kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

জুলকারনাইন বাদশাহর সময়কাল

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জুলকারনাইন বাদশাহর সময়কাল

৮৩. তারা তোমাকে জুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, শিগগিরই আমি তোমাদের কাছে তার বিষয়ে বর্ণনা করব। [সুরা : কাহফ, আয়াত : ৮৩ (চতুর্থ পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াত থেকে পৃথিবীর দুই প্রান্তের বাদশাহ জুলকারনাইন সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন হলো, কোরআনে বর্ণিত জুলকারনাইন কে এবং কোন যুগে ছিলেন? এ বিষয়ে তাফসিরবিদরা একমত হতে পারেননি। ইবনে কাসিরের মতে, তাঁর যুগ ছিল সিকান্দার গ্রিক মকদুনি থেকে দুই হাজার বছর আগে ইবরাহিম (আ.)-এর আমল। তাঁর উজির ছিলেন খিজির (আ.)। ইবনে কাসির তাঁর ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে লিখেছেন, জুলকারনাইন পদব্রজে হজের উদ্দেশ্যে আগমন করলে ইবরাহিম (আ.) মক্কা থেকে বের হয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান, তাঁর জন্য দোয়া করেন এবং কিছু উপদেশও দেন।

আবু রায়হান আলবেরুনি তাঁর ‘কিতাবুল আসরিল বাকিয়া আনিল কুরুনিল খালিয়া’ গ্রন্থে বলেন, কোরআনে বর্ণিত জুলকারনাইন হচ্ছেন আবু বকর ইবনে সুমাই ইবনে ওমর ইবনে আফরিকায়স হিময়ারি। তিনি দিগ্বিজয়ী ছিলেন। তাফসিরবিদ আবু হাইয়ান তাঁর তাফসিরে বাহরে মুহিতে এ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

মাওলানা হিফজুর রহমান তাঁর ‘কিসাসুল কোরআন’ গ্রন্থে জুলকারনাইন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁর আলোচনার সারমর্ম এই যে কোরআনে বর্ণিত জুলকারনাইন হচ্ছেন পারস্যের সেই সম্রাট, যাঁকে ইহুদিরা খোরাস, গ্রিকরা সায়রাস, পারসিকরা খসরু এবং আরবরা কায়খসরু নামে অভিহিত করে। তিনি বনি ইসরাঈলের অন্যতম নবী দানিয়াল (আ.)-এর যুগের। এই যুগ বাদশাহ দারার হত্যাকারী সিকান্দার মকদুনির আমলের কাছাকাছি হয়ে যায়। কিন্তু মাওলানা সাহেবও ইবনে কাসির প্রমুখের মতো কঠোর ভাষায় বিরোধিতা করে বলেছেন যে জুলকারনাইন সিকান্দার মকদুনি হতে পারেন না, যাঁর উজির ছিলেন দার্শনিক অ্যারিস্টটল। কারণ তিনি ছিলেন মুশরিক এবং জুলকারনাইন ছিলেন মুমিন ও সৎকর্মপরায়ণ।

মাওলানা সাহেবের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ এই যে সুরা বনি ইসরাঈলে ইসরাঈলিদের দুইবার হামলায় লিপ্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাঙ্গামা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের হাঙ্গামার শাস্তিস্বরূপ আমি তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কিছুসংখ্যক কঠোর যোদ্ধা বান্দাকে প্রেরণ করব। তারা তোমাদের ঘরে ঘরে অনুপ্রবেশ করবে।’ এখানে কঠোর যোদ্ধা বলে বখতে নসর ও তাঁর দলবলকে বোঝানো হয়েছে। তাঁরা বায়তুল মোকাদ্দাসে ৪০ হাজার ও কোনো কোনো বর্ণনা মতে ৭০ হাজার ইহুদিকে হত্যা করে এবং লক্ষাধিক বনি ইসরাঈলকে বন্দি করে হাঁকিয়ে বাবেল শহরে নিয়ে যায়। এরপর কোরআনের ঘোষণা হলো, ‘আমি পুনরায় তোমাদের তাদের বিরুদ্ধে জয়ী করলাম।’ বিজয়ের এই ঘটনা সম্রাট কায়খসরু তথা খোরাসের হাতে সংঘটিত হয়। তিনি ছিলেন ঈমানদার ও সৎকর্মপরায়ণ। তিনি বখতে নসরের মোকাবেলা করে বন্দি বনি ইসরাঈলদের মুক্ত করে আবার ফিলিস্তিনে পুনর্বাসিত করেন এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত বায়তুল মোকাদ্দাসকেও পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। বায়তুল মোকাদ্দাসের যেসব গুপ্তধন ও গুরুত্বপূর্ণ সাজসরঞ্জাম বখতে নসর এখান থেকে বাবেল শহরে স্থানান্তর করেছিলেন, সেগুলোও উদ্ধার করে বনি ইসরাঈলের অধিকারে সমর্পণ করেন। এভাবে তিনি বনি ইসরাঈলের তথা ইহুদিদের ত্রাণকর্তারূপে পরিগণিত হন।

মহানবী (সা.)-এর নবী হওয়ার বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য মদিনার ইহুদিরা কোরাইশদের জন্য যে প্রশ্নপত্র বাছাই করে, তাতে জুলকারনাইন সম্পর্কিত প্রশ্নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে ইহুদিরা তাঁকে তাদের ত্রাণকর্তারূপে সম্মান ও ভক্তি-শ্রদ্ধা করত। তাই আধুনিক তাফসিরবিদদের অনেকে এই বর্ণনার প্রতি ঝুঁকেছেন।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা