kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

সাবধানে চলতে হবে সাকিবকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জুলাই, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাবধানে চলতে হবে সাকিবকে

'সাকিব আল হাসানের শাস্তিটা মনে হয় বেশি হয়ে গেছে। তাঁকে এত বড় শাস্তি না দিয়ে অন্য কোনোভাবে শাস্তিটা দেওয়া যেত। কারণ তিনি তো দেশে ফিরে অনেকটা ক্ষমা চাওয়ার মতো করে বক্তব্য দিয়েছেন। আর সাকিবের মতো একজন বিশ্বখ্যাত অলরাউন্ডারের এ রকম শাস্তির ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেটই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তার স্থলে একটি শূন্যতা সৃষ্টি হবে'। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ সোমবার এক টিভি টক শোতে এ কথা বলেন।

একই অনুষ্ঠানে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, 'সাকিবের আচরণগত কিছু সমস্যা তো আছেই। তাঁকে সামনে আরো সাবধান হয়ে চলতে হবে।' বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো 'নিউজ অ্যান্ড ভিউজ' অনুষ্ঠানে দুজন আলোচনা করছিলেন। হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে শওকত মাহমুদ আরো বলেন, এ শাস্তির ফলে সাকিবের জীবনে একটি বড় ধরনের আঁচড় পড়ল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে রাজনীতি থাকতে পারে, এ সন্দেহ ব্যক্ত করে তিনি বলেন- এই বোর্ডের বিরুদ্ধে এর আগেও খেলোয়াড় বাছাইয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল। তা ছাড়া আগে থেকেই বিসিবি সভাপতির কথাবার্তায় সাকিবের শাস্তির ব্যাপারে আগাম অনুমান করা হচ্ছিল। দুই দিনের মাথায় সেই সন্দেহ বাস্তবে রূপ নিল।

বিসিবি আগেই সাকিবের শাস্তি নির্ধারণ করে রেখেছিল কি না সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, এটা অনেকটা সন্দেহের কারণ হতে পারে। কারণ বিসিবি সভাপতি আগে থেকেই সাকিবের শাস্তির একটি ইংগিত দিয়েছিলেন। বিশেষ করে যখন সাকিব বিসিবির লিখিত অনুমতি ছাড়া লন্ডন গেলেন, সেই সময় বিসিবি সভাপতি এ বিষয়ে বলেছিলেন, সাকিব শাস্তি পেতে পারেন। আরাফাত আরো বলেন, 'সাকিব আমার ব্যক্তিগত পরিচিত। তাঁর শাস্তির খবরে আমিও ব্যথিত হয়েছি। তবে শাস্তিটা কতটা ভালো কি মন্দ হয়েছে বা কতটা বেশি হয়েছে, এটা আমি বলতে পারব না। কারণ এ বিষয়ে আমার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। সাকিব আল হাসান একজন বিশ্বসেরা ক্রিকেটার। তাঁর আচরণগত কিছু সমস্যা আছে। এটা নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া অনেক লেখালেখি করেছে। কিছুদিন আগে আমি একটি অনুষ্ঠানে কয়েকজন ক্রীড়া সাংবাদিকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তাঁরা যা বললেন, তাতে মনে হয়ছে তাঁরাও চাচ্ছিলেন সাকিবের শাস্তি হোক। তবে আমার মনে হয় এ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। বিসিবি যা ভালো মনে করেছে তাই করেছে। তবে সাকিবকে ভবিষ্যতে আরো সতর্ক হয়ে এগোতে হবে।'

সঞ্চালক অনুষ্ঠানে আরো জানতে চান, বিএনপি চেয়ারপারসন ইদানীং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলছেন, বিএনপি ঈদের পর কঠোর আন্দোলনে যাবে, এ দেশে গণতন্ত্র নেই, সরকারও বৈধ নয়। সব মিলিয়ে কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে শওকত মাহমুদ বলেন, এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না যে এ সরকার অনেকটা জোর করেই ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনে গিয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলনের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতীতে বিএনপি কেন পারেনি সেটা না দেখে এখন বিএনপিকে সামনে এগোতে হবে। তিনি বলেন, অনেকে বলেন, বিএনপি আন্দোলন করতে পারেনি বা সামনেও পারবে না। আমার কথা হলো, যখন দেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলে তখন তো আর সাধারণ নাগরিকদের কোনো কিছু করার থাকে না।

আলোচনার এ পর্যায়ে মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, বিএনপি ঈদের পর আন্দোলন করুক। কিন্তু বাসে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করার মতো সহিংস আন্দোলন করলে এ দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, আন্দোলনে সহিংসতা প্রসঙ্গে বিএনপি ও জামায়াত শাহবাগে দোতলা বাসে গানপাউডার মারার ঘটনা টেনে নিয়ে আসে। ওই একটি ঘটনা দিয়ে আওয়ামী লীগকে তারা জড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিএনপির অব্যাহত আন্দোলনে গত ৫ জানুয়ারির আগে সারা দেশে কত মানুষ মারা গেছে তা কিন্তু তারা আলোচনায় আনতে চায় না। তিনি আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ ভাইদের ওপরও আক্রমণ চালিয়েছে, পুলিশ হত্যা করেছে। তাহলে তাদের আন্দোলনকে কি সহিংস বলা যাবে না?

আলোচনার এ পর্যায়ে সাংবাদিক শওকত মাহমুদ বলেন, আপনি শুধু বিএনপির সহিংসতাটাকে বড় করে দেখছেন। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর কম্বিং অপারেশনের নামে সাতক্ষীরায় সাধারণ মানুষের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করেছে- তা দেখলেন না। শওকত মাহমুদ একপর্যায়ে বলেন, 'ভায়োলেন্স ছাড়া কোনো আন্দোলন হয় না'।

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা