kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয়

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ব্যাখ্যা ছাড়া সর্বসাধারণের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয়

৪৪. (আমি আগের নবীদের) প্রেরণ করেছিলাম স্পষ্ট প্রমাণাদি ও গ্রন্থাবলিসহ। আর আমি তোমার ওপর কোরআন অবতীর্ণ করেছি, যাতে তুমি মানুষকে বুঝিয়ে দিতে পারো, যা তাদের ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে। এবং যাতে তারা চিন্তা করে। (সুরা : নাহল, আয়াত : ৪৪)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মহান আল্লাহ যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁরা সবাই মানুষ ছিলেন। আলোচ্য আয়াতের প্রথম অংশে বলা হয়েছে, সেসব নবী আল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছেন। তাঁদের অনেকে আসমানি কিতাবপ্রাপ্ত হয়েছেন। আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, নবী ও আসমানি কিতাব পাঠানোর ধারাবাহিকতায় মহান আল্লাহ শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রেরণ করেছেন। তাঁর ওপর কোরআন অবতীর্ণ করেছেন। কোরআনের সঙ্গে কোরআনের নবীকে পাঠানো হয়েছে, যাতে মহানবী (সা.) কোরআনের যথাযথ ব্যাখ্যা করে দিতে পারেন। পাশাপাশি এই কোরআন চিন্তাশীলদের চিন্তার খোরাক জোগায়।

এ আয়াত থেকে কয়েকটি বিষয় জানা যায়। প্রথমত, প্রত্যেক নবীই অলৌকিক নিদর্শন নিয়ে এসেছেন। বহু নবী আল্লাহর পক্ষ থেকে আসমানি কিতাবসহ প্রেরিত হয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, কোরআনের একটি নাম হলো ‘জিকর’। এ আয়াতে কোরআন বোঝানোর জন্য ‘জিকর’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এ আয়াত ছাড়া আরো একাধিক আয়াতে কোরআন বোঝাতে ‘জিকর’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অন্য আয়াতে এসেছে, ‘আমিই জিকর বা কোরআন অবতীর্ণ করেছি। আর আমিই এর সংরক্ষক।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৯)

তৃতীয়ত, যারা বলে যে শরিয়তের দলিল হিসেবে কোরআনই যথেষ্ট, হাদিসের প্রয়োজন নেই, কিংবা হাদিস সুরক্ষিত নয়, এ আয়াত তাদের বিরুদ্ধে অন্যতম দলিল। কেননা যদি কোরআন থেকে ইসলামী শরিয়ত সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান আহরণ সবার পক্ষে সম্ভব হতো, তাহলে কোরআনের ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতো না। অথচ এ আয়াতে বলা হয়েছে, কোরআন পাঠানোর পাশাপাশি নবী পাঠানো হয়েছে, যাতে তিনি কোরআনের ব্যাখ্যা করে দিতে পারেন। নবীর অবর্তমানে এ দায়িত্ব নবীর উত্তরাধিকারী প্রজ্ঞাবান আলেমদের।

সুতরাং এ আয়াত থেকে জানা যায়, ব্যাখ্যা ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে কোরআন বোঝা সম্ভব নয়। এমনকি ভাষাগত জ্ঞান থাকলেও তা সম্ভব নয়। কেননা মক্কার লোকেরাও আরবি ভাষা বুঝত। কিন্তু তাদের কাছে কোরআন ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য আয়াতে এসেছে, ‘আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের কাছে রাসুল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদের পরিশোধন করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা এর আগে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে ছিল।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৬৪)

এ আয়াতে মহানবী (সা.)-এর প্রধান চারটি দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। এক. তিনি কোরআন তেলাওয়াত করে শোনাবেন। দুই. তিনি উম্মতের আত্মশোধন করেন। তিন. তিনি কিতাব তথা কোরআনের ব্যাখ্যা দেবেন। চার. তিনি হিকমত শিক্ষা দেন। এ আয়াত থেকেও জানা যায়, সর্বসাধারণের জন্য ব্যাখ্যা ছাড়া কোরআন বোঝা সম্ভব নয়, যদিও তারা আরবি ভাষাগত জ্ঞান লাভ করে থাকে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত পড়াশোনায় কোরআনের মর্মপোলব্ধি সর্বসাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কথা আরবি ভাষাভাষী বা অনারবি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 



মন্তব্য

Imran commented 30 days ago
এভাবেঈ আপ্নারা মানুষ্কে ধিরে ধিরে কোরান থেকে বিমুখ করেন। আল্লাহ নিজেই বলেছেন আমি কোরানকে সহজ করেছি যাতে মানুষ সহজে বুঝতে পারে। আর অবশ্যই যেসব বিষয় বোঝার ঘাটতি থাকে সেগুলো ভাল আলেমের কাছ থেকে বুঝে নিতে হবে। সুতরাং বেশি করে কোরান ও হাদিস পরি। আর সে অনুজায়ী আমল করি।
Hossain commented 30 days ago
ব্যাখ্যা ছাড়া কোরান বোঝা সম্ভব নয় এ বক্তব্য পবিত্র কোরান বিরোধি,কারণ কোরান বলছে আল্লাহতালা কোরান বোঝা মানুষের জন্য সহজ করে দিয়েছেন ।পবিত্র কোরানের অপব্যাখ্যা করে যারা সুবিধা করতে পারছেন না তারা এসব কথা ব্লতে পারেন।
khan commented 21 days ago
তাওহীদ ও শরীয়াতের বিষয়গুলো না বুঝার কিছুই নেই ,এখন আলিফ লাম র ,কিবাং হা মীমের অর্থ জানতে চাই তবে সেটা গ্নান বৃদ্ধির অংশ মাত্র ,এটা না জানার জন্য মানুষ জিগ্গাসীত হবে না,কিন্ত ফরজ এবং হারাম বিষয় গুলো নিয়ে জিগ্গাসীত হবে ,যেমন নামাজ,রোজা ,পর্দা পালন,খুন ,ধর্ষণ ও শিরক এমন সব থেকে বিরত থাকা ,কোরআনে যে সব ফরজ উল্লেখ আছে তাহা পালন ও হারামের থেকে বিরত থাকলে ধর্ম পালনে যথেষ্ট বলে গন্য ,তবে বেশি জানা ও বেশি আমল তো অধীক পরহেযগারী আর হাদিস তো কোরআনের প্যা্টিক্যাল অনুশীলন যার শিক্ষা রাসুলের মাধ্যমে এসেছে ,নামাজ কিভাবে পড়তে হবে,রোজা কিভাবে করতে হবে ইত্যাদি ।কোরআন জানাটা হলো থিওরি্ক্যাল গ্নান আর সেই গ্নানের চর্চা বা প্যাট্টিক্যাল হলো সুন্না আর সুন্না জানার জন্য হাদিস জানতে হবে । হ্যাঁ জাল হাদিস আছে ,যেমন আছে নকল সোনা । নকল সোনা যাচায়ের জন্য মানুষ যায় কর্মকারের কাছে ,কর্মকারের কাছে আছে কষ্ঠিপাথর ঘষা দিলেই কর্মকার বুঝতে পারে নকল সোনা ,তেমনি হক্কানী আলেমদের চর্চায় আছে কোরআন আর জাল হাদিস কোরআনের আলোকে পরখ করলে কষ্ঠি পাথরের মতো নকল সোনার মতো জাল হাদিস ধরা পরে যায় ।
Jalal commented 18 days ago
If you stop using Maulana as your title (in Qur'an and Hadith this is used to address Allah in Dua and this should be avoided for addressing others), you would think twice to write such a trash. Refer to Qur'an Sura Al-Kahf:54 ("আর আমরা আলবৎ এই কুরআনে লোকেদের জন্য সব রকমের দৃষ্টান্ত বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর মানুষ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিতর্কপ্রিয়।") and also Surah Ale-Imran:7 ("তিনি সেইজন যিনি তোমার কাছে নাযিল করেছেন এই কিতাব, তার মধ্যে কতকগুলো আয়াত নির্দেশা‌ত্মক -- সেইসব হচ্ছে গ্রন্থের ভিত্তি, আর অপরগুলো রূপক। তবে তাদের বেলা যাদের অন্তরে আছে কুটিলতা তারা অনুসরণ করে এর মধ্যের যেগুলো রূপক, বিরোধ সৃষ্টির কামনায় এবং এর ব্যাখ্যা দেবার প্রচেষ্টায়। আর এর ব্যাখ্যা আর কেউ জানে না আল্লাহ্ ছাড়া। আর যারা জ্ঞানে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত তারা বলে -- ''আমরা এতে বিশ্বাস করি, এ-সবই আমাদের প্রভুর কাছ থেকে।’’ আর কেউ মনোযোগ দেয় না কেবল জ্ঞানবান ছাড়া।")
Jalal commented 18 days ago
If you stop using Maulana as your title (in Qur'an and Hadith this is used to address Allah in Dua and this should be avoided for addressing others), you would think twice to write such a trash. Refer to Qur'an Sura Al-Kahf:54 ("আর আমরা আলবৎ এই কুরআনে লোকেদের জন্য সব রকমের দৃষ্টান্ত বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর মানুষ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিতর্কপ্রিয়।") and also Surah Ale-Imran:7 ("তিনি সেইজন যিনি তোমার কাছে নাযিল করেছেন এই কিতাব, তার মধ্যে কতকগুলো আয়াত নির্দেশা‌ত্মক -- সেইসব হচ্ছে গ্রন্থের ভিত্তি, আর অপরগুলো রূপক। তবে তাদের বেলা যাদের অন্তরে আছে কুটিলতা তারা অনুসরণ করে এর মধ্যের যেগুলো রূপক, বিরোধ সৃষ্টির কামনায় এবং এর ব্যাখ্যা দেবার প্রচেষ্টায়। আর এর ব্যাখ্যা আর কেউ জানে না আল্লাহ্ ছাড়া। আর যারা জ্ঞানে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত তারা বলে -- ''আমরা এতে বিশ্বাস করি, এ-সবই আমাদের প্রভুর কাছ থেকে।’’ আর কেউ মনোযোগ দেয় না কেবল জ্ঞানবান ছাড়া।")