kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ব্যক্তিত্ব

২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যক্তিত্ব

মির্জা আসাদুল্লাহ খান গালিব

উর্দু ও ফারসি ভাষার অন্যতম কবি মির্জা আসাদুল্লাহ খান গালিব ১৭৭৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর তত্কালীন মোগলশাসিত আগ্রায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর রচিত গজলের আবেদন উপমহাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজনীনতা লাভ করেছে।

গালিবের দাদা কাকান বেগ খান সামরিক উচ্চাভিলাষী ব্যক্তি হিসেবে সমরকন্দ থেকে ভারতে আসেন। বিভিন্ন সময় তিনি পাঞ্জাবের গভর্নর, মোগল সম্রাট শাহ আলম ও জয়পুরের মহারাজার অধীনে সামরিক দায়িত্ব পালন করেন। গালিবের বাবা আবদুল্লাহ বেগ খানও তাঁর বাবার মতো সৈনিকের পেশা গ্রহণ করেছিলেন। গালিবের বয়স যখন চার, তখন তাঁর বাবা মারা যান। চাচা নসরুল্লাহ বেগ গালিবের দায়িত্ব নেন। মাদ্রাসায় গালিব যুক্তিবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা ও চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করেন। কিন্তু তাঁর ঝোঁক ছিল ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি। ৯ বছর বয়সেই গালিব ফারসিতে কবিতা লিখতেন। বিখ্যাত ও মেজাজি কবি মীর তকি ‘মীর’ গালিবের মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিলেন। ১৮১০ সালে গালিব ওমরাও বেগমকে বিয়ে করেন। এর কিছুদিন পর তিনি দিল্লিতে চলে আসেন। এ সময় ‘মারুফ’ ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন। তাঁর প্রথম দিকের কবিতা ফারসিঘেঁষা ছিল। ফারসি কবি আসইর ও বেদিল গালিবের কবিতায় কিছুটা প্রভাব বিস্তার করেছিল। কিন্তু গালিব কোনো ওস্তাদ ধরেননি। গালিবের কবিতা অপূর্ব ছন্দময় ও দার্শনিক। খুব কম লোকই তাঁর কবিতার মূল্যায়ন করতে সক্ষম। গালিব সুরা পান বা জুয়া খেলতে পছন্দ করলেও কখনো নিজের কোনো বিচ্যুতি অস্বীকার করতেন না। এর জন্য কারাবাসও করতে হয় তাঁকে। কোনো জীবিকা গ্রহণ না করায় প্রায়ই আর্থিক অনটনে ভুগত তাঁর পরিবার। ১৮৫৪ সালে গালিব বাহাদুর শাহ জাফরের ওস্তাদ হিসেবে মর‌্যাদা লাভ করেন। এ সময় আর্থিক সচ্ছলতা কিছুটা ফিরে এলেও তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছিল। মোগল বাদশাহদের সময় তিনি যে ভাতা পেতেন, ব্রিটিশরা এসে তা বাতিল করে দেয়। এ সময় মানবেতর জীবনের সম্মুখীন হন তিনি। ১৮৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মির্জা গালিব ইন্তেকাল করেন। দিল্লির নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজারের কাছে পারিবারিক গোরস্তানে তাঁর সমাধি রয়েছে।



সাতদিনের সেরা