kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

ফিলিস্তিন সমস্যার নতুন মোড়

মুহাম্মদ রুহুল আমীন   

৯ জুলাই, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



ফিলিস্তিন সমস্যার নতুন মোড়

অবশেষে ইসরায়েলের হারিয়ে যাওয়া তিন কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১২ জুন পশ্চিম তীর থেকে ইসরায়েলের কিশোরত্রয় হারিয়ে গেলে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র হামাস যোদ্ধাদের দায়ী করে ইসরায়েলের সেনারা হামাসকে সমূলে ধ্বংস করতে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গায় উপর্যুপরি হামলা চালাতে থাকে। ইসরায়েলের দুর্ধর্ষ হামলায় এ পর্যন্ত পাঁচ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত ফিলিস্তিনি আহত হচ্ছে। ইসরায়েলি সেনারা হামাসকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে বহুমুখী হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনের জনপদে নজিরবিহীন সন্ত্রাস ও তাণ্ডব চালাচ্ছে। মূলত গত ২২ এপ্রিল ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে সম্পাদিত ঐক্য চুক্তি অনুসারে ফিলিস্তিনে ঐকমত্যের সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনের প্রতি ইসরায়েল প্রচণ্ড বৈরীভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে। অনেক বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পরিচালিত শান্তিপ্রক্রিয়াও এখন অকার্যকর হয়ে যাবে। তবে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয় রাষ্ট্রের মূল দাবিগুলো বিবেচনা করে ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিলে হয়তো ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিন সমস্যাটি যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের স্নায়ুযুদ্ধের শিকার হয়। প্রথম দিকে ফিলিস্তিনকে কেন্দ্র করে আরব রাষ্ট্রগুলো একতাবদ্ধ হলেও স্নায়ুযুদ্ধের বাস্তবতায় অচিরেই সে ঐক্য বিনষ্ট হয় এবং আরবরা পুঁজিবাদী ও সমাজবাদী দুটি ধারায় বিভক্ত হয়। এর একটি অংশ ফিলিস্তিনের পক্ষে সবল অবস্থান নিলেও অন্য পক্ষের সরব-নীরব সমর্থনে নবপ্রতিষ্ঠিত ইসরায়েল রাষ্ট্রটি দিন দিন শক্তি লাভ করতে থাকে। ইতিমধ্যে আরবদের সঙ্গে ইসরায়েলের বেশ কয়েকবার যুদ্ধও সংঘটিত হয়। দুর্ভাগ্যবশত যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বলে ইসরায়েলের মতো একটি বন্ধুবান্ধবহীন ইহুদি রাষ্ট্র আরবজাহানে টিকে থাকতে সক্ষম হয়। ইসরায়েল-আরব যুদ্ধগুলোর মধ্যে যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিকতা নিয়ে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধটি পরিগণিত হয়ে আসছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের অবশিষ্ট ভূমির আরো অনেকাংশ দখল করে পৃথিবীব্যাপী নিন্দা ও ঘৃণার শিকার হয়। এরপর থেকে ইসরায়েলের লাগাম আর ধরে রাখা যায়নি। অদ্যাবধি একের পর এক ফিলিস্তিনিদের বাস্তুভিটা দখল করে রামাল্লার পশ্চিম তীর ও গাজার মরু-চিকন ভূখণ্ডে বিতাড়িত করেও ইসরায়েল অধুনা ফিলিস্তিনের অবশিষ্ট ভূখণ্ডটুকুও দখল করার পাঁয়তারা করছে। একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় এ দশকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের মধ্যকার শান্তিপ্রক্রিয়ার প্রকৃতি ও সম্ভাবনা অনুধাবনের জন্য ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের অগ্রাধিকারগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। ফিলিস্তিনের জন্য এখন মূল বিবেচ্য বিষয়গুলো হলো, ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান গৃহনির্মাণ ও আবাস সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ার সংকোচন ও বিয়োজন, ইসরায়েল কর্তৃক আটককৃত ফিলিস্তিনিদের মুক্তি, ফিলিস্তিনি জনগণের একতা ও সংহতির প্রতি ইসরায়েলের সম্মান প্রদর্শন, জাতিসংঘের নিষ্কণ্টক সদস্যপদ লাভ ও স্বাধীন-সার্বভৌম ফিলিস্তিনের প্রতি ইসরায়েলের ইতিবাচক মনোভাব, আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোতে ফিলিস্তিনের অংশগ্রহণের প্রতি ইসরায়েলের সমর্থন এবং সর্বোপরি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের নবতর যাত্রায় ইসরায়েলের ইতিবাচক সাড়া। একটু সূক্ষ্মভাবে দেখলে বুঝতে কোনো অসুবিধা হবে না যে ফিলিস্তিনিরা অনেক ছাড় দিয়ে কেবল বেঁচে থাকার তাগিদে 'দুই রাষ্ট্র প্রস্তাবনা' (two state hypothesis) মেনে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের বর্তমান অগ্রাধিকারগুলো বেশ ভয়ংকর এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ। ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয় হলো, ফিলিস্তিনি সমাজব্যবস্থায় বিভাজন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা। একটি ভঙ্গুর সমাজব্যবস্থা কোনো রকমে টিকিয়ে রেখে সেই সমাজের ওপর আধিপত্য ও দাসত্ব কায়েমের হীন ও স্বার্থান্ধ নীতি জীবিত রাখার কৌশলের মধ্যেই ইসরায়েলের এ অগ্রাধিকার দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সে কারণে সম্প্রতি ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে সম্পাদিত 'একতার সরকার' (government of unity) চুক্তির প্রতি ইসরায়েল নগ্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। আগেই উল্লেখ করেছি, ফিলিস্তিনি জনগণের ঐক্য চুক্তি সম্পাদনের পর ইসরায়েল এতই অস্থির হয়ে উঠেছে যে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক মধ্যস্থতাকৃত শান্তি আলোচনা সম্প্রতি ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গত ২৯ এপ্রিল ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের দিন হিসেবে ধার্য করলেও শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রত্যাখ্যানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত শান্তি-উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

ইসরায়েলের দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হলো ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে বিরতিহীনভাবে ইসরায়েলিদের জন্য বসতবাড়ি নির্মাণ করা। পশ্চিম তীর ও গাজার ক্ষুদ্র ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের কোণঠাসা করেও যেন ইসরায়েলের গৃহনির্মাণ পরিকল্পনা শেষ হচ্ছে না। গৃহনির্মাণের জন্য ইসরায়েলের রয়েছে বিশেষ মন্ত্রণালয়, যেটি বিরামহীন গৃহনির্মাণ প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলি বিশ্লেষণ করলে মনে হতে পারে, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান অত্যন্ত কৌশলে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের সমূলে উচ্ছেদ করে তাদের জাতিগতভাবে নিধন (ethnic cleansing) করতে চায়। অথবা ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠিত ঘরবাড়ি ফিলিস্তিনের সর্বত্র সম্প্রসারিত করে ফিলিস্তিনিদের একটি ইসরায়েলি রাষ্ট্রে নিছক সংখ্যালঘু হিসেবে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখতে চায়। অর্থাৎ 'এক রাষ্ট্র সমাধান' (one state solution) হয়তো ইসরায়েলের স্বীকৃত বিকল্প।

ইসরায়েলের তৃতীয় অগ্রাধিকার হলো, অন্যায়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েল রাষ্ট্রটির রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে ইহুদিদের স্বীকার করতে ফিলিস্তিনকে বাধ্য করা। এত দিন ইসরায়েলকে একটি ইহুদি ধর্মীয় রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করার জন্য ইসরায়েল ফিলিস্তিনের ওপর অব্যাহত চাপ বজায় রেখেছে। তবে গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইনডিপেনডেনস হলে বক্তৃতাকালে ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করার ঘোষণা দেন। দেশটির নীতিনির্ধারকরাও সিনেটে নেতানিয়াহুর এ ঘোষণা প্রস্তাব আকারে গ্রহণ করেন এবং সেই প্রস্তাব পাস করে ইসরায়েল রাষ্ট্রটির সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরির প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্মরণ করা যেতে পারে, ইসরায়েলের কোনো সংবিধান নেই। একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে ইহুদি ধর্মীয় মৌলবাদের ভিত্তিতে ইসরায়েল তার রাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করতে পারবে।

ইসরায়েলের আরেকটি নীতি হলো, ফিলিস্তিনিদের সর্বাবস্থায় নির্যাতিত রাখা। ১৯৪৮ সালে ইনডিপেনডেনস হলের সমাবেশ থেকে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েল সৃষ্টি করা হয় এবং ২০১৪ সালের মে মাসে সেই একই হলে ইহুদিবাদের ওপর ভিত্তি করে ওই রাষ্ট্রটির সাংবিধানিক গ্যারান্টির বৈধতা অর্জনের প্রচেষ্টা চালানো হয়। এসব তৎপরতায় জোর করে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি আদায় করা ইসরায়েলের মৌলিক অগ্রাধিকারের অন্যতম।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবর্তিত শান্তি উদ্যোগ ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে পাস কাটাতে চাচ্ছে। গত ২৮ এপ্রিল মার্কিন টিভি প্রোগ্রাম 'ফেস দ্য নেশন'-এ নেতানিয়াহু হামাস-ফাতাহর মধ্যে সম্পাদিত ঐক্য চুক্তির প্রতি বিষোদ্গার করে বলেন, 'প্রেসিডেন্ট আব্বাসকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি হামাসের সঙ্গে চুক্তি চান, নাকি ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চান।' তাঁর জবাবে মাহমুদ আব্বাসও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, 'ইসরায়েল স্বীকৃত পিএলওর অধীনেই হামাসের সঙ্গে ঐক্য চুক্তি করা হয়েছে।' এ চুক্তির ফলে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা বন্ধ হওয়াকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন। এমনকি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির এক বক্তব্যে উদ্ধৃত করা হয় যে শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যানের কারণে ইসরায়েলকে জাতিবিদ্বেষী (apartheid) রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব নিন্দা-ধিক্কারের সম্মুখীন হতে হবে। মূলত হামাস-ফাতাহর ঐক্য চুক্তি ফিলিস্তিনের জনগণের দুই অংশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এতে ইসরায়েলের নাক গলানো অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ, যা আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। উপরন্তু ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনই ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের শান্তি চুক্তির স্থায়িত্বের জন্য অনিবার্য।

ইসরায়েলকে মনে রাখা দরকার, উপর্যুপরি জুলুম-নির্যাতন ফিলিস্তিনিদের ঐক্যের সূত্রে গ্রথিত করেছে, যা এ মুহূর্তে ভাঙার নয়। সম্ভবত এ জাতীয় ঐক্যের কারণে মাহমুদ আব্বাসের কণ্ঠও আগের তুলনায় বেশি দৃঢ় হয়েছে। তিনি ফিলিস্তিনের ৩০ জন বন্দির নিঃশর্ত আশু মুক্তি দাবি করেছেন। অধিকন্তু তিনি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের স্পষ্ট সীমানা অঙ্কন চান। টেবিলে তিনি ফিলিস্তিনের মানচিত্র উপস্থাপন করবেন বলে উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন। এই সঙ্গে সব ইহুদি বসতি স্থাপন বন্ধের জোর দাবি করেছেন। এসব শর্ত অনতিবিলম্বে মেনে নিয়ে ইসরায়েলকে শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনিরা ১৫টি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ফিলিস্তিনের সাহসী অস্তিত্ব ও সুদৃঢ় যাত্রার সূচনা করেছে।

এমতাবস্থায় ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয়ের সুখ-শান্তির জন্য তাদের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস নিয়েই শান্তি আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। একপর্যায়ে ইসরায়েলের প্রতি ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি অর্জিত হবে, এমন অবস্থায় ইসরায়েল এখন উপনীত হতে সফল হয়েছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরাও চাচ্ছে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে। এই একটি স্থানে উভয়ে কাকতালীয়ভাবে এক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘসহ বিশ্বের মোড়ল রাষ্ট্রগুলো যদি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ব্যাপারে আগ্রহী হয়, তাহলে অনতিবিলম্বে শান্তি আলোচনা শুরুর ব্যাপারে ইসরায়েলকে রাজি করানো সম্ভব। ফিলিস্তিনিরা দ্বিরাষ্ট্র সমাধান অনেকটা মেনে নিতে তৈরি হয়ে আছে। কিন্তু ইসরায়েল যদি একরাষ্ট্র সমাধানের অশুভ স্বপ্নে বিভোর হয়, তাহলে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান হয়তো আগামী দুই যুগেও সম্ভব হবে না। এত বছর পর হামাস-ফাতাহর ঐক্য যখন গঠিত হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের আর দুর্বল ভাবা ইসরায়েলের জন্য হবে চরম বোকামি। কেবল ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনই ইসরায়েলের স্থিতিশীলতার জন্য সুবিধাজনক, এ সত্যটি ইসরায়েল বিস্মৃত হলে অবৈধ এ রাষ্ট্রটি একসময় বেশ বেকায়দায় পড়বে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তি আলোচনার পুনঃপ্রতিষ্ঠা তখনই সম্ভব, যখন উভয়েই তাদের চাওয়া-পাওয়ার অগ্রাধিকারগুলোর যৌক্তিক অর্জন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে। অসন্তুষ্ট ইসরায়েল কিংবা শত্রুভাবাপন্ন ফিলিস্তিন কখনো আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে সক্ষম হবে না।

লেখক : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা