kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘সবাই সমান সুযোগ চায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘সবাই সমান সুযোগ চায়’

প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যসচিব মো. ফিরোজ খান বলেছেন, ‘সরকারি চাকরি করে এমন সবাই তাঁর পদাধিকার বলে সরকারের কাছ থেকে সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখেন। এর ব্যত্যয় হলে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মনে করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘কেউ প্রশাসন ক্যাডারের বলে সরকারের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা পাবেন, আর অন্যরা তা থেকে বঞ্চিত হবেন—এটা কোনো সরকারের নীতি হতে পারে না। আর এ জন্যই আমরা সরকারের কাছে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ন্যায্য দাবি পূরণের আহ্বান জানিয়ে আসছি। আশা করছি, সরকার নিশ্চয় আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে দাবি পূরণে এগিয়ে আসবে।’

শুক্রবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর‌্যালোচনাভিত্তিক টক শো ‘পূর্বাপর’-এ আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, অনেক দিন হলো সরকার নতুর পে স্কেল ঘোষণা করেছে। এ নিয়ে আপনারা আবার আন্দোলনও করছেন। আপনাদের আসলে কোন দিকটায় বেশি সমস্যা হচ্ছে? সমস্যাগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা যায় না? সরকারের তো আপনাদের দাবির প্রতি অবশ্যই আন্তরিক হওয়ার কথা। কারণ আপনারা তো সরকারের কর্মচারী। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

এ পর‌্যায়ে ফিরোজ খান বলেন, ‘সরকার বর্তমানে যে পে স্কেল ঘোষণা করেছে তার জন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ এত বছর পর সরকার একটি ভালো পে স্কেল ঘোষণা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘সমস্যা হলো যখন একই পদে চাকরি করে সরকারের একজন কর্মকর্তা সরকারি সুযোগ-সুবিধা বেশি পাবেন আবার অন্যরা যখন পাবেন না।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি কয়েকটি ক্যাডারের কর্মকর্তা বাদে অন্যরা সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছে। কারণ তাদের ক্ষেত্রে যে কারণে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করা হয়েছে তা কিন্তু আমাদের কাছে যৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘উপসচিব থেকে সিনিয়র সচিব পদের মতো সব ক্যাডার ও সার্ভিসে সুপারনিউমারি পদ সৃজন করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় কমিটির নেতাদের সাক্ষাত্কালে এ বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু অদ্যাবধি সুপারনিউমারি পদ সৃজনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তাই সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহাল ও সব ক্যাডার ও সার্ভিসে সুপারনিউমারি পদ সৃজনে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ তিনি বলেন, এ ছাড়া সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহাল, সরকারি প্রথম শ্রেণির চাকরিতে যোগদানের ক্ষেত্রে ক্যাডার-ননক্যাডার বৈষম্যের সিদ্ধান্ত বাতিল, ইউএনওকে কর্তৃত্ব প্রদানমূলক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিস স্মারক বাতিল, আন্তক্যাডার বৈষম্য নিরসন ও সব ক্যাডার ও সার্ভিসে পদোন্নতির সমান সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সুপারনিউমারি পদ সৃজন, নিজস্ব ক্যাডার ও ফাংশনাল সার্ভিস-বহির্ভূত সব ধরনের প্রেষণ বাতিল ও কৃত্য পেশাভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে সরকারের কাছে। এই দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। সরকার চাইলে যেকোনো সময় আমাদের সঙ্গে বসে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে পারে।’

সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, সরকার এখন যে পে স্কেল বাস্তবায়ন করছে, তার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমি একসময় সরকারের সচিব হিসেবে কর্মরত থাকলেও এখন কিন্তু সাধারণ মানুষ। সে হিসেবে বলতে চাই, সরকারের এই পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হলে কমপক্ষে ৫৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। বেতনের জন্য ২৩ হাজার কোটি টাকা বাড়তি লাগবে। এখনকার পে স্কেলের জন্য সরকারি চাকুরেরা আগের চেয়ে প্রায় ডবল বেতন পাচ্ছেন। এখন আমাদের অন্য ভাইয়েরা যে দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছেন তার কিন্তু একটা বিকল্প পে কমিশনে রাখা হয়েছে। হয়তো সেটা তাদের ভালো নাও লাগতে পারে; কিন্তু এ জন্য তো সরকারকে দোষ দিলে হবে না। আলোচনা সাপেক্ষে আগেও কিন্তু অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। আগামীতেও সে সুযোগ থাকছে। আলোচনা করেই সব সমস্যার সমাধান করতে হবে।’



সাতদিনের সেরা