদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু কোরআন-সুন্নাহবিরোধীই নয়, পূর্ববর্তী মনীষীদের কর্মপন্থাবিরোধীও বটে। তা ছাড়া ইদানীং যে ভঙ্গিতে দোয়া করা হয়, তাকে ‘দোয়া’ই বলা যায় না, বরং ‘দোয়া পাঠ করা’ বলা যায়। ইমামদের কিছু আরবি বাক্য মুখস্থ থাকে এবং নামাজ শেষে সেগুলোই আবৃত্তি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ং ইমামদের এসব শব্দের অর্থ জানা থাকে না। আর তাঁদের জানা থাকলেও মুসল্লিরা সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ থাকে। তারা অর্থ না বুঝেই ইমামের আবৃত্তি করা বাক্যাবলির সঙ্গে সঙ্গে ‘আমিন’, ‘আমিন’ বলতে থাকে। এই দোয়া পরিচালনার সারমর্ম কিছু বাক্যের আবৃত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে হ্যাঁ, মহান আল্লাহ চাইলে নিজ অনুগ্রহে এ নিষ্প্রাণ বাক্যগুলোও কবুল করে নিতে পারেন; কিন্তু এটা বোঝা দরকার যে দোয়া প্রার্থনার বিষয়, পাঠ করার বিষয় নয়। অন্যদিকে এর ফলে অন্যদের ওয়াজিফা ও ইবাদতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, বিশেষত মাসবুক (পরে এসে জামাতে শরিক) ব্যক্তির নামাজে অসুবিধা হয়।

বহু মানুষ আল্লাহর কাছে দোয়া করে; কিন্তু কবুল হয় না। কারণ কী? কারণ হলো, হালাল খাদ্য গ্রহণ ছাড়া মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার কোনো দোয়া কবুল করেন না। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তুই কবুল করেন। আল্লাহ তাঁর রাসুলদের (হালাল খাবার গ্রহণের) যে আদেশ দিয়েছেন, মুমিনদেরও সেই আদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেন, হে রাসুলরা! তোমরা হালাল পবিত্র খাদ্য ভক্ষণ করো এবং নেক আমল করো।’ তিনি আরো বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা আমার দেওয়া হালাল রিজিক থেকে খাও।’ মহানবী (সা.) বিষয়টি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো একজন ব্যক্তি দূর-দূরান্তে সফর করছে, তার মাথার চুল এলোমেলো, শরীরে ধুলাবালি লেগে আছে। এ অবস্থায় ওই ব্যক্তি উভয় হাত আসমানের দিকে তুলে কাতর স্বরে হে আল্লাহ! হে আল্লাহ! বলে ডাকছে। অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম। সে হারামই খেয়ে থাকে। ওই ব্যক্তির দোয়া কিভাবে কবুল হবে?! (মুসলিম, হাদিস  : ২৩৯৩)

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা